
নিজস্ব প্রতিবেদক: তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রকল্পে ৫২ শতাংশ ব্যয় বাড়ছে। টাকার অঙ্কে এই ব্যয় বৃদ্ধির পরিমান ৩৬২ কোটি টাকা। মূল প্রকল্পের ব্যয় ধরা ছিল ৬৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এখন এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হচ্ছে একহাজার ৫৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, বিমান ভাড়া, ডলারের সাথে টাকার মান কমে যাওয়া ও আরও অন্যান্য কিছু কারণে এই ব্যয় বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।
প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি দ্বিগুন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল প্রস্তাবে ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ এমআইইউ (৬.৬ টিবিপিএস)। এটি বাড়িয়ে ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটির লক্ষ্যমাত্রা ২ এমআইইউ (১৩.২ টিবিপিএস) নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া এসএমডব্লিউ-৬ বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে কোর অংশে ৮ জোড়া ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে খরচের সুবিধা বিবেচনায় ১০ জোড়া ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অন্যান্যের মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবল ক্যাপাসিটি ইনিশিয়াল লাইট-আপ-এর জন্য ১০ লাখ ডলার ব্যয় বাড়ছে, ব্যয় বাড়ছে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি ও ডলারের দাম বাড়ার কারণেও।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রকল্পের সক্ষমতা বাড়ার কারণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর আগামী বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। মূল প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিএসসিসিএল-এর অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
সংশোধনী প্রস্তাবে সরকারি অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াচ্ছে ৪৭৬ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বিএসসিসিএল-এর অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াচ্ছে ৫৭৯ কোটি টাকা।
মূল প্রস্তাবে প্রকল্পটি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে সময়সীমা ১ বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের ক্যাবল রুট হচ্ছে কক্সবাজার থেকে একদিকে সিঙ্গাপুর এবং অন্যদিকে ফ্রান্স পর্যন্ত।
সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সংযুক্ত সী-মি-উই-৬ সাবমেরিন ক্যাবলটি ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর হয়ে ভূ-মধ্য সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
ক্যাবলটির কোর ল্যান্ডিং স্টেশন হবে সিঙ্গাপুর, ভারত, জিবুতি, মিশর ও ফ্রান্সে। বাংলাদেশের ব্রাঞ্চটি বঙ্গোপসাগর হয়ে কক্সবাজারের ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
কক্সবাজার ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হবে।
জানা গেছে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসসিসিএল সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ সেবা প্রদান করে আসছে।
দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডব্লিউ-৪ ২০০৫ সালে এবং দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডব্লিউ-৫ ২০১৭ সালে চালু করা হয়। ব্যান্ডউইথ ব্যবহারে বর্তমানে বিএসসিসিএল-এর মার্কেট শেয়ার প্রায় ৬০ ভাগ।
বিএসসিসিএল ও আইটিসি ব্যান্ডউইথ ব্যবহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বছরে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ছে। আগামীতে এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমান আরও বাড়বে।
বিনিয়োগবার্তা/এমআর//