
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সফররত ব্রুনাই দারুসসালামের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া রবিবার ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে যাবেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। সেখানে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার ঢাকায় আসেন ব্রুনাইয়ের সুলতান। তিনি ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী একটি বিশেষ ভিভিআইপি বিমান (রয়্যাল ব্রুনাই) গতকাল বেলা ২টা ২৪ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সুলতানকে সেখানে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ব্রুনাইয়ের সুলতানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। সুলতানের সফরসঙ্গী হিসেবে এসেছেন ব্রুনাইয়ের রাজপরিবারের সদস্য, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো ঢাকা সফর করছেন হাজি হাসানাল বলকিয়াহ। আগামীকাল তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।
গতকাল অভ্যর্থনা জানানোর অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে ব্রুনাইয়ের সুলতানকে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল ২১ বার তোপধ্বনিসহ গার্ড অব অনার দেয়। এরপর সেখান থেকে সরাসরি সাভারে জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যান সফরকারীরা। সেখানে তারা ফুল দিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ব্রুনাইয়ের সুলতান সেখানে একটি চারা গাছ রোপণ ও দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন।
পরে গতকাল সন্ধ্যায় ব্রুনাইয়ের সুলতানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মন্ত্রণালয়ের সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন, সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেন হাসানাল বলকিয়াহ। সেখানে তার সম্মানে রাষ্ট্রপতি আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওই নৈশভোজে যোগ দেন।
সুলতানের এ রাষ্ট্রীয় সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি কিছু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি, বাংলাদেশী জনশক্তি নিয়োগ সহযোগিতা-বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, দুই দেশ কর্তৃক নাবিকদের সনদের স্বীকৃতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ উচ্চ আয়ের দেশ ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সুলতানের মধ্যে অধিকতর মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন ও আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার বিষয়টি অনেক গুরুত্বসহকারে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ হলেন বিশ্বের দীর্ঘতম রাজত্বকারী রাজাদের একজন। তার বাবা স্যার হাজি ওমর আলী সাইফুদ্দিনের পদত্যাগের পর ১৯৬৮ সালের আগস্টে তিনি রাজা হন। ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাই দারুসসালাম সফর করেন। ওই সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারকরণের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ব্রুনাই ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা লাভের দুই বছর পর বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন পুনঃস্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বেড়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//