
স্পোর্টস ডেস্ক: মোহাম্মাদ নাওয়াজের করা শেষ বলটা লং অফ দিয়ে ভাসিয়ে দিলেন রবিচন্দ্রন আশ্বিন। ব্যস, তাতেই সমাপ্তি ঘটলো আরেকটি ভারত-পাকিস্তান মহারণের। ম্যাচের পরতে পরতে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তাপ ছড়িয়ে আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪ উইকেটে হারালো ভারত।
রোববার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইফতিখার আহমেদ ও শান মাসুদের ফিফটিতে ভর করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। জবাবে শেষ বল পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।
পাকিস্তানের দেয়া ১৬০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই পাকিস্তানের পেসত্রয়ীর গতির সামনে অসহায় হয়ে পড়ে ভারত। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই লোকেশ রাহুলকে ৪ রানে বোল্ড করেন নাসিম শাহ।
এক ওভার পর রোহিত শর্মাকেও ৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান হারিস রউফ। এরপর আসেন সূর্যকুমার যাদব।। দলীয় ২৫ রানের মাথায় তাকেও ড্রেসিংরুমের পথ দেখান রউফ। তার আগে ১০ বলে ২ চারের মারে ১৫ রান করে যান যাদব।
তখনো একপ্রান্ত আগলে ছিলেন বিরাট কোহলি। যাদবের বিদায়ে পাঁচে নামা হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে দারুণ একটা জুটি গড়েন সময়ের সেরা এই ব্যাটার। পাল্টা আক্রমণ করে এগিয়ে যেতে থাকেন লক্ষ্যের দিকে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে গড়ে ফেলেন শতরানের এক অনবদ্য জুটি।
দু'জন মিলে স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর পাশাপাশি রান তুলতে থাকেন সমানে। এর মধ্যেই ১৮তম ওভারে শাহীনকে চার মেরে ৪২ বলে ফিফটিতে পৌঁছে যান কোহলি। ফিফটির পর পাকিস্তানি বোলারদের উপর চড়াও হন তিনি।
ধীরে ধীরে ম্যাচ পাকিস্তানের নাগালের বাইরে নিয়ে আসতে থাকেন কোহলি। চার ছক্কায় মাতাল করে ফেলেন গ্যালারী। তাতে শেষ ওভারে ভারতের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ১৬। নাওয়াজের করা ওভার থেকে প্রয়োজনীয় রান তুলে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে ভারত। ৫৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। উইকেটের সুবিধা নিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন আর্শদ্বীপ সিং ও ভুবনেশ্বর কুমাররা।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই পাকিস্তান হারিয়ে বসে তাদের অধিনায়ককে। গোল্ডেন ডাক মেরে ১ বলে ০ রানে ফিরেন বাবর। আর্শদীপ সিংয়ের দুর্দান্ত এক ডেলিভারি বাবরের প্যাডে লাগলে আবেদন হয়, আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।
বাবরের বিদায়ের খানিকবাদে একই পথ ধরেন রিজওয়ানও। দলীয় ১৫ রানের মাথায় তার উইকেটও হারিয়েছে পাকিস্তান। আর্শদ্বীপের বলে ভুবনেশ্বরের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তার আগে ১২ বল খেলে করে যান মাত্র ৪ রান।
বিপর্যয় যখন চোখ রাঙ্গাচ্ছে, ঠিক তখনি তিনে নামা শান মাসুদের সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়েন চার নম্বর ব্যাটার ইফতিখার আহমেদ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা দুজন গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৫৪ রানে জুটি। এর মধ্যে ইফতিখার ৩৪ বলে করেন তার ব্যাক্তিগত অর্ধশতক।
অর্ধশতক করার খানিকবাদেই ৫১ রানে শামির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ইফতিখার। তার ইনিংসটিতে ছিল ২ চার ও চার ছক্কার মার। এরপর হঠাৎ করেই ধ্বস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে। বল হাতে ধ্বস নামান হার্দিক পান্ডিয়া।
পান্ডিয়ার বলে একে একে বিদায় নেন শাদাব খান (৫), হায়দার আলী (২) ও মোহাম্মাদ নাওয়াজ (৯)। এরপর হার্ডহিটার হিসেবে পরিচিত আসিফ আলীকে দুই রানে বিদায় করেন আর্শদ্বীপ। তাতেই মূলত শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের বড় রান করার আশা।
এর মাঝে ৪০ বলে ৫ চারের মারে ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন শান মাসুদ। শেষ জুটিতে শাহীন আফ্রিদিকে নিয়ে ছোট্ট একটা জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন তিনি। ৮ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ১৬ রান করেন শাহীন। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৫ চারে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন মাসুদ।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//