
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত '’ Conference on Capital Market of Bangladesh Prospects and Opportunities for Tech Startups and Growth Stage Companies' শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) বিশ্বের বাজারে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলতে হবে। এক সময় বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বিএসইসি। সেজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আইটিতে আরও দক্ষ করে তোলতে হবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেবে আইসিট বিভাগ।
জুনাইদ আহমেদ বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে ডিএসইর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনাও হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো অনেক ভালো করছে। এজন্য স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনিয়োগ দিয়ে সহযোগিতা করা দরকার। ইতোমধ্যে একটি স্টার্টআপ কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে। সামনে অন্য কোম্পানিগুলোও পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৫০০ স্টার্টআপ কোম্পানি তৈরি হয়েছে, যেখানে ১৫ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এ খাতে শিগগিরই ৭-১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
পলক বলেন, আইসিটি বিভাগ থেকে সাড়ে ৩০০ স্টার্টআপকে অফেরতযোগ্য ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে কিছু কিছু স্টার্টআপ কোম্পানি ৫ বছরেই শত মিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ সফল স্টার্টআপ কোম্পানি ১৫ লক্ষ তরুন-তরুনীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বিকাশ দেশের প্রথম ইউনিকর্ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিশ্ব বিখ্যাত নামকরা বড় বড় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। মাত্র গত ৫ বছরে আমাদের বাংলাদেশ স্টার্টআপে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। বাংলাদেশের প্রতি সারাবিশ্বের বিনিয়োগকারীদের একটা নজর রয়েছে। তারা মনে করছে বাংলাদেশ ইকোনমি গ্রো করছে, বাংলাদেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ তাদের জন্য লাভজনক হবে।
পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে স্টার্টআপ কোম্পানি গঠন করে দিয়েছেন। তার মধ্যে ১৫-২০ কোম্পানিতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা দেশের স্টার্টআপ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হবে।
সিড, গ্রোথ, গাইডেড, টার্গেড এই চার স্তরে স্টার্টআপকে বিন্যস্ত করে স্টার্টআপগুলোকে যথাযথ সহায়তা দেয়া গেলেই আগামীতে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো ডিজিটাল ইকোনোমির চালিকা শক্তিতে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো: ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলি রুবাইয়্যাতুল ইসলাম, বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস
উল্লেখ্য, গ্রোথ স্টেজের উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে স্টার্টআপ বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। ঢাকা স্টক একচেঞ্জ মিলনায়তনে এই চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তিতে সই করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিরক আমিন ভূইয়া ও স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।
বিনিয়োগবার্তা/কেএইচকে/এসএএম//