
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের হাতে আগামী ১ জানুয়ারি নতুন বই তুলে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
তিনি বলেন, ‘কদিন আগেই যারা কাগজ তৈরি ও বিক্রি করেন তাদের সঙ্গে আমাদের সভা হয়েছে। তাদের আমার দিক থেকে যে বার্তা দেওয়ার, তা দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, তারা তাদের দেওয়া কথা রাখবেন এবং আমরা ১ তারিখেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারব। তারপরও যদি কেউ কথার খেলাপ করেন, তাহলে তখন আমাদেরও ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যবস্থা নিতে আমরা পিছপা হব না।’
শনিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে ১ তারিখে বই তুলে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। বই আমাদের লাগবেই এবং সেটা ১ তারিখেই লাগবে। কারণ সন্তানদের শিক্ষার সঙ্গে জড়িত এ বিষয়ে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। আশা করছি, যারা যে কথা দিয়েছেন, সেই কথার মধ্যেই থাকবেন। ভিন্ন দিকে যাবেন না।’
মন্ত্রী বলেন, আমরা একটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বই এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বসবাস করি না। সারা বিশ্ব আজ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের দামামা বাজছে, সেখানে এই মুহূর্তেই আমরা সুসংবাদ পেয়ে যাব, সেটা বলতে পারছি না। কিন্তু আমাদের টিকে থাকতে হবে। সমস্যা নিরসনে যতটুকু ভালো কাজ তা কিন্তু থেমে নেই।
এ সময় তিনি কাগজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
এর আগে কাগজ সংকটের কারণে যথাসময়ে পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নেতারা। তাদের দাবি পাঠ্যপুস্তক ছাপাতে যে পরিমাণ কাগজ প্রয়োজন তা পাওয়া যাচ্ছে না। কাগজ মিল মালিকরাও এই সুযোগ নিয়ে কয়েকগুণ দাম বৃদ্ধি করেছেন। এ অবস্থায় দাম কমানো ও বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত কাগজ না আনলে জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন বলেন, কিছু পুস্তক প্রকাশনী আছে, যারা ডোনেশনের নামে নীতিমালা ভেঙে প্রকাশনা শিল্প এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। তাদের পরাজিত করতে আমরা নিষেধাজ্ঞা দিব। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের সহযোগিতা লাগবে।
সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, কাগজ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগামী বছরের জন্য বিনামূল্যে বই ছাপাতে যে পরিমাণে কাগজ প্রয়োজন তার ৫০ শতাংশ কাগজ শুল্কমুক্ত আমদানি না করলে ১ জানুয়ারি বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া সভায় আরও দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ওসমান গণি, সাবেক সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন, সহসভাপতি শ্যামল পাল ও মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুস্তক বাঁধাই ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহবুবুল আলম মল্লিক প্রমুখ।
এর আগে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির আয়োজনে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ চত্বরে বইমেলার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বার্ষিক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি।
বিনিয়োগবার্তা/এমআর//