Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Friday, 28 Oct 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন: বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সময় হলে বুকটা দুর দুর করতে থাকে এই চিন্তায় যে- অসুস্থ রাজনীতির কারনে কত মায়ের কোল খালি হবে, কত হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট এবং ধ্বংস হবে- তার কোন হিসেব নাই। চারদিকে জ্বালাও পোড়াও, হরতাল -অবরোধ হবে।

 

বিএনপি জোট রণ প্রস্তুতি নিচ্ছে মরন কামড় দেয়ার জন্য, এবার ক্ষমতা চাই, চাই-ই। অন্যদিকে আওয়ামীলীগও বসে নেই! নিজের কর্মীর বাহিনীর পাশাপাশি রয়েছে সরকারী বাহিনী যারা চৌদ্দ বছর ধরে নৈতিক ও অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে, তারাও চাইবে না আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচু্ত্য হোক।

 

তাহলে এবার দেশের বা সাধারন মানুষের যারা রাজনৈতিক সুবিধাভোগী নয় তাদের কি হবে -ভাবতেই অজানা আশংকায় বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে।

গত পন্চাশ বছর ধরে এভাবেই চলছে, এভাবে কি কিয়ামত পর্যন্ত চলতেই থাকবে, এর কি কোনো সমাধান নাই?

 

অবশ্যই সমাধান আছে, শুধু দরকার দুইটা জিনিস।

এক : ২০০১ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অতীত সব ভুলে যাও, ক্ষমা কর এবং ভুলে যাও।

দুই: দলমত নির্বিশেষে সকলের আইন মেনে চলা ও দূর্নীতির লোভ সংম্বরন করা।

উপরোল্লেখিত দুটি শর্ত মানলে সমাধান অতি সহজ!!

আওয়ামী জোট ও বিএনপি জোট পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ৩০ বছরে পালাক্রমে ক্ষমতায় আসবে ৫ বছর একজোট দেশ চালাবে, অন্য জোট বিরোধী দলে থাকবে। যে জোট যখন বিরোধী দলে থাকবে তাদের প্রত্যেক সংসদীয় এলাকায় একজন করে ছায়া সংসদ সদস্য থাকবে -যিনি তৃনমুলের দলীয় নেতা কর্মীদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন এবং সরকারের যতজন মন্ত্রী থাকবে, বিরোধী দলেরও ততজন ছায়া মন্ত্রী থাকবে।

 

ছায়া মন্ত্রী ও ছায়া সংসদ সদস্যগন সরকারী বেতন ভাতা মন্ত্রী ও সংসদের সমপরিমান পাবেন, তাদের  কাজ হবে সরকারী দলের সংসদ (তারাও তৃনমুলের নেতা কর্মী দ্বারা নির্বাচিত হবেন) ও মন্ত্রীরা দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি করলে তা রিপোর্ট আকারে সংসদে পেশ করা, সরকার আইনে হস্তক্ষেপ করবে না, আইন মোতাবেক দোষী সাব্যস্ত হলে সংসাদ, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিচার হবে।  যে কোন বৈদেশিক চুক্তি,  বড় বড় প্রকল্প ও আইন সংসদে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ভোটাভোটির মাধ্যমে হবে এবং এক্ষেত্রে সংসদ সদ্স্যরা ফ্লোর ক্রস করতে পারবে।

 

সরকারী চাকুরী ও প্রমোশন মেধার ভিত্তিতে হবে কেউ তাতে হস্হক্ষেপ করতে পারবে না, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি কমিশন সম্পূর্ন স্বাধীন থাকবে।

এভাবে দুইজোটের সমন্বয়ে দেশ ৩০ বছর চালাতে পারলে দেশ থেকে দুর্নীতি চিরতরে দূর হবে, ৩০ বছরে দেশ উন্নত দেশের কাতারে চলে যাবে। এতে কোনো রকম মারামারি, ভোট কেন্দ্র দখল করা লাগবে না ।

 

আমাদের প্রজন্ম ও পরের প্রজন্ম এভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে নতুন প্রজন্ম যারা আসবে – তারা দুর্নীতি অনিয়ম কি বুঝবে না, দেশ চির শান্তির দিকে দাবিত হবে। বিদেশীদের কাছে ক্ষমতায় থাকার জন্য বা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্ণা দেয়া লাগবে না। আর কারও সাথে শত্রুতা নয়, সবদেশের সাথে সম্পর্ক হবে শান্তি ও বন্ধুত্বের।

লেখক: প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, পি.ইন্জি, পিএমপি, কানাডা প্রবাসী।