
ক্রীড়া প্রতিবেদক: টি-২০ বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নাটকীয় জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তানকে ১ রানে হারিয়েছে সিকান্দার রাজারা।এই জয়ে ২ খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়স্থানে উঠলো জিম্বাবুয়ে। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলেও এখনও জয়ের দেখা পায়নি পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে পাকিস্তান। টি-২০তে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পাকিস্তানকে হারালো জিম্বাবুয়ে।
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থের এই ম্যাচে পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে স্কোর বড় করতে পারেনি তারা। ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে ৭ উইকেটে ১২৯ রানে থামে পাকিস্তান। ১ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে।
১৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক বাবর আজমকে হারায় পাকিস্তান। এরপর আবার দলীয় ২৩ রানে পাক শিবিরে আঘাত হানেন ব্লেসিং মুজারাবানি। ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। যদিও এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন শান মাসুদ। তবে খানিকবাদেই আবারও ইফতিখারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান।
এমন অবস্থা থেকে শান মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন শাদাব খান। দলকে জয়ের বন্দরে ভেড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই দুই ব্যাটার। তবে বড় আঘাত আসে ১৩তম ওভারে সিকান্দার রাজার বোলিংয়ে। এক ওভারে এই অলরাউন্ডার ফেরান হায়দার আলি এবং শাদাব খানকে। তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলাতে থাকে। এরপর অবশ্য পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে নেওয়ার জন্য মাসুদ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে থাকা অবস্থায় সেই রাজার বলে কাটা পড়েন মাসুদ। ম্যাচ তখনো দুলছিল পেন্ডুলামের মতো। পাকিস্তানের হয়ে এরপর চেষ্টা চালাতে থাকেন মোহাম্মদ নেওয়াজ এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম। তবে ঠিক ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে পারছিলেন না কেউই। শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২২ রান।
এরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নেওয়াজ, ১৯তম ওভারে নাগারাভার একটি বল মেরে দেন সীমানার বাইরে, ছক্কা। ফলে শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১১ রানের। তখনো চলছে উত্তেজনার পারদ, শেষ হাসি হাসবে কে? এমন অবস্থায় শেষ ওভারের প্রথম বলেই নেওয়াজ নিলেন ৩ রান। পরের বলেই ওয়াসিমের চার। এরপর সিঙ্গেল, পরেরপর ডট। ২ বলে ৩ রানের প্রয়োজন।
এমন সময়ে আউট নেওয়াজ। শেষ বলে প্রয়োজন ১ বলে ৩ রান। শাহীন আফ্রিদি স্ট্রেইট ড্রাইভে মেরে ২ রান নেওয়ার চেষ্টা করলেও ১ রানে থামতে হয়, রান আউটের কবলে পড়ে। ফলে জিম্বাবুয়ের জয় ১ রানে।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শাহিন আফ্রিদির প্রথম ওভারেই জিম্বাবুয়ে তুলে নেয় ১৪ রান। ফিরতি ওভারে আফ্রিদিকে আর বল দেওয়ার সাহসই করেননি অধিনায়ক বাবর আজম। ওয়েসলি মাধভেরে ও ক্রেইগ আরভিন দুজনই ছিলেন মারমুখী। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ৪২ রানের এই জুটি ভাঙেন হারিস রউফ।
১৯ বলে ২০ রান করে মোহাম্মদ ওয়াসিমের হাতে ধরা পড়েন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। এর পরপরই অপর ওপরনার মাধভেরেকে লেগ বিফোর করেন ওয়াসিম। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে জয়ী হয় পাকিস্তান। ১৩ বলে ১৭ রান করে ফেরেন মাধভেরে।
এরপর মিল্টন শুম্বাকে (৮) কট অ্যান্ড বোল্ড করেন শাদাব খান। উইকেটে আসেন সিকান্দার রাজা। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই বিস্ফোরক অলরাউন্ডার আজ ১৬ বলে মাত্র ৯ রান করেন।
পরের বলে নেই লুকি জঙ্গুই। সিন উইলিয়ামসও ২৮ বলে ৩১ রানে আউট হন। চারটি উইকেট পড়লেও স্কোর ৯৫ রান থেকে নড়েনি। শেষদিকে ব্রাড ইভান্স (১৯) আর রায়ান বার্ল (১০*) কিছু রান যোগ করলে ২০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৩০ রান।
পাকিস্তানের হয়ে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। ২৩ রানে ৩টি নিয়েছেন শাদাব খান। শহিন শাহ আফ্রিদি ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে আজও উইকেটশূন্য।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//