
ড: মিহির কুমার রায়: বিগত ১২ ই অক্টোবর বুধবার ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৫ ও ১৪২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চলমান কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বাংলাদেশ যাতে কখনই খাদ্যের অপ্রতুলতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয় সেজন্য দেশবাসীকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খাদ্যের চাহিদা কখনও কমবে না বরং বাড়বে। সামনে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অনেকেই খাদ্য সঙ্কটে পড়বে এবং হয়তো অনেক দেশে আমাদের খাদ্য সহায়তা পাঠাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখবেন না, এক ইঞ্চি জমি নষ্ট করবেন না, যে যা পারেন উৎপাদন করেন, বাড়ির আঙ্গিনায়, খোলা জায়গায় যে যা পারেন উৎপাদন করেন, আমাদের মাটি ও মানুষ আছে, তাই এখন থেকেই আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে যাতে বাংলাদেশ কখনও দুর্ভিক্ষ বা খাদ্য সঙ্কটে না পড়ে, আমরা আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াব। প্রধানমন্ত্রী তার আরও বক্তব্যে বিশ্ব বাজারে প্রতিটি জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধির উল্লেখ করে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে তার যুদ্ধ বন্ধ করার উদাত্ত আহ্বানের পাশাপাশি শিশুদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষার পাশাপাশি উন্নত জীবন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানের কথাও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি পরিবহনের খরচও কিন্তু অতিরিক্ত বেড়েছে। তারপরও কৃষকদের ভর্তুকি কিন্তু অব্যাহত রয়েছে। কারণ দেশের মানুষের খাদ্য এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এটা মাথায় রাখতে হবে যে আমরা কখনও আমদানি নির্ভর না হয়ে যেন স্বনীর্ভর হতে পারি। রফতানি পণ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সেদিকে ব্যবস্থা নেয়ার এবং গবেষণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এক্ষেত্রে তিনি দেশীয় বিজ্ঞানীদের জুট জেনোম আবিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে পাট পণ্যের বহুমুখীকরণ করে রফতানি বৃদ্ধিতে সরকারের পাশাপাশি এখন বেসরকারী খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রধান যত্রতত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে যেন কৃষি জমি নষ্ট না করে সেজন্য সারাদেশে ১শ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (শিল্পাঞ্চল) প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, সেখানে আমার একটা লক্ষ্য আছে যে যে অঞ্চলে আমাদের যেসব কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয় সেই উৎপাদন বৃদ্ধি করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সেসব অঞ্চলে আমরা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সায়েদুল ইসলাম, পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে শারমিন আক্তার বিজয়ীদের পক্ষে তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাফল্য ও এর কার্যক্রমের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ, সমবায়, উদ্বুদ্ধকরণ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বাণিজ্যিক চাষ, বনায়ন, গবাদি পশু পালন এবং মাছ চাষে অবদানের জন্য ৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৫ ও ১৪২৬ বিতরণ করেন। নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি স্বর্ণ পদক, ষোলটি রৌপ্য পদক এবং পঁচিশটি ব্রোঞ্জ পদক বিতরণ করা হয়।
স্বাধীনতার ৫২ বছর পর এই মহতি উদ্যোগ আমাদের স্মরন করিয়ে দেয় গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে কৃষিই ছিল এ দেশের অর্থনীতির প্রধান খাত। এই কৃষিকে দেখে দেখেই বেড়ে উঠেছেন বঙ্গবন্ধু। কৃষি পরিবারে বেড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ও কৃষকদের জন্য সংগ্রামের মাধ্যমে স্বপ্ন দেখিয়ে একটি স্বাধীন দেশ এনেছিলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি ছিল কৃষি ও কৃষক। কৃষি ও কৃষককে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সর্বোপরি বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলে সোনার বাংলাদেশ সফল করার জন্য বঙ্গবন্ধু নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেই স্বপ্নই বাস্তবায়িত করছে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। খাদ্য ঘাটতি সংকুলানে বঙ্গবন্ধু সরকার স্বাধীনতার পর ২ বছর খাদ্যে ভর্তুকি প্রদান করেছে, ১ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কৃষি সেচ সুবিধায় বেশি বিনিয়োগ ধরা হয়েছিল। বিজ্ঞানভিত্তিক চাষের গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেছিলেন তাই তো কৃষিবিদদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু প্রথম বাজেটে কৃষিখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। ২১ দফার প্রতিটা দফাই ছিল কোন না কোনভাবে কৃষি ও কৃষকের মঙ্গলকামি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তন্মধ্যে, কৃষির উন্নতির জন্য সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, বন্যা ও খরার হাত থেকে কৃষককে রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ও সরকারি ইজারাদারি প্রথা বিলুপ্ত করেন, বঙ্গবন্ধু কৃষকদের ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেন এ কারণে কৃষিকাজে জড়িতরা উপকৃত হয়েছেন। খাজনা দেওয়ার অক্ষমতা ও জটিলতা হতে মুক্ত হয়ে কৃষকরা আনন্দে কাজ করে গেছেন। সবুজ বিপ্লব কর্মসূচির আওতায় খাদ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, শ্মশান হওয়া বাংলাকে তিনি সোনার বাংলায় গড়ে তুলতে চান। তিনি বলেছিলেন ‘কৃষি খাদ্য বলতে শুধু ধান, চাল, আটা, ময়দা আর ভুট্টাকে বোঝায় না বরং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি এসবকে বুঝায়।’ সুতরাং কৃষির উন্নতি করতে হলে এসব খাদ্য শস্যের সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষির প্রতি, কৃষি সম্প্রসারণের প্রতি, কৃষি উন্নয়নের প্রতি তার আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। বঙ্গবন্ধু ভাবতেন সবার আগে দরকার খাদ্যের। খাদ্যের নিশ্চয়তা না দিতে পারলে সব উন্নয়ন কার্যক্রম বিফলে যাবে। সুতরাং নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি উন্নয়ন তথা কৃষি এবং কৃষকের কথা ভেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জনগণের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্তির লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়নের বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এ কারণেই তিনি কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পুনঃসংস্করণ, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, ইক্ষু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনসহ অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেন। কৃষিবিষয়ক বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও কার্যক্রমের আমূল পরিবর্তন ও সংস্কারের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তি চর্চায় মেধা আকর্ষণের যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল-এ দেশের শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো, তাই তিনি কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার প্রদানের পাশাপাশি কৃষি উন্নয়নের সৈনিক কৃষিবিদদের যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন। তখন দেশে কৃষি শিক্ষার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত স্নাতক কৃষি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ছিল বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট, পটুয়াখালী কৃষি কলেজ এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজ। কৃষিতে স্নাতকোত্তর শিক্ষা লাভের প্রতিষ্ঠান ছিল গাজীপুরের ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ ইন এগ্রিকালচার (ইপসা)। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিন থেকে কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরি হতো। বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন মানুষের ভাতের চাহিদা নিশ্চিতকরণে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে জ্ঞাননির্ভর কারিগর তৈরিতে তিনি হলেন অত্যন্ত আন্তরিক। তাই কৃষি শিক্ষায় অধিক সংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থীর সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং কৃষি শিক্ষাকে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্মিলনে বিকশিত করতে তিনি ১৯৯৮ সালের ২২ নভেম্বর ইপসাকে উন্নীত করে প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজ উন্নীত করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার ফসল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট উন্নীত হয় শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী কৃষি কলেজ রূপান্তরিত হয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তী সময়ে দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, যা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৎ্স্য বিদ্যা বিভাগ চালু এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি শিক্ষা বিকশিত করতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করেন কৃষি, মাৎস্য ও পশু চিকিৎসা অনুষদ।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা মেটাতে প্রাণি সম্পদের গুরুত্ব অনুধাবন করে বঙ্গবন্ধু কন্যা ভেটেরিনারি শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ এবং সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা বিকশিতকরণ অভীপ্সার বাস্তবায়নস্বরূপ এ দুটি ভেটেরিনারি কলেজ যথাক্রমে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কৃষি গ্র্যাজুয়েট বিনির্মাণে দীপ্তমান। তার সরকারের পরিকল্পনায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ ও ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজে গৃহীত হয় শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করছে প্রায় ২৫ হাজার ছাত্র ছাত্রী আর শিক্ষক কর্মরত আছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন।
বাংলাদেশের কৃষির বর্তমান চ্যালেঞ্জ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করে দেশের ক্রমহ্রাসমান ভূমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ। সেই সঙ্গে বিশ্বের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোয় খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং আধুনিক বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় প্রাগ্রসরমাণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা জোগানোর ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব পালন। অধিকতর কৃষির উৎপাদন, যথাযথ প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতের মাধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন অধিক সংখ্যক দক্ষ ও যোগ্য কৃষি উদ্যোক্তা, গবেষক ও সম্প্রসারণ কর্মী। তাই প্রধানমন্ত্রী কৃষিশিক্ষা ও গবেষণাকে আঞ্চলিক জলবায়ু এবং ফসল বিন্যাসের ধারায় উত্কর্ষ করতে এলাকাভিত্তিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বা কৃষি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া দেশে অরো চারটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। দেশের প্রতিটি কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ সর্বোচ্চ মেধাবী তরুণ-তরুণীর পছন্দের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রস্ফুটিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এসব প্রতিষ্ঠানে পুরুষের তুলনায় অধিক সংখ্যক নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে এবং একাডেমিক ফলে তাদের প্রাধান্য লক্ষণীয়। এ ধারা বাংলাদেশের কৃষিকে বিকশিত ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহির্বিশ্বে আমাদের বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ইতিবাচক লক্ষণ বলে প্রশংসিত। প্রতিটি কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহত গতিতে সৎ, নিষ্ঠাবান ও করিতকর্মা কৃষিবিদ তৈরি হচ্ছে। তারা কৃষি পেশা ছাড়াও দেশের রাজনীতি, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস, ট্যাক্স, অডিট, ব্যাংক, বীমাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। অনেক কৃষিবিদ উদ্যোক্তা হয়ে নিজে হয়েছেন সমৃদ্ধ আর দেশের অর্থনীতিকে করেছেন বেগবান। কৃষিবিদরা নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে কৃষি শিক্ষার সুনাম ও মর্যাদা সর্ব মহলে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশের প্রতিটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও গবেষণার ভৌত সুবিধা উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী দিনে প্রতিটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতে আরো সুফল বয়ে আনবে বলে দেশ বাসীর প্রত্যাশা।
লেখক: ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।