Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 27 Aug 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

মিহির কুমার রায়: চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। নীতিমালায় বলা হয়, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। করোনা মহামারী এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষির গুরুত্ব অধিকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য তথা দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে পল্লী অঞ্চলে কৃষিঋণ প্রবাহ বাড়ানো। এবার কৃষি ও পল্লীঋণের চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা এবং বেসরকারী ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মোট ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করেছে, যা অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, গত অর্থবছরে কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৮১১ জন। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশনের (এমএফআই) মাধ্যমে ১০ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫২ জন নারী। এছাড়া গত অর্থবছরে ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার ১৮২ কোটি টাকা এবং চর, হাওড় প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৪ হাজার ৭৩ জন কৃষক প্রায় ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন।

নীতিমালায় বলা হয়, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং কৃষকদের কাছে কৃষিঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচীতে বেশকিছু বিষয় সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় হাঁস পালনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, চিয়া বীজ, জিন ফল, সুগারবীট চাষের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, ভিয়েতনামী হাইব্রিড নারিকেল, কফি ও সুইটকর্ন চাষের ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, সামুদ্রিক শৈবাল চাষের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, মৎস্য খাতের আওতায় গলদা চিংড়ি চাষের ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, সহজে অধিক সংখ্যক কৃষককে কৃষিঋণ দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো দলবদ্ধভাবে কৃষিঋণ বিতরণের পদ্ধতি সংযোজন এবং একর প্রতি ফসল উৎপাদনের ঋণ নিয়মাচার বাড়ানো হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে অর্থনীতিতে খাত ওয়ারী এত বিনিয়োগ হওয়া সত্বেও এই ঋনের বিনিয়োগ এত কম কেন এবং জাতীয় বাজেটের আলোকে এই খাতের বরাদ্দ অগ্রাধিকার তালিকায় আসে না কেন? সম্প্রতিক এক তথ্য থেকে জানা যায় যে দেশের ৫৭টি ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার শাখার অর্ধেকেরই বেশি গ্রামাঞ্চলে যাদের কৃষকদের সহজশর্তে ঋন দিতে অনিহা রয়েছে। সরকারি এক হিসাবে দেখা যায় গ্রামে ঋন গ্রহনকারী কৃষক পরিবারের শতকরা ৭৫ ভাগই চড়া সুদে ২০ থেকে ৩০ শতকরা হারে ঋন নিয়েছে এনজিওদের কাছ থেকে। ব্যাংকগুলো কাগজে কলমে গ্রামীণ শাখা খূললেও প্রকৃত পক্ষে সেগুলো শহরের মত গ্রামীন মানুষের বানিজ্য, শিল্প ও ভোক্তাঋন বিতরন করছে। সরকারি এক হিসাবে বলা হয়েছে দেশে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে যাদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ঋন পেয়েছে মাত্রা ২৫ শতাংশ যা সংখ্যায় ৬৫ লাখ মাত্র যাদের মধ্যে ৫০ লাখ ঋন নিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এনজিও থেকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এর মতে দেশের ৪১ লাখ গ্রামের পরিবার ঋনের জন্য ব্যাংকে আবেদন করলেও সফল হতে পারেনি এবং এর কারন হিসাবে ব্যাংকের অনীহা ও প্রচারের অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এর পরও ঋন প্রক্রিযায় জটিলতা, পদ্ধতিতে ক্রুটি ও অলিখিত লেনদেন  খরচ ক্রমাগতভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষক আর এই কৃষ্টির সাথে নিজেদেরকে মেলাতে পারছে না অথচ কৃষকদের ঋন সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক যেমন বিকেবি ও রাকাব রয়েছে। তাছাড়াও অন্য ব্যাংকগুলোর জন্য মোট ঋনের কমপক্ষে ৫ শতাংশ কৃষি খাতে দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কৃষি সংশ্লিষ্ট শিল্পকে দেয়া ঋন কৃষি ঋন হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করে এ নিয়ম পরিচালনা হয়েছে বলে দেখায়। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ হার নির্ধারন করে দিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিন্তু ব্যাংকগুলো একে লাভজনক বলে মনে করে না বিধায় ব্যাংকগুলো এজেন্সি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনজিওদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ঋন কার্য্যক্রম পরিচালনা করায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর ব্যাংকগুলো লাভবান হয়।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে কৃষি ঋন অকৃষি খাতে ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে যেখানে প্রকৃত কৃষকেরা ঋনপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত যা তদারকীর মাধ্যমে বন্ধ করার দাবি উঠছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এনজিওগুলো থেকে যে কৃষি ঋন বিতরন হচ্ছে তার বেশির ভাগ কৃষি কাজে ব্যয়িত না হয়ে অন্য খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার বিবিএস এর তথ্য মতে মাত্র ১১ শতাংশ কৃষক তাদের ঋনের অর্থ কৃষি কাজে ব্যবহার করছে। আবার গৃহস্থলির অন্যান্য কাজে ঋনের অর্থ ব্যয় করছে প্রায় ৩৮ শতাংশ কৃষক পরিবার। এই তো গেল সনাতণী কায়দায় কৃষি ঋন নীতিমালা বাস্তবায়ন ঋন বিতরন সংক্রান্ত রোজনামচা। এর একটি সংস্কার এখন সময়ের দাবি। কারন ঋনের যে গ্রতি প্রবাহ যা কর্মসুচি ভিত্তি ঋনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা দিয়ে পরিবারতান্ত্রীক কৃষির ব্যবস্থার হয়ত কিছুটা উপকার আসবে কিন্তু কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে কিংবা কৃষির আধুনিকায়নে তেমন কোন অবদান রাখার সুযোগ নেই বলেই প্রতিয়মান হয়া। একদিকে জমির স্বল্পতা অপরদিকে জনসংখ্যার চাপে প্রতি বছর এক শতাংশ হারে কৃষি জমি কমে যাওযার কারনে আধুনিক পদ্ধতিতে নীবিড় চাষ ছাড়া কোন ভাবে কৃষিজাত পন্যের বর্ধিত উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই কৃষি নীতিমালায় কর্মসুচিভিত্তিক কৃষি ঋনের পাশাপাশি প্রকল্প ভিত্তিক কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসুচির প্রতি নজর দেয়া বাঞ্চনীয়। এই পর্যায়ে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে শস্য কিংবা শাক সবজী চাষের পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে তা মোকাবেলায় পরিবারভিত্তিক খামার বিন্যাসের পরিবর্তে ব্যবসায়িকভিত্তিক আধুনিক খামার কিংবা শস্য পর্যায়ের দিকে এগোতে হবে। এখন এই আধুনিক খামার যা হবে গ্রীন হাউজভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর তার জন্য উদ্যোক্তা সৃষ্টি হতে হবে যার বড় কারখানা হলো দেশের সরকারি/ বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিধারী বিবিএ/এমবিএ ব্যাক্তিবর্গ যাদের কোর্স কারিকুলামে উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়টি গঠিত হয় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ভাবে। কারন মজুরীভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওযায় স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থানের সুযোগ বিদ্যমান যাকে কাজে লাগিয়ে অনায়াশেই কৃষি পন্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন সম্পন্ন করা যায় অথচ কৃষি ঋন নীতিতে এসকল বিষয়গুলোর স্বল্পতা রয়েছে।

তাই আধুনিক কৃষক সৃষ্টির মাধ্যমে আগামী দিনের কৃষি উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হবে যার মধ্যে প্রথম: প্রয়োজন হবে ঋনের পরিবর্তে বিনিয়োগ যাকে বলা হবে কৃষি বিনিয়োগ নীতি। এর আওতায় গ্রীন হাউজভিত্তিক শস্য ও শাক সবজী উৎপাদন স্কীম গ্রহন করতে হবে যা হবে সারা বছরভিত্তিক উৎপাদন কার্য্যক্রম অর্থ্যাৎ সারা বৎসর সব জাতের সবজী পাওয়া যায় যার জন্য সনাতনী কায়দায মৌসুম ভিত্তিক সবজী লোপ পাবে। এতে কৃষি পন্য, শস্য সবজী ব্যবসা জমজমাট হবে, পুষ্টি চাহিদা পূরন হবে, ফসল আমদানী কমবে, রফতানি বাড়বে ও দেশ সমৃদ্ধির দিকে যাবে। এই নতুন শষ্য ব্যবস্থাপনার কথা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত কৃষি ঋন নীতিতে নেই অথচ যেগুলো থাকার প্রয়োজন। এই ব্যবস্থা পাবলিক প্রাইভেট অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা প্রকল্প তৈরি হতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। দ্বিতীয় প্রসংগটি হলো কৃষি ঋন নীতিতে শতকরা ১০ ভাগ বরাদ্দ রাখা হয়েছে মৎস্য ও পশু সম্পদ খাতে। এখানে উল্লেখ্য যে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছ উৎপাদন বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য মতে যার পেছনে ইলিশ মাছের অবদান সবচেয়ে বেশি। দেশের মোট জিডিপির ৩.৫৭ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপির ২৫.৩ শতাংশ আসে মৎস খাত থেকে। দেশে নিরুপিত মাছের চাহিদা ৩৯.৯২ লাখ টনের বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৪১.৩৮ লাখ টন যাকে বলা হয় মাছে স্বয়ংসম্পুর্ন। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে চলছে মৎস বিজ্ঞানীরা এবং বাংলাদেশ মৎস গবেষনা ইনষ্টিট্উিট থেকে ইতিমধ্যে মৎস চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ৬০টি প্রযু্ক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্য বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির ১৮টি মাছের পোনা উৎপাদন করছে বিজ্ঞানীরা। এই সকল উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মৎস অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারনের ফলে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে দেশের মাছ উৎপাদন দাড়িয়েছে ৪১.৩৪ লাখ মেট্রিক টন। দেশের মৎস চাষীরা বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত জাতগুলো সঠিকভাবে চাষ করে দেশের মৎস খাতকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করছে সত্যি কিন্তু মাছের খাবারের মূল্য ও পুকুর সেচসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে জ্বালানীর অর্থ যোগান করতে যে পরিমান বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় তা শতকরা দশ ভাগ কৃষি ঋন দিয়ে পোষাচ্ছে না। এই বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ভাবে মনোযোগী হবেন বিশেষত: কৃষি ঋন নীতিমালা তৈরিতে। তৃতীয়তঃ কৃষি উপখাত প্রানী সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ন খাত যেখানে শতকরা দশ ভাগ ঋন বরাদ্দ কোন ভাবেই সমিচীন নয়। কারন আমাদের খাবারের আমিষ যোগান ও খাদ্য পুষ্টির মান নির্ণয়ে এই খাত অতিব গুরুত্বপুর্ণ। বর্তমানে প্রানীসম্পদের উপর নির্ভরশীল প্রতিটি কৃষক পরিবার যা কর্মসংস্থানের একটি বড় উপযোগ।

দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে বানিজ্যিক মুরগীর খামার, গবাদী পশু মোটা তাজাকরন ও ডেইরি খামার গড়ে উঠা ইত্যাদি এই খাতের প্রতি কৃষক পরিবারগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধির বড় প্রমাণ। তারপরও বাড়তি জনসংখ্যার চাপে এই খাতের উৎপাদন দেশের চাহিদা পুরনে সমর্থ হচ্ছে না এবং এখনও দেশের প্রায় অর্ধেক নরনারী পুষ্টিহীনতায় ভুগছে যাদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যাই বেশি। একথা অনস্বীকার্য্য যে সবার জন্যই পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে প্রাণি সম্পদ উন্নযনের কোন বিকল্প নেই। জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) এর প্রায় নয়টি লক্ষ্য মাত্রার সাথে এই খাত সম্পর্কযুক্ত বিধায় এই খাতকে গুরুত্ব দিলে এসডিজি এর দারিদ্র দুরীকরন ও সু-স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহায়ক হবে বিশেষত: ২০৩০ সালের মধ্যে। আবার বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ অর্জনে জনপ্রতি দিনে দুধ ১৫০ মিলিলিটার, মাংস ১৯০ গ্রাম এবং বছরে ১০৪টি ডিমের চাহিদা পূরনের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকারের প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর। দেশে কর্মশক্তির ২০ শতাংশ প্রানিজ সম্পদ খাতের আওতায় রয়েছে আর ৪৪ শতাংশ আমিষ আসছে এই খাত থেকে। 

দেশকে উন্নত আয়ের দেশে পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন মেধা যার সঙ্গে প্রানিজ আমিষের সম্পর্ক রয়েছে। এই বিবেচনায় সরকার প্রথম এমডিজি এবং পরে এসডিজি এর প্রানি সম্পদ সেক্টর ৯টি অভিস্ট ও ২৮টি লক্ষ্যমাত্রার সংগে যুক্ত হয়েছে। এরি মধ্যে এই সব অভিষ্ট ও লক্ষ্য অর্জনে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে যেগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজন আইন ও নীতিমালা সহায়ক, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, ঋন সহায়তা বৃদ্ধি, গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন, প্রানি সম্পদ বীমা ব্যবস্থার চালু ও বেসকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। সরকারের কৃষি ঋন নীতিতে এই বিষযগুলোকে সংযুক্ত করে একটি কৃষি/কৃষকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে; চতুর্থতঃ আর্থিক অন্তর্ভু্ক্তি বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি যার প্রচার ও প্রসার উভয়টি হলেও কৃষি ঋন নীতিতে তার তেমন কোন উল্লেখ্য নেই। ফলে এই কার্যক্রমের স্থবিরতা লক্ষ্যনীয়। উদাহরনস্বরুপ বলা যায় দশ টাকা মূল্যের একাউন্টের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক খাত (ব্যাংকিং) অন্তর্ভুক্তির শুভ সুচনা হওয়ায় প্রায় ৮০ লাখ কৃষক পরিবার এর আওতায় চলে আসে এবং শুধু ঋনই নয় সরকার প্রদও ভুর্তুকীর সকল অনুদান এই একাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়। পরবর্তিতে বিভিন্ন জরীপে দেখা যায় বছরের নির্দ্দিষ্ট সময়ে এই হিসাবগুলো সচল থাকে সারা বছর সমভাবে নয় এবং পরিচালনকারি গ্রামীণ ব্যাংকের কৃষি শাখাগুলো এই সকল একাউন্টগুলোকে খুব উৎসাহব্যাঞ্জক দৃষ্টিতে দেখে না যার ফলশ্রেুতিতে যে উদ্দেশ্য এই কার্য্যক্রম শুরু করা হয়েছিল তা প্রত্যক্ষ কোন কাজে আসছে না এবং এই বিষয়গুলো কৃষি ঋন নীতিমালায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হওয়া উচিত;

পঞ্চমত: কৃষি ঋন নীতিতে কেবল ঋন বিতরনের কথাই উল্লেখ থাকে আদায়ের তেমন তথ্য উপাত্ত দেখা যায় না। গবেষনায় বলছে কৃষি ঋন বিতরন ও তার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি ব্যাংক এর ঋন সবচেয়ে বেশি অবস্থানগত কারনেই। তাদের অনাদায়ী শ্রেনিবিন্যাসকৃত ঋনের পরিমান সার্বিক ঋনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলেও সেই দুটি ব্যাংক থেকে প্রকল্পভিত্তিক শিল্প যেমন মিশ্র খামার দেশের অনেক জায়গায় ব্যাংকের দৃষ্টি কেড়েছে এবং শুধু প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ কাঠামো, ব্যাংকারদের দৃষ্টিভঙ্গি, সহায়ক পরিবেশ ও নীতিগত সহায়তা। দেশের সার্বিক ঋন ব্যবস্থাপনায় পরিমানের দিক থেকে কৃষি ও পল্লী ঋন একেবারেই নগন্য এবং সেই হিসাবে বৃহদাকার ঋনের ঝুকি তথা আদায় বা অনাদয়ী সংকট দেশের ঋন খেলাপীর বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে। এই অবস্থায় আনুপাতিক হারে কৃষি/ পল্লী ঋন সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। তাই আসুন কৃষি ঋন নীতিমালায় উল্লেখিত অধ্যায় বা ধারাগুলোকে সফল বাস্তবাযনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি তথা দারিদ্র বিমোচনে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে এবং কেন্দ্রিয় ব্যাংক এ ব্যাপারে তফসীল ব্যাংকগুলোকে নীতি সহায়তা দিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা রহিল।

লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ডিন, সিটি ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা ও সাবেক জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবীদ সমিতি, ঢাকা।