Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 25 Dec 2022 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

ড. মিহির কুমার রায়ঃ  বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির বিগত ২০ ডিসেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার বিকাল ৩:০০ টায় মহান বিজয় দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে ‘মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তন,  ফার্মগেট, ঢাকায়। উক্ত অনুষ্ঠানে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী, আমির হোসেন আমু এমপি, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. শামসুল আলম, প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, এবং সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  স্বাধীনতা পুরস্কার এবং পদ্মশ্রী পদকপ্রাপ্ত  লেঃ কর্নেল (অবঃ) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীরপ্রতীক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সম্মানিত সভাপতি ও সাবেক সিনিয়র সচিব,  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সাজ্জাদুল হাসান।

সম্মানিত আলোচক বিজয় দিবসের এই আলোচনায় তার পাকিস্থানে অবস্থিতির স্মৃতিচারন ও পরবর্তিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ, শুরু হওয়ার পর পাকিস্থান থেকে ভারত হয়ে তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্থানে আগমনসহ সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন ইত্যাদির এক প্রায়গিক ভিত্তিক বর্ণনা  দেন যা ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে এক বিরল অজানাকে জানার কাহীনি। তার আলোচনায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর পাকিস্থানের ফেসিবাদের কারাজীবন নিয়ে অনেক অজানা ঘটনা, সরকারের সাথে তার কথোপকথন ও পরবর্তিতে কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশের  মাটিতে আগমন ইত্যাদি। তখন পাকিস্থান সরকারের পক্ষ থেকে যতই প্রস্তাব আসছিল না কেন বঙ্গবন্ধু তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন  বিধায় তারি সোনার ফসল আমাদের বাংলাদেশ যা প্রতিটা বাঙ্গালীর গর্বের বিষয় হয়ে রইল।

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তার দির্ঘ্য রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর সহচর্য বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ত্রিশ লাখ শহীদের জীবন আত্মদানের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা। তিনি ইতিহাসের দিকে ফিরে গিয়ে বলেন ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্থানের কর্মী সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুবলীগ গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে বাংলা ভাষার দাবির স্বপক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্থান মুসলিম ছাত্রলীগ আর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এই সংগঠনটির ভূমিকা খুবই স্মরণীয়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ছাত্র লীগের ১০ দফা দাবির মধ্যে পাকিস্থানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালীদের নিয়োগ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষার দাবি ছিল অন্যতম দাবি। ১১ মার্চের - ১৯৪৮ সালে গ্রেফতার  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের এক টার্নিং পয়েন্ট। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ১১ মার্চের গুরুত্ব  এবং গ্রেফতার প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নয়, মূলত শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ  ছাত্র লীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠনের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগ সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল ১৯৪৯  সালের ঢাকার ‘‘রোজ গার্ডেনে’, গোলাপবাগে তখন শেখ মুজিব ছিলেন কারা অন্তরালে বন্দী। দলটি আওয়ামী লীগ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত যত ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে,  তার প্রতিটির মুখ্য চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৯৭১ সালের ২৬  মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্থানের অফিস-আদালত কোর্ট-কাচারি,  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই যে, আজ থেকে এই  বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারি, আদালত-ফৌজদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে কষ্ট না হয়,  যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেজন্য সমস্ত অন্যান্য যে জিনিসগুলো আছে, সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা,  গরুর গাড়ি, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, সেমি-গভর্নমেন্ট দপ্তর,  ওয়াপদা—কোনো কিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপর যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা  গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যা  কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছইু— আমি যদি  হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ তার এই ঘোষণা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশের  বিভিন্ন প্রান্তে। শুরু হয় দখলদার পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ। এরি আগের দিনে ২৫ মার্চ, ১৯৭১  কালরাতে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে পাকিস্থান সেনাবাহিনী স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র, নিরপরাধ বাঙালিদের ওপর আক্রমণ ও  হত্যাযজ্ঞ শুরু করে নীল নকশা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ অনুযায়ী। অপারেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাকিস্থানি বাহিনী পরিকল্পনা অনুযায়ী ধানমন্ডি  ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুরান ঢাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, তত্কালীন ইপিআর সদর  দপ্তর পিলখানাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালায়। অপারেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী শুধু ঢাকা শহর নয়,  আক্রমণ পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, যশোর, দিনাজপুর, রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন বড় শহরে।  এবং একি দিনে সারাদেশে তেত্রিশ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। তাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতার  ৯ মাসের সংগ্রামের মধ্যে এ মাসেই বিধায় তাই ডিসেম্বর মাসটি একদিকে  বিজয়ের অপরদিকে বেদনার, বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধে তাদের স্বজনদেরকে হারিয়েছেন সেই সকল শহীদ পরিবারগুলো। প্রধান অথিতির বিজয়ের মাসের এই বক্তব্য থেকে নূতন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ধারনা পাবে যা হবে মক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনের একটি সুযোগ। 

বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ  ও পরিকল্পনাবিদ প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় তার বক্তব্যে স্বাধীনতার একান্ন বছরের বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অর্জন উল্লেখ করে বলেন বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে স্বদেশ  প্রত্যাবর্তন করলে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এবং ১২ জানুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। বঙ্গবন্ধুর একক প্রচেষ্টায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ৭২ - এর ১২ মার্চ বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ৭-৮  এপ্রিল আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু আবার সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর পর মাত্র ১০  মাসের মধ্যে ‘৪ নভেম্বর বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণয়ন করেন,’ ৭৩-এর ৭ মার্চ  জাতীয় সংসদের সফল নির্বাচন সম্পন্ন করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৬টি দেশের  স্বীকৃতি এবং ‘কমনওয়েলথ অব নেশনস্’, ‘জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন’, ‘ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা’ ও ‘জাতিসংঘ’সহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশ গড়ার জন্য বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছেন। যে মুহূর্তে যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশকে স্বাভাবিক করেন, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দেন, ঠিক তখনই ঘাতকের নির্মম বুলেটে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ১৯৭৫ এর ১৬ই আগষ্ঠ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। তার দুই কন্যা দেশের বাহিরে থাকায় প্রাণে বেঁচে এবং ছয় বছর পর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহন করেন যিনি আজ  দেশের একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেশে বিদেশে সন্মানীত। আজ বিজয়ের মাসে পেছন ফিরে তাকালে আমাদের স্বস্তির অনেক কারণ পাওয়া যায় এবং এ ৫১ এর বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে। আরও উল্লেখ্য যে এই নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে বিশ্বের যে সকল রাষ্ট্র্রের সরকারপ্রধান, সাংবাদিক, ভারতীয় সৈন্য  যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের পরিবারবর্গ যারা বিজয়ের পথে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছিলেন তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানীত করা হয়েছে, দেশের  সূর্যসন্তানদের (মুক্তিযোদ্ধা) জন্য বিশেষ মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠা, তাদের সন্তানদের জন্য চাকুরীতে কোঠা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য   ভাতা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পূনর্বাসন প্রভৃতি ছিল  মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের অন্যতম ঘটনা।

বিশেষ অতিথি আরও বলেন ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৪৭ শতাংশ। ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, শ্রমশক্তির ৪০.৬২ শতাংশ এখনো কৃষিতে নিয়োজিত, মানে কৃষি এখনো নিয়োগের বড় ক্ষেত্র। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব  দিয়েছিলেন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫১ বছরে দেশের প্রধান প্রধান শস্য উৎপাদন তিন থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের এ ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কৃষি নীতির পথ ধরেই প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা এ খাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বছরের বাজেটে ১৬  হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি ছাড়াও আরও ১৫ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে  কৃষি খাতের উন্নয়ন ও কৃষকদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে রূপকল্প ২০৪১,  চলমান অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০  এবং অন্যান্য পরিকল্পনা দলিলের আলোকে সরকার কৃষির উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আধুনিক ও বিরূপতা সহনশীল জাতের উদ্ভাবন, ফসলের নতুন ধরনের উদ্ভাবন, পানিসাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি আবিষ্কার, ভূ-উপরস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ এলাকার সম্প্রসারণ, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষি উপকরণের ভর্তুকি বৃদ্ধি, কৃষি পণ্যের গুণগত মাননিয়ন্ত্রণ, খাদ্য শস্যের পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধাদি নিশ্চিতকরন ইত্যাদি। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী দেশ, পাট রফতানিতে প্রথম ও উৎপাদনে দ্বিতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে তৃতীয়, কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, আলু উৎপাদনে ষষ্ঠ দেশ, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে তৃতীয় এবং মাছ চাষে পঞ্চম, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, ইলিশ উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ও  তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ এবং এশিয়ায় তৃতীয়। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রক্রিয়াজাত শিল্পে উৎপাদিত শস্যজাতীয় খাদ্য, হিমায়িত সবজি, ফল, আলুজাতীয় খাদ্য, ভেষজ খাদ্য, চিনিজাতীয় খাদ্য, মধু, মাছ ও অপ্রচলিত মাছজাতীয় খাদ্য, পোলট্রি ও দুধজাতীয় খাদ্য রফতানি করে থাকে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শস্য খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ফলন ব্যবধান সর্বনিম্ন করা; কৃষি পণ্যের দাম স্থিতিশীল করা; কৃষকদের মুনাফা ও নিরাপত্তার উন্নতি বিধান; জলবায়ুসহিষ্ণু উৎপাদনে শস্য পণ্য বহুমুখীকরণ; কৃষির সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ বৃদ্ধি করা; ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ সুবিধাদি সহজীকরণ; উচ্চমানের গবেষণা ও বিতরণ সেবার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করণ; প্রাকৃতিক সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। এখন আমাদের লক্ষ্য হবে খাদ্য স্বয়ম্ভরতা অর্জন ও বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের মাধ্যমে পুরো কৃষি খাতকে বৃহৎ খামারভিত্তিক প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক খাতে পরিণত করা। ক্ষুদ্রায়তন কৃষি থেকে আমাদের ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসতে হবে। এরি মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কৃষি জমি রক্ষায় কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো কৃষি জমি সংরক্ষন ও তার যথাযথ ব্যবস্থাপনা, পতিত জমি চাষ করে উৎপাদন বৃদ্ধি, মাটি দূষন-পরিবেশ দূষন রোধ ইত্যাদি। করোনার মহামারীর সময়ও কৃষি খাত  দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, টেকসই কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে এ দেশের অতীত সোনালি গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারবে। তিনি একটি বক্তৃতায় বলেছেন, ‘সোনার বাংলার জন্য সোনার লোকের দরকার। বাংলাদেশ নির্যাতন, নিপীড়ন ও  লুটপাটে জর্জরিত। এ সমস্যা সমাধান এবং সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনে জণগণকে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য  কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভাপতি বলেন কৃষি অর্থনীতি সমিতি একটি পেশাজীবি সংগঠন যার মূল কাজ কৃষি তথা কৃষকের উন্নয়নে নীতি সহায়তা প্রদান বিশেষত: গবেষনার উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে। আজকের এই বৈশ্বিক পরিমন্ডলে আসুন আমরা সকলে মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নূতন এক বাংলাদেশ বির্নিমানে এগিয়ে আসি এবং সরকারের হাতকে শক্তিশালী করি শোষনমুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ায়। 

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবি হউক।  

লেখক: সাবেক জৈষ্ঠ্য সহ সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি: অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, সিটি ইউনিভার্সিটি,  ঢাকা -১২১৬।