
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ২০৯ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ভোমরা শুল্ক স্টেশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বন্দরের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের জন্য ৪৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৬৬ কোটি ১৫ লাখ, আগস্টে ৮৪ কোটি ৪১ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ, অক্টোবরে ১০০ কোটি ৮৮ লাখ এবং নভেম্বরে ৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্য নেয়া হয়।
এর বিপরীতে পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। জুলাইয়ে ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ, আগস্টে ৫৫ কোটি ২ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫৪ কোটি ৬০ লাখ, অক্টোবরে ৪০ কোটি ৯৫ লাখ এবং নভেম্বরে ৪২ কোটি ৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৯ কোটি ৪১ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ বন্দরে রাজস্ব আদায় হয় ৩২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, সাম্প্রতিক রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ ব্যবসায়ীদের ব্যাংকে এলসি খুলতে না পারা। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংক এলসি খুলছে না। ফলে আমদানি-রফতানিও কমে গিয়েছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নেয়ামুল হাসান রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের শুরুতে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক মন্দা দেখা দেয়। করোনা সংকট কাটিয়ে যখন বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসারের প্রত্যাশা করা হচ্ছিল ঠিক তখনই ডলার সংকট দেখা দেয়।
তিনি আরো বলেন, বন্দরের চালিকাশক্তি পণ্য আমদানি-রফতানি, যা গত কয়েক মাসে ব্যাপক কমেছে। এজন্য সরকারের রাজস্বও কমে গিয়ে ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। তবে আগামী মাসগুলোয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঘাটতি কমবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভোমরা স্থলবন্দরের জন্য চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ১ হাজার ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭১ কোটি ৯১ টাকা বেশি। ওই সময় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
বিনিয়োগবার্তা/কেআই/এসএএম//