
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকে টাকা না থাকার বিষয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ব্যাংকে টাকার কোনো সমস্যা নেই। দেশের প্রতিটি ব্যাংকে টাকা আছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি কথা আমি বলতে চাই, কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। ব্যাংকে টাকা নাই, টাকা নাই বলে মানুষ টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমি আগেও বলেছি এখনো বলি, এদের চোরের সঙ্গে কোনো সমঝোতা আছে কিনা। যেন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখলে চোরের পোয়াবারো হয়, চোর চুরি করে খেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এসডিজি সচিব, অর্থ সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। আজ সকালে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছি। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। প্রতিটি ব্যাংকেই টাকা আছে। কাজেই আমি বলব, গুজবে কেউ কান দেবেন না। এসব মিথ্যা কথা বলে, ভাঁওতাবাজি করে কেউ কেউ বিভ্রান্ত করতে চায়। একটা শ্রেণী আছে, তারা এটা করছে, কারণ মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী।’
উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমে গিয়েছে। মানুষের খাবারের অভাব নেই। প্রচুর পরিমাণে খাবার আছে। আল্লাহর রহমতে উৎপাদনও ভালো হয়েছে। প্রত্যেকটা বিষয় আমরা আগে থেকে লক্ষ রাখি, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। উন্নত দেশগুলো যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সে অবস্থায় বাংলাদেশ তো অনেক ভালো আছে।’
তবে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে বাংলাদেশেও তার ধাক্কা লাগবে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। সেজন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজেই খাদ্য যেমন উৎপাদন করতে হবে, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। প্রত্যেককে আমি বলব, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সুইচটা অফ করতে হবে। মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জারের সুইচটা অফ করে দিতে হবে। প্রত্যেকে এভাবে সাশ্রয়ী হতে হবে। আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা, সে ধাক্কা যেন বাংলাদেশে না লাগে। এদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।’
ছাত্রলীগ কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ছাত্রলীগ যেন প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের মেধা বিকাশের একটা সুযোগ পায় এবং সে অনুযায়ী কাজকর্ম করতে পারে সেটাই আমি চাই।’
বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন শেখ হাসিনা। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। আর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য উত্তোলন করেন দলীয় পতাকা। পরে পায়রা অবমুক্ত করে ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ছাত্রলীগের দলীয় সংগীত গাওয়া হয়।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//