
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাধারণ জনগণের আইনের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন (এলকপ) “সকলের জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং ন্যায্যতা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ও মত বিনিময় সভা সম্পন্ন করেছে।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২২) ঢাকার ধানমন্ডিস্থ এলকপের প্রধান কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করে। সভাটি এলকপের ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মাসুম বিল্লাহ।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়, ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক, ড. উলফাত হোসেন, ড. শারফুদ্দীন আহমেদ, ড. মিহির কুমার রায় প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভার সঞ্চালক হিসেবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এলকপের সম্মানিত সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে মানবিক মর্যাদা, স্বাধীনতা ও ন্যায্যতার ধারণা, বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা, বাংলাদেশে মানবাধিকারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে এ ধরনের সভা ও মত বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক একটি প্রবন্ধ পরিবেশনের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু করেন ড. মাসুম বিল্লাহ। তার প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের সংবিধানে মানবিক মর্যাদা, স্বাধীনতা ও ন্যায্যতার ধারনা কীভাবে উল্লেখিত হয়েছে তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে যৌক্তিক বিধি নিষেধ ও স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে আঞ্চলিক, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের ধারণা ও প্রয়োগ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন দারিদ্র্য, মৌলবাদ ও তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য সমস্যা সমাধানের পূর্বে মানবাধিকারের ধারণাগুলোর যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব নয়।
এছাড়াও সভায় সংখ্যালঘু অধিকার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতি, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানবাধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন আবু নাসের খান, আবদুর রাজ্জাক, ড. মিহির কুমার রায়, সুভাষ সিংহ রায়, ড. শারফুদ্দীন আহমেদ, ড. উলফাত হোসেন ও ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া।
এলকপের সম্মানিত সভাপতি ও আলোচনা সভার সঞ্চালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। তিনি তার সমাপনী বক্তব্যে মানবাধিকারের এবং আইনের শাসনের প্রতি দেশের ও জনগণের আনুগত্য ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সকাল ১১টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//