Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 26 Sep 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

ড: মিহির কুমার রায়: বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সদস্যভুক্ত একটি দেশ এবং সে হিসাবে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেছেন, বাংলাদেশ নিজেই তাদের অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে, বিশ্বব্যাংক সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক সব সময় পাশে থাকবে। 

বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বিশ্বের অনেক দেশের কাছে অনুকরণীয় । এখানে উল্লেখ্য যে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিযা অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার গত ১৯-২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ তারিখে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন যা দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশে এটিই তার প্রথম সফর।

এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা নিয়ে আলোচনা, উন্নযন সহযোগী, বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্নজনের সঙ্গেও বৈঠক করা। 

তাছাড়াও দক্ষিণ এশিযার দেশগুলো যখন কভিড থেকে জলবাযু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির বহুবিধ ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানাও তার এই সফরের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে থেকে সাহায্য প্রাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীদের সাথে দেখা করে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বিণিময় করেছেন । 

বিশ্বব্যাংক বাজেট সহায়তা দেওয়ার আগে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খতিয়ে দেখছেন । এর অংশ হিসাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল। উক্ত বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ই-জিপি (ই-টেন্ডার) সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

আলোচনার সারাংশ হলো প্রতিশ্রুতির ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা ছাড় করার আগে তারা বেশ কিছু বিষয় জানতে চেয়েছেন যেমন সামষ্টিক অর্থনীতি, রিজার্ভের অবস্থা, মূল্যস্ফীতি, ভ্যাট আইন সংস্কার, সিপিটিইউকে পাবলিক প্রকিউমেন্ট অথরিটি করার অগ্রগতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ইত্যাদি। 

উত্তরে প্রতিমন্ত্রী তাদের বলেছেন দেশে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন থেকে কমে গেছে, এটা চ্যালেঞ্জ কিন্তু রপ্তানি বাড়ছে ২৫ শতাংশ হাওে, আমদানি বাড়ছে ২৩ শতাংশ হারে। এক্ষেত্রে আমদানির তুলনায় রপ্তানি বাড়ছে। গত এক মাসে রেমিট্যান্স এসেছে দুই বিলিয়ন ডলার। ফলে বাংলদেশ এখন স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে, ফলে রিজার্ভের ওপর চাপ কমছে, এত দুর্যোগের মধ্যেও বিনিময় মূল্য স্থিতিশীল আছে, কোথাও উৎপাদন ব্যাহত হয়নিএবং অর্থনীতি আয়ত্তের মধ্যে আছে। তবে রিজার্ভ ধরে রাখতে বাজেট সহায়তা প্রয়োজন, প্রচুর বৈদেশিক ঋণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। 

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের গতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেগা
প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্পের গতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ এখন গ্রিন গ্রোথে (সবুজ প্রবৃদ্ধি) গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ব্যবস্থাপনার অদক্ষতাই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ যা উন্নয়ন করা হচ্ছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে । 

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের কাছে নতুন করে ১০০ কোটি ডলার এবং আগে প্রতিশ্রুতির ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দ্রুত ছাড় করতে অনুরোধ জানায় সরকার যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফর করছে।

প্রতিনিধি দলটি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং অর্থমন্ত্রী তিনি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগে বিশ্বব্যাংকের আরও জোরদার অংশীদারিত্ব চান। ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। 

বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, দুর্যোগ মোকাবিলা খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেছেন, বাংলাদেশ নিজেই তাদের অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে, বিশ্বব্যাংক সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক সব সময় পাশে থাকবে।

বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বিশ্বের অনেক দেশের কাছে অনুকরণীয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাউথ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার বৈঠক করেছেন। 

এই বৈঠকে পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অর্জন, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। 

তিনি বলেন, আগামীতে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল এবং হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক অবদান রাখবে। হাইড্রোজেন পলিসি বিনির্মাণে এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যালের জন্য অংশীজনদের আগ্রহী করাতে বিশ্বব্যাংক অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটকে মানসম্পন্ন ও অন্তর্জাতিক মানের করতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করে।

তিনি বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বায়ু বিদ্যুৎ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ সময় নবায়ণযোগ্য জ্বালানি, ক্যাপটিভ পাওয়ার, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, সোলার ইরিগেশন পাম্প, লিথিয়াম ব্যাটারি, জলবিদ্যুৎ, আঞ্চলিক পাওয়ার ট্রেড, নেট মিটারিং ও রুপটপ সোলার, গ্রিন বিল্ডিং, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার, তেল রিফাইনারি, ল্যান্ড বেজড
এলএনজি টার্মিনাল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। 

প্রতিমন্ত্রী এ সময় প্রকল্পের অর্থায়নে অযথা সময়ক্ষেপণ না করতে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করেন। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারায় আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সঞ্চালনের উপর ফোকাস খুবই আশাব্যাঞ্জক। 

নবায়ণযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণ বাংলাদেশকে উজ্জ্বলতর করছে ।এ সময় দক্ষতা বৃদ্ধি, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি ও পাওয়ার ট্রেড সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্বব্যাংক আগ্রহ প্রকাশ করে। 

উল্লেখ্য, গ্যাস মিটার সংক্রান্ত ২টি প্রকল্প বিশ্বব্যাংকে অনুমোদিত হয়েছে যা ২০২৩ সালের জানুয়ারি হতে শুন্তু“ হবে। বিদ্যুৎ খাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

রাইজার জার্মান নাগরিক। চলতি বছরের ১ জুলাই তিনি দক্ষিণ এশিযা অঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি চীন, মঙ্গোলিযা এবং কোরিায় বিশ্বব্যাংকের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও তিনি তুরস্ক ও ব্রাজিলে কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ডিন, সিটি ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা ও সাবেক জ্যাষ্ট সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবীদ সমিতি,ঢাকা।