Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 16 Jan 2023 18:36
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরায় মরা নদীর পানি সরতে না পারায় ফসলি জমিতের বছরের পর বছর আটকা পড়েছে কচুরিপানা। আর দিন দিন তার বাড়তে বাড়তে বিশাল স্তুপে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি আগাছা, পোল্ট্রি ফার্মের বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলায় মাটি ও পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। আর এই কচুরিপানার স্তুপে গত প্রায় ৭ বছর ধরে আটকে আছে প্রায় এক হাজার একর জমির শতাধিক কৃষকের স্বপ্ন। এসব কচুরিপানা পরিস্কার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে এবারও এসব জমিতে বোরো আবাদ বেস্তে যাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।

জানা যায়, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তালুককান্দি এলাকায় ২শ গজের মধ্যেই অবস্থিত ইউপি কমপ্লেক্স, ঐতিহ্যবাহী তালুককান্দি বাজার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। আর এসব প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাহমুদাবাদ পুরাতন ফেরিঘাট হতে তুলাতলী হয়ে মেঘনায় চলে যাওয়া ব্রক্ষপুত্রের শাখা বর্তমানে যা মরা নদী নামেই পরিচিত। এই মরা নদীতে প্রায় ৭ বছর ধরে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় ফসলি জমিতে পর্যায়ক্রমে কচুরিপানা ও আগাছা জমতে থাকে। ফলে প্রায় ৭ বছর ধরে কোন ধরনের চাষাবাদ করতে পারছে না এ এলাকার শতাধিক কৃষক। সেই সাথে জমিতে যুক্ত হয় নদীর তীরে থাকা পোল্ট্রি ফার্মের বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা পাশাপাশি এসবের দূগর্ন্ধে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পথচারীসহ স্থানীয়রা।

শুধু তাই নয়, এ নদীতে পানি প্রবাহ থাকাকালীন সময়ে এ এলাকার কৃষকরা ধানের পাশাপাশি শত শত গবাদীপশুর গো খাদ্য সংগ্রহ ও গোসল করাতো। নদীতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবাদী পশু পালন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে এলাকার কৃষকরা।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের মরা নদীতে জমে আছে কচুরিপানা। ছয়-সাত বছর ধরে কচুরিপানা জমে থাকার কারণে জমিগুলো প্রায় জঙ্গলায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ইউপি ভবনের নাকের ডগায় গড়ে উঠা দুটি পোল্ট্রি খামারের বিষাক্ত ময়লা আবর্জনা প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে নদীতে। কৃষকরা পানিতে নামলে শরিরে চুলকানিসহ নানাবিধ জীবানুতে আক্রান্ত হচ্ছে। পোল্ট্রি খামারের ময়লা-আবর্জনার দুগন্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারীসহ শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

আলী আকবর গান্ধী, আব্দুল হাই সহ বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, “এসব জমিতে গত ৬/৭ বছর আগেও চাষাবাদ করে ভালো ধান উৎপাদন করতাম আমরা। জমিগুলো আমাদের রোজগারের অন্যতম মাধ্যম ছিলো। কিন্তু পানি চলাচল ধিরে ধিরে কমতে থাকায় কচুরিপনাগুলো জমিতে আটকা পড়ে যায়। ফলে ছয়-সাত বছর ধরে আমরা কোন ধরণের চাষাবাদ করতে পারছি না। এছাড়াও আগে আমরা প্রচুর পরিমানের গরু-ছাগল পালন করতাম। এখন সেপথও বন্ধ হয়ে গেছে।”

আবুল কাশেম নামে এক কৃষক বলেন, যদিও কখনো কখনো কোন কৃষক নিজ খরচে কচুরিপনা পরিস্কার করে চাষাবাদ করতে যায়, তখন পোল্ট্রি খামারের বিষাক্ত পানির ভয়ে কেউ জমিতে নামতে আর সাহস পায়না।

আলমগীর হোসেন নামে অপর একজন কৃষক বলেন, আমি কিছুদিন আগে ৩০শতক জমির কচুরিপনা পরিস্কার করতে প্রায় ৫হাজার টাকা খরচ করেছি। এতোটাকা খরচ করে চাষাবাদ করে লাভ কি?

এব্যাপারে কথা হয় মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হোসেন ভূইয়ার সাথে। তিনি কৃষকদের এসব সমস্যার সত্যতা শিকার করে বলেন, এই কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। তিনি কৃষকদের কল্যানার্থে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি এখানে যোগদান করেছি বেশীদিন হয়নি, তাই সব এলাকা সম্পর্কে আমার জানা বা ধারণা নেই। এ বিষয়টিও আমি অবগত নই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ইঞ্চি জমি কাজে লাগাতে হবে। এরই প্রেক্ষিতে এসব জমিগুলো যদি ব্যবহার উপযোগি করে তোলা যায় তাহলে কৃষকদের পাশাপাশি দেশের উপকারে আসবে। আমি ইউএনও মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে জমিগুলো ব্যবহার উপযোগি করে তোলার চেষ্ঠা করবো।

পরিবেশ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, পরিবেশ দূষনের বিষয়টি আমি আমলে নিলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ব্যাপাওে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। সরজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে, সরকারি সহযোগিতা ছাড়া স্থানীয়দের দিয়ে এসব জমি আবাদীযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বন কর্তৃপক্ষ চাইলেই কৃষকদের সেই সোনালী দিনগুলি ফিরিয়ে দিতে পারবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিনিয়োগবার্তা/এমআর//এসএইচআর//