
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার বয়স ১৮-এর নিচে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকের এ শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে শিশুদের গড়ে তোলার জন্য তাদের মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ করতে হবে। শিশুদের মৌলিক অধিকারগুলো হলো শিক্ষা, পুষ্টি, চিকিৎসা, সুরক্ষা, অংশগ্রহণ, বিনোদন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।
সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউনিসেফের উদ্যোগে শিশু সুরক্ষায় ‘চাইল্ড প্রটেকশন ফর এভরি চাইল্ড: বেস্ট প্র্যাকটিসেস ইন চাইল্ড প্রটেকশন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রথম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানের ১৪, ১৫, ১৭, ১৮, ২৮, ২৯, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর আর্টিকেলগুলো আমাদের জীবন, স্বাধীনতা ও সমতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের শিশুকে রক্ষা করার জন্য ১৯৭৪ সালের শিশু আইন করা হয়েছে। শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য বাংলাদেশ ইউএনসিআরসি সই ও রেটিফাই করে। ইউএনসিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য আমরা অনেক কার্যক্রম নিয়েছিলাম। যেমন—৬৫ জেলা ও ৪৯২ উপজেলায় শিশুকল্যাণ বোর্ড নির্মাণ, ৩০০ কমিউনিটি বেজড শিশু সংরক্ষণ কমিটি নির্মাণ।
দরিদ্রতা শিশুর চাহিদা পূরণের পথে বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সরকার সব নাগরিককে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষায় জাতীয় ও সামাজিক সুরক্ষা কৌশল নিয়েছে। শিশুরাও এ প্রোগ্রামের সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে ৯৮ শতাংশ শিশু স্কুলে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ২৩ মিলিয়ন শিশুকে বিভিন্ন ধরনের উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। শিশুর মৃত্যুহার কমিয়ে প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে আনা হয়েছে। ১৮ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষত নারী ও শিশুদের জন্য। আমরা শিশু সংরক্ষণ বিশেষ করে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য ভাতা চালু করেছি। আমাদের সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও নিরাপত্তা আইন ২০১৩ পাস করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শিশুরা শারীরিক ও মানসিক সহিসংতার শিকার হয়ে থাকে। আমরা যেভাবে শিশুদের শারীরিক শাস্তি দিই এটার প্রতি সমাজ সহনশীল। এ ধরনের প্যারেন্টিং স্বাস্থ্যকর নয়। শিশুদের উন্নতিতে সহায়তা এবং সমস্যাগুলো ভালো আচরণের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
শিশুদের উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো তিনি উল্লেখ করে বলেন, আমরা সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করেছি। অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি করেছি, যেমন টিকাদানের পরিমাণ বাড়ানো, মৃত্যুহার কমানো, শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে শিশুরা একটি উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ইইউ সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, যিনি শিশু অধিকারসংক্রান্ত সুপ্রিম স্পেশাল কমিটিরও একজন সদস্য।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//