
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আগ্রহীদের সংখ্যা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কনস্যুল জেনারেল নাথান ফ্লুক।বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কনস্যুল জেনারেল নাথান ফ্লুক। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
ভিসা জট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাথান ফ্লুক বলেন, ‘কভিড-১৯ এর সংক্রমণে ভিসা কর্মকর্তা ও আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যগত প্রেক্ষাপট ভিসা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশে এখনও ব্যাকলগ আছে। আমি এবং আমাদের দল এ ভিসা জট নিয়ে কাজ করছি। তবে এখন আর দুই বছর সময় লাগছে না। জট কমিয়ে আনতে আমাদের অনেক কর্মী স্বেচ্ছায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কাজ করছে। এছাড়া জট কমিয়ে আনতে আমরা সাক্ষাতের সংখ্যা বাড়িয়েছি। তবে এখনও জট আছে, আমরা কাজ করছি। আশা করছি, আমরা জট কমে আসতে দেখবো। ভবিষ্যতে ভিসা সংক্রান্ত আরো বেশি রিসোর্স আমরা পাবো এমনটা আশা করছি। সময় কমিয়ে নিয়ে আনতে বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের অনেক মানুষ আছে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়। কভিড-১৯ সৃষ্ট জটের পর সংখ্যাটা এখন সব সময়ের চেয়ে বেশি। এ প্রেক্ষাপটে শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করে নয়, জট কমানোর বিস্তৃত পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’
লিখিত বিবৃতিতে কনস্যুল জেনারেল বলেন, ‘কভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বজুড়ে আমরা আমাদের কর্মী ও ভিসা আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে কাজ করতে হয়েছে বলে এসব পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের দূতাবাসগুলোতে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। আমাদের কর্মী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং কনসুলার সেবাপ্রত্যাশী ভিসা আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’
তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারি, আরো অনেক সেবার মতো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতে বাধ্য করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, এবং আমাদের কনসুলার ওয়েটিং রুমের মতো উন্মুক্ত পরিসরে বিধিনিষেধের ফলে ভিসা আবেদনকারীদের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাতের সামর্থ্য কমে এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, অনেক আবেদনকারীকেই সশরীরে হাজির থাকতে হয় বলে এসব সীমাবদ্ধতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। ভিসা সাক্ষাত্কারের অপেক্ষার সময় কমানোর জন্য উদ্ভাবনী উপায় বের করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
কনস্যুল জেনারেল বলেন, গত ছয় মাসে, আমাদের কনসুলার সদস্যরা সপ্তাহান্তেও কাজ করেছেন এবং অভিবাসী ও অনভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন বিশেষ কর্মদিবসে, যেটিকে আমরা ডাকি 'সুপার ফ্রাইডে' বলে। এই সুপার ফ্রাইডেগুলোতে অপেক্ষার সময় কমানোর জন্য আমরা শিক্ষার্থী ও পর্যটকসহ ৩ হাজার চারশোর বেশি অনভিবাসী এবং প্রায় ৬০০ অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাত্কার নিয়েছি।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//