
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: অধিক জনসংখ্যা দেশের জন্য অভিশাপ—এ কথা চীনের জন্য এখন কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়। জনসংখ্যা কমানোর চিন্তা দূরে থাক, বরং জনসংখ্যা বাড়ানো নিয়েই যত চিন্তা জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম দেশটির। এজন্য জন্মহার বাড়ানো নিয়ে তারা দফায় দফায় নীতি প্রণয়ন করছে। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, নীতিনির্ধারকরা চীনের নিম্নমুখী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে শঙ্কিত। জন্মহার ক্রমাগত কমায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। খবর রয়টার্স।
বেইজিংয়ে রবিবার শুরু হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্বাগত বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট শি বলেন, আমরা জন্মহার বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকরী নীতি প্রণয়ন করব এবং জনসংখ্যার বার্ধক্যের বিষয়ে জাতীয় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করব।
যদিও বিশ্বের ১৪০ কোটি লোকের দেশটির জনসংখ্যা বিশ্বের প্রথম। তবে দেশটির জনসংখ্যাবিদরা বলছেন, চলতি বছরে নতুন শিশু জন্মহার প্রথমবারের মতো এক কোটির নিচে নেমে আসতে পারে। গত বছর নতুন শিশু জন্ম হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ। ২০২০ সালের তুলনায় নতুন শিশু জন্ম ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
চীন ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশটি এক সন্তান নীতি বজায় রেখেছিল। পরে জনসংখ্যা হ্রাসের শঙ্কায় বাধ্য হয়ে তিন সন্তান নীতি গ্রহণ করে দেশটি। দেশটিতে ২০২১ সালে নারীদের গড় প্রজনন হার ছিল ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে বিশ্বের সর্বনিম্ন প্রজনন হারের দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিটি। বিশ্বের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ শতাংশের চেয়ে কম চীনের প্রজনন হার।
জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে কয়েক বছর ধরে কর্তৃপক্ষ ট্যাক্স কমানো, দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটি, উন্নত চিকিৎসা বীমা, আবাসন ভর্তুকি, তৃতীয় সন্তানের জন্য আকর্ষণীয় ভাতা প্রদান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ার খরচ কমিয়ে দেয়াসহ উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ুওয়া পপুলেশন রিসার্চ নামে একটি থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কর্তৃপক্ষের এতসব উদ্যোগ নেয়ার পরও চীনা নারীদের সন্তান ধারণের আকাঙ্ক্ষা বিশ্বের সবচেয়ে কম।
জনসংখ্যাবিদরা বলেছেন, কর্তৃপক্ষের এখন পর্যন্ত নেয়া উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তারা বলছেন, উচ্চশিক্ষা ব্যয়, নিম্নমজুরি, দীর্ঘকালীন কর্মঘণ্টা, কভিড-১৯ বিধিনিষেধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের সুরাহা না হলে এ সমস্যার আশু সমাধান নেই।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//