
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ না হলে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে আগামীতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এত ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে, যা এখন কল্পনাও করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বেই দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণভবনে সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ডলার সংকট তো বাংলাদেশের একার না। বিশ্বব্যাপী এখন সংকট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে আমেরিকা যে স্যাংসন দিল, দেওয়ার পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেল। সেখানে সংকট আরও বেশি দেখা দিয়েছে। ডলার সংকট আন্তর্জাতিক বিষয় থেকে এসেছে, আমাদের নিজস্ব দায় আছে তা তো না।
‘শুধু বাংলাদেশ না, এই সংকট এখন যেটা দেখছেন হয়তো সামনের বছর আরও বেশি দেখা দেবে, এটা সারা বিশ্বব্যাপী। আমার তো একটা শংঙ্কা হচ্ছে যে, সারা বিশ্বেই দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে, সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক চরম দুরাবস্থা দেখা দিতে পারে। আমি আগে থেকেই বলে রাখছি, আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ফসল ফলান নিজের ব্যবস্থা নিজেরা করে রাখি, যাতে কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয়। বাংলাদেশে তবু তো আমরা চালাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের যে অবস্থাটা, সেটা একবার বিবেচনা করে দেখুন সেখানে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের সাশ্রয় এবং সঞ্চয় আগে থেকেই রাখতে হবে নইলে বিশ্বব্যাপী একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, যদি এই যুদ্ধ বন্ধ না হয়, এই স্যাংশন প্রত্যাহার না হয় তাহলে কিন্তু আরও খারাপ অবস্থা হবে। তারপর প্রকৃতির যে খেলা, কীভাবে সমস্ত বনে আগুন লাগলো। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমেরিকায় সমস্ত জায়গায় একটা অদ্ভুত ব্যাপার। লন্ডনের মতো জায়গায় কথায় কথায় ঘাসে আগুন লেগে যাচ্ছে, তার পরে অনেক দেশে তো ক্ষেতের ফসল খেতে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। ইউরোপের বহু দেশে হয়েছে। এজন্য আমাদের আগে থেকে ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমি তো সব সময় বলি, অন্ততপক্ষে আমাদের নিজের যে মাটি আছে, যার যেটুকু আছে, যে যেভাবে পারেন অন্তত নিজের খাবারের জোগাড় নিজেরা করে রাখেন। আর নিজেদের সঞ্চয়টা করে রাখেন। না হলে এত খারাপ অবস্থা সারা বিশ্বে হতে পারে, এখন যা কল্পনাও করা যাচ্ছে না।
অর্থ পাচার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন অনেকেরই অর্থ পাচারের তথ্য আমার কাছে আছে, ওটা আপনারা লিখবেন কিনা সন্দেহ আছে। আমি সোজা কথা বলি, অনেকের ব্যাপারে অনেক স্বনামধন্যদের ব্যাপারেও আছে, তবে এটা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। একদিন সামনে আসবে, আপনারা লিখবেন কিনা আমি সেটা দেখব। মানি লন্ডারিং বন্ধ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর পানি বন্টনের সমঝোতা বড় অর্জন।ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশি এবং বন্ধু রাষ্ট্র। এবারের সফরে বাংলাদেশর উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি আছে। যৌথ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে একমত হয়েছে দুই দেশ।
তিনি বলেন, সফরের পুরো সময় জুড়ে আমরা ভারতের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ও সৎ প্রতিবেশী হিসেবে সমতা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দু’দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার লক্ষ্য করেছি। ভারতীয় নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে, সংবাদ মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আমি বাংলাদেশের জন্য যে প্রীতি ও সৌহার্দ্য লক্ষ্য করেছি তা সত্যিই অসাধারণ। এই প্রীতির সম্পর্ককে সুসংহত করে আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই।
সফরের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এই সফরে সহযোগিতার যে সব ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, সব মিলিয়ে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে নতুনভাবে এগিয়ে চলার গতি সঞ্চার হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে এই সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া অচিরেই একটি সমৃদ্ধশালী অঞ্চলে পরিণত হবে।
ঐতিহাসিক ভাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের কাছের প্রতিবেশি এবং বন্ধুরাষ্ট্র। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ভাষা ও সংস্কৃতির সাযুজ্যের কারণে আমাদের সম্পর্ক প্রগাঢ় হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালে সহায়তা ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সহযোগিতা এ বন্ধুত্বকে বিশেষত্ব দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছে।
বিনিয়োগবার্তা/কেএইচকে//