Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 03 Sep 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চা শিল্পকে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ শিল্পটি যেন ধ্বংস না হয় চা শ্রমিকসহ সবাইকে এ শিল্পের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

শনিবার বিকেলে চা শ্রমিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘ বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ভার্চুয়াল এ আয়োজনের শুরুতে কমলগঞ্জে পাত্রখোলা থেকে জেলা প্রশাসক নাহিদ আহাসান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে সেখান থেকে চা শ্রমিক রিতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

মজুরি বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করায় সরকার প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে রিতা বলেন, আমরা জানি শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। এখনো আমরা স্বাধীনভাবে বেঁচে আছি। আমরা আশা করি আপনার বাবার মতো আপনিও কোনোদিন আমাদের থেকে দূরে সরে যাবেন না।

অপর এক চা শ্রমিক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, সন্তান নিয়ে যেন ভালোভাবে চলতে পারেন সে ব্যবস্থা চান তারা। এছাড়া তাদের করা আন্দোলন সংগ্রামের জন্য কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্যও ক্ষমা প্রার্থণা করেন তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকরা যে আন্দোলন করেছেন সেটা নিতান্তই পেটের দায়ে। এজন্য তিনি আগে চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমি আপনাদের পাশে আছি।

দ্বিতীয় ধাপে হবিগঞ্জের চণ্ডিছড়া চা বাগান থেকে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে এক চা শ্রমিক শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন,পূর্ব পুরুষের পথ ধরে আমরা এখনো চা শ্রমিক। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে চা শ্রমিক হিসেবে আমরা নিষ্পেষিত হচ্ছি। আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। সে সময় আপনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আপনার পিতা আমাদের দিয়েছিলেন ভোটাধিকার। আমরা কখনো আপনাকে ভুলব না। আমাদের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত আপনার কাছে ন্যস্ত করলাম।

তৃতীয় ধাপে সিলেট পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। লাক্কাতুরা চা বাগানের গলফ ক্লাব মাঠ থেকে তিনি প্রধামন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

এরপর লাক্কাতুরা চা বাগানের চা শ্রমিক শ্যামলী গোয়ালা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, পেটের ক্ষুধায় আন্দোলনে নেমেছিলাম। আমাদের ক্ষমা করবেন। চা বাগানে এমবিবিএস ডাক্তারের প্রয়োজন, সন্তানসম্ভবা মায়ের ছুটি ছয় মাস করে দেয়া প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু চা শ্রমিকদের ভোটের অধিকার দিয়েছিলেন উল্লেখ করে শ্যামলী গোয়ালা বলেন, আপনার কাছে এখন ভূমির অধিকারটুকু চাই। কারণ আমরা বাঁচলে নৌকা, মরলেও  নৌকা। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সিলেটে চা পানের দাওয়াতও দেন।

সবশেষে চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালীর সভাপতি রাজু গোয়ালা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা ও চাকরিতে কোটা সুবিধা সৃষ্টির অনুরোধ করেন।

দীর্ঘ ২০ দিন ধর্মঘট পালনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বৃদ্ধি করেন। এতে চা শিল্পের অচলাবস্থা কাটে। এরপর ধর্মঘট প্রত্যাহারের পাশাপাশি সরকার প্রধানের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন চা শ্রমিকরা। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলাকালেও শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার দাবি জানিয়েছিলেন।

এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আজ চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ করার কথা জানান। এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে শ্রমিকরা পরদিন কাজে যোগ দেন। এতে চা শিল্পে ১৯ দিনের অচলাবস্থার অবসান হয়। এতদিন চা শ্রমিকরা দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি পেতেন।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//