
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনিয়মের কারণে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ করে দেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ৯০ দশক থেকে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে আজকের রাজনৈতিক পরিবেশ ভিন্নও হতে পারত।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বর্তমান কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পরের নির্বাচনেও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সাখাওয়াত। সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা না থাকলে কী হবে, সেটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাহলে কিন্তু জাতির কাছে অন্য রকম একটা মেসেজ (বার্তা) যাবে যে আপনারা এটুকু দেখানোর জন্য করলেন। বাকিগুলো করলেন না।’
১২ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনের ভোট চলাকালে কেন্দ্রে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে ১৪৫ কেন্দ্রের সবগুলোর ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
এ ঘটনায় মতামত নিতে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও কমিশন সচিবদের আমন্ত্রণ জানায় আউয়াল কমিশন।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনাকারী আব্দুর রউফ, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনাকারী কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন পরিচালনাকারী কে এম নূরুল হুদা নির্বাচন কমিশনের ডাকে সাড়া দিয়ে আলোচনায় আসেন।
সাংবাদিকদের সাখাওয়াত বলেন, ‘ওনারা (আউয়াল কমিশন) গাইবান্ধা-৫ সংসদীয় আসনে যে অ্যাকশনটা নিয়েছে, আমি তাদের ওয়েলকাম জানিয়েছি। এই পর্যন্ত ঠিক আছে। এরপরের ধাপগুলো যাতে আপনারা স্লিপ না করেন।যদি করেন তাহলে জাতির কাছে অন্য রকম একটা মেসেজ (বার্তা) যাবে যে আপনারা এটুকু দেখানোর জন্য করলেন, বাকিগুলো করলেন না। দেয়ারফোর, আইন আপনাদের যে শক্ত অবস্থানে যেতে বলেছে প্লিজ ডু ইট।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে অ্যাটমোসফিয়ার (পরিবেশ) ঠিক নাই, তাহলে ইলেকশন আপনারা বন্ধ করতে পারেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি মনে করবেন যে পরিবেশ ঠিক হয় নাই, ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে পারবেন, কোথাও কোনো বাধা নেই।’
১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে মাগুরা ও ঢাকার মিরপুরের বিতর্কিত উপনির্বাচনের কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত বলেন, ‘১৯৯৪ যদি এটা করা হতো, তাহলে আজকে পলিটিক্যাল ফিল্ডটা অন্য রকম হতে পারত।’
এসময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকা উচিত বলেও মত দেন সাখাওয়াত হোসেন। বলেন, সরকার এখান থেকে কেন নিতে চাচ্ছে সেটা পরিষ্কার না। এটা যদি আলাদা হয়ে যায় তাহলে কোনো একসময়ে ভোটার লিস্ট নিয়ে কথা উঠবে, কারটা ঠিক।
যেসব দেশে আলাদা আছে সেখানে ভোটার তালিকা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জায়গাতে বর্তমান কমিশনকে সরকারকে বুঝাতে হবে।
বিনিয়োগবার্তা/এমআর//