Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 02 Oct 2022 00:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আসন ও পর্যাপ্ত বই সংকট, অত্যাধুনিক সুবিধা না থাকাসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে নতুন গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১০১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৬ টাকা।

বর্তমান কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির মূল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। কিন্তু বাজেট স্বল্পতার কারণে ১ লাখ বর্গফুটের মধ্যে ৫৫ হাজার বর্গফুটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। আর বাকি ৪৫ হাজার বর্গফুট নির্মাণকাজ পরবর্তীতে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত একমাত্র কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছরেও রয়ে গেছে অপূর্ণাঙ্গ। এর মধ্যে বেড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ফলে গ্রন্থাগারের আসন সঙ্কটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই হলে থাকেন। তবে অধিকাংশ হলে রিডিং রুম না থাকায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উপরই নির্ভর করতে হয় তাদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গ্রন্থাগারে এসে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় ফিরে যান তারা। এছাড়া সিট সংকটের কারনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলের গণরুমে থাকতে হয়। ফলে গ্রন্থাগারে আসন সংকট ও হলে রিডিং রুম না থাকায় পরীক্ষায় ফল খারাপ হচ্ছে হলের গণরুমে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে গ্রন্থাগার ঘুরে দেখা যায়, তিন তলা ভবনের গ্রন্থাগারটিতে ৮৪টি ডেস্ক এবং টেবিলে ৩৬৩ টি সহ সর্বমোট ৪৪৭টি আসন রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তার প্রেক্ষিতে প্রতি ৩২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ১টি আসন। এর বাইরেও চাকরি প্রত্যাশী অনেক সাবেক শিক্ষার্থী নিয়মিত গ্রন্থাগারটি ব্যবহার করছেন। ফলে গ্রন্থাগারে এসে বসার আসন না পেয়ে প্রায়ই ফিরে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আসন সংকট, পর্যাপ্ত বই সংকট, অত্যাধুনিক সুবিধা না থাকাসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে নতুন গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা বিশিষ্ট একটি গ্রন্থাগার নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কাজটি যৌথভাবে করবে জয়েন্ট ভেঞ্চার মাহেন্দ্র বেসিন পাওয়ার লিমিটেড (এমবিপিএল) এবং অ্যাডভান্স টেকনোলজি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড (এটিসিএল)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৬ টাকা।

নতুন এই গ্রন্থাগারে যেসব সুবিধা থাকছে :

প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আহসানউল্লাহ মজুমদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচতলা বিশিষ্ট আড়াই লাখ বর্গফুটের এই গ্রন্থাগারে একসঙ্গে পড়তে পারবে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার শিক্ষার্থী। সমাবেশ থাকবে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন রেফারেন্স বই ও জার্নালের। বিশেষ সুবিধা সংবলিত ব্যবস্থা থাকবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য।

থাকবে স্টুডিও, অডিও ভিজুয়াল সেন্টার, ভিডিও রেকর্ডিং স্টুডিও, ভিডিও রেফারেন্স সেকশন, আর্ট গ্যালারি, কনফারেন্স রুম, সেমিনার রুম ও গ্রুপ ডিসকাশন রুম।

এ ছাড়াও ক্যাফে, লাউঞ্জ এবং ৩০টি বিশ্রমাকক্ষের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্মিতব্য এই গ্রন্থাগারে থাকছে প্রায় ৩ লাখ বই রাখার সক্ষমতা।

নিচ তলায় থাকবে কেন্দ্রীয় সার্ভিস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সেমিনার রুম ও কনফারেন্স রুম।

দ্বিতীয় তলায় থাকবে পাঠ্যবই ও রেফারেন্স বই, নিউজপেপার, ম্যাগাজিন ডিসপ্লে, একাডেমিক তথ্য ও রেকর্ড সংবলিত বই, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বই ও শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বই, সাধারণ রিডিং রুম একটি সায়েন্স রিডিং রুম ও ওপেন রিডিং স্পেস যেখানে খাদ্যসহ শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারবে।

তৃতীয় তলায় থাকবে রিসার্চ সেকশন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি প্রেস, সাহিত্য বিভাগ ও রেফারেন্স বইয়ের রিডিং রুম, গবেষকদের কক্ষ, গ্রুপ ডিসকাশনের জন্য কক্ষ। এই তলায় ভিডিও রেফারেন্স সেকশন থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বড়

বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। 

পড়তে পারবেন তাদের প্রকাশিত জার্নালসমূহ।

এছাড়াও এই তলায় একটি ডিজিটাল ম্যাপিং সিস্টেম ল্যাব থাকবে।

চতুর্থ তলায় থাকবে একটি সমৃদ্ধ আর্কাইভ।

উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ নূরুল আলম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মানসম্পন্ন গ্রন্থাগার অত্যন্ত জরুরী। নতুন গ্রন্থাগার ভবনের কাজটি সম্পন্ন হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধাসহ নানাভাবে উপকৃত হবে। নতুন গ্রন্থাগারটিতে বর্তমানটির চেয়ে প্রায় ৬-৭ গুণ বেশি শিক্ষার্থী বসে পড়াশোনা করতে পারবে।

বিনিয়োগবার্তা/এমআর/কেএইচকে//