Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 01 Oct 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: শীর্ষ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধির কাঠামো টেকসই নয়। নতুন করে সংস্কার না হলে আগামী ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। 

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অগ্রগতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির হারকে ত্বরান্বিত করতে একটি শক্তিশালী সংস্কার এজেন্ডা প্রয়োজন। 

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘চেঞ্জ অব ফেব্রিক’ নামক এক প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন, বিশ্বব্যাংকের মূল্য অর্থনৈতিক কনসালটেন্ট জাহিদ হোসেন এবং সিনিয়র ইকোনোমিস্ট নোরা ডিহেল। বক্তব্য রাখেন, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান্ডান চেন, সেনেম’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির, বিশ্বব্যাংকের প্রাকটিস ম্যানেজার হুন এস সোহ প্রমুখ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্কার না হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হচ্ছে- বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ। এই সংস্কার এলাকায় ক্রস-কাটিং থিম হিসাবে ডিজিটাল উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলিও অন্বেষণ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রফতানির অস্থিরতার ঝুঁকি কমাতে, প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরি করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে রফতানি বহুমুখীকরণ জরুরী। তৈরি পোশাকের উপর অত্যধিক নির্ভরতা এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষামূলক শুল্ক ব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় রফতানি বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। অধিকন্তু, কম মজুরি এবং বাণিজ্য পছন্দের উপর ভিত্তি করে বাণিজ্য প্রতিযোগিতার সাথে দেশটি তার রপ্তানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে পারে।

ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থিক খাত অতটা গভীর নয়। গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে আধুনিক নগরায়ণই বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়ণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আর মোটামুটি ধরনের সংস্কার হলে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ভালো রকম সংস্কার হলে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। সংস্কার না হলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতিও কমে যাবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন খাতে সমস্যা আছে। নানা কারণে এই খাতগুলোয় অনেক ব্যর্থতা আছে। এসব খাতের সংস্কার করতে হবে। অবশ্যই আমরা ভালো সংস্কার করার পক্ষে। জনগণ সংস্কার চায়। পুরো সংস্কার করতে না পারলেও কিছুটা করতে পারব। এই বিষয়ে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি। তিনি বলেন, সংস্কারের সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থনীতির সম্পৃক্ততা আছে। আমরা জোরকদমে হাঁটতে পারব না। তবে সামনে এগিয়ে যাব। আপনারা যতটা জোরকদমে চান, ততটা জোরকদমে হয়তো হাঁটতে পারবে না।

তিনি বলেন, সামনে রাজনৈতিক সংঘাত নয়, অনিশ্চয়তা আছে। রাজনীতির আকাশে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। তবে আশা করি, ঝড় আসবে না। রাজনীতিবিদদের আলোচনার পথে আসতে হবে—সভ্যতা-ভব্যতার পথে আসতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান্ডান চেন বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০টি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আত্মতুষ্টির কোনো অবকাশ নেই। প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রগতিসহ নতুন এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো হলো, একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণের জন্য নতুন নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবনের দাবি করে। তিনি বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের রূপকল্প অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও রূপান্তরমূলক নীতিগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিনিয়োগবার্তা/এমআর/কেএইচকে//