
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।
রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরকারের চার সচিব ও তিনটি সংস্থার চেয়ারম্যানের কাছে এ নোটিশ পাঠান তিনি।
যাদেরকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন বাণিজ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান।
দুর্গা পূজা উপলক্ষে ৪৯ প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সরকার। এরই অংশ হিসেবে গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম চালানে ১৬ টন ইলিশ পাঠানো হয়েছে ভারতে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন করে মোট দুই হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানির এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ‘ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। কিন্তু বর্তমানে ইলিশ মাছের অত্যধিক দামের কারণে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই মাছ কেনার কথা চিন্তাও করতে পারে না। অন্যদিকে দেশের মধ্যবিত্ত জনগণও ইলিশ মাছ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে ইলিশ মাছের দাম গড়ে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি। ইলিশ মাছের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু পদ্মা নদীর ইলিশ। বাজারে পদ্মার ইলিশের দাম গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি। কিন্তু পদ্মা থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যায়।
‘কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা না করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। ভারতে ইলিশ রপ্তানির ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।’
প্রতি কেজি ইলিশ ১০ মার্কিন ডলারে ভারতে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানা গেছে। নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বাজার দরের চেয়ে কম মূল্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘ভারতে যে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত পদ্মার ইলিশ। এমনিতেই পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়। তাই পদ্মার ইলিশ ভারতে রপ্তানির ফলে বাংলাদেশের বাজারগুলোতে পদ্মার ইলিশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী, ইলিশ মাছ মুক্তভাবে রপ্তানিযোগ্য পণ্য নয় উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে।’
বাংলাদেশ সরকার যদি বিদেশিদের ইলিশের স্বাদ উপভোগ করাতে চায়, সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ‘ইলিশ উৎসব’ আয়োজন করতে পারে বলেও নোটিশে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে মাহমুদুল হাসান জানান, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ হলেও অতিরিক্তি দামের কারণে দেশের দরিদ্র মানুষ এই মাছ কিনতে পারে না। মধ্যবিত্ত মানুষও ইলিশ মাছ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা না করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে দেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের দাম আরও বেড়েছে।
সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধ না করলে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলেও জানান মাহমুদুল হাসান।
বিনিয়োগবার্তা/কেএইচকে//