Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 17 Oct 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে কোয়াসি কোয়ার্টেংকে। শুক্রবার তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার কিছু পর ব্রিটেনের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান জেরেমি হান্ট। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়নি ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এবার লিজ ট্রাসের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে তার নিজ দলের মধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

শোনা যাচ্ছে, কনজারভেটিভ পার্টির জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা চলতি সপ্তাহে চলমান পরিস্থিতি থেকে ‘উদ্ধার মিশন’ বিষয়ক আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন, যেখানে নেতা হিসেবে লিজ ট্রাস থাকবেন কিনা সে-বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেংকে বরখাস্ত করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়েও সন্তুষ্ট নন তার কনজারভেটিভ দলের নেতারা। অনেকেই প্রকাশ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন নতুন অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।

দীর্ঘ নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে কিছুদিন আগে নির্বাচিত হয়েছেন লিজ। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে আসার কয়েকদিনের মধ্যেই ফের অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লিজকে তার নিজের দলের অনেকেই আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করছেন না। সূত্র জানিয়েছে, দলের এমপিরা ট্রাসকে মাত্র ১৭ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু এ স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্রিটেনের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা কার্যত অসম্ভব তার পক্ষে। তাই আগামী কয়েক দিনে ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ গোটা বিশ্বের।

গার্ডিয়ানের বরাতে আরো জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে আজ একদল সিনিয়র সংসদ সদস্য বৈঠক করবেন। এর মধ্যে কেউ কয়েক দিনের মধ্যেই লিজের পদত্যাগ চান। অন্যরা মনে করছেন, লিজ এখনো অফিসে আছেন, কিন্তু পরিস্থিতি আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই। কেউ কেউ আবার প্রকাশ্যে তার তার কর কর্তন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পর সরে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়ে হুমকি দিচ্ছেন।

এদিকে কেবিনেটে ট্রাসের সমর্থনকারী পক্ষের তরফ থেকে অন্যান্য টোরি মন্ত্রীদের সর্তক করে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে যদি তারা দ্বিতীয় নেতাকে পদচ্যুত করেন তাহলে তা একটি নির্বাচনকে ত্বরান্বিত করবে, যা দল হিসেবে তাদের ভবিষ্যতের যবনিকাপাত ঘটবে।

তবে কেবিনেটের মধ্যেও সমর্থন কমছে ট্রাসের। দলের সাবেক একজন মন্ত্রী বলেন, লিজ ট্রাস জানেন যে তিনি এখন প্রস্থানের পথেই রয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছায় নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন, নাকি জোরপূর্বক তার প্রস্থান ঘটবে তা এখন দেখার বিষয়।

গতকাল বিবিসিকে সাক্ষাত্কার প্রদানের সময় বর্তমান অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্টের কাছে সরকার কে চালাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন। নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী লিজ ট্রাসকে প্রতিস্থাপন করা উচিত এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সবার আগেই করপোরেট কর কমান লিজ ট্রাস। চলতি বছর মার্চের বাজেটে তত্কালীন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক এ কর ২০২৩ সালের এপ্রিলে ১৯ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তার যুক্তি ছিল, মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিতে সরকার কোম্পানিগুলোকে শত শত কোটি পাউন্ড দিয়ে সহায়তা করেছে। ফলে তাদের কাছ থেকে বাড়তি কর চাওয়া অন্যায় কিছু হবে না। কিন্তু সুনাকের এ সিদ্ধান্তই বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেন লিজ ট্রাস। তার করছাড়ের ঘোষণা করার পরই বিশ্ববাজারে ঐতিহাসিকভাবে কমে যায় পাউন্ডের দাম। তাছাড়া সাধারণ মানুষের কর কমানোর কোনো ঘোষণা করেনি তার সরকার। ফলে প্রশ্ন ওঠে তার নীতি নিয়ে। সব মিলিয়ে দলের মধ্যে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছেন ট্রাস।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//