
দিনাজপুর প্রতিনিধি: সব ধরনের জটিলতা কাটিয়ে ভারত পুরনো এলসির গম রফতানি অব্যাহত রাখায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গমের আমদানি বেড়েছে। এতে করে দেশের বাজারে শস্যটির দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা করে কমেছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জুলাইয়ের শুরু থেকেই গম আমদানি অব্যাহত রয়েছে। মাসের শুরু থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২১ কর্মদিবসে ৪২৯টি ট্রাকে ১৭ হাজার ১৮২ টন গম আমদানি হয়েছে। এছাড়া চলতি আগস্টের চার কর্মদিবসে ৩৮টি ট্রাকে ১ হাজার ৪১৩ টন গম আমদানি হয়েছে। বন্দর দিয়ে গমের আমদানি বাড়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয়ও বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরে গম কিনতে আসা পাইকার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভারত গম রফতানি বন্ধ করে দিলে বন্দর দিয়ে গমের আমদানি কমে যায়। তখন সরবরাহ কমায় গমের দাম বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমদানি বাড়ায় আবারো দাম কমতে শুরু করেছে। আগে ৪০-৪১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে সাড়ে ৩৬-৩৭ টাকায় নেমেছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গমের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৩ মে থেকে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত সরকার। ফলে বন্দর দিয়ে ওইদিনই রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১২ মে পর্যন্ত হওয়া এলসির বিপরীতে গম রফতানির আশ্বাস দিয়ে আগের টেন্ডারকৃত গম রফতানির অনুমতি দেয়া হয়। ফলে আধাবেলা বন্ধ থাকার পর আবারো রফতানি শুরু করে ভারত। তবে পরবর্তী সময়ে সব ধরনের গম রফতানিই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২৩ মে আবারো পুরনো এলসির গম রফতানির অনুমতি দেয় ভারত। প্রক্রিয়া শেষে ২৯ মে থেকে বন্দর দিয়ে পুরনো এলসির গম আমদানি শুরু হয়। এর পর থেকে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষের (ডিজিএফটি) অনুমোদনসাপেক্ষে বন্দর দিয়ে অনিয়মিতভাবে কম পরিমাণে গম আমদানি হতে থাকে। তবে সম্প্রতি পুরনো এলসির বিপরীতে গম আমদানি বেড়েছে।
এছাড়া যেসব আমদানিকারকের রেলপথে ওয়াগনের মাধ্যমে গম আমদানির পুরনো এলসি করা ছিল সেসব এলসির বিপরীতে রেলপথের পরিবর্তে সড়কপথে গম আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। তবে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত নতুন করে গমের এলসি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়নি। নতুন করে গমের এলসি গ্রহণ শুরু করলে আমদানি আরো বাড়বে, সেই সঙ্গে গমের দাম আরো কমে আসবে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//