
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পোশাক শিল্প সংকট নিরসনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ানোর ভার বহনের ক্ষমতা পোশাক শিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের নেই।’ রোববার চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে বিজিএমইএ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ফারুক হাসান বলেন, ‘চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের অপ্রতুলতা রয়েছে। কারখানায় ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালানো হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এরপর চলতি বছরে এসে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গত বছরের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার আবাসিক খাত এবং সার ও চা শিল্প ছাড়া অন্য সব খাতে গ্যাসের দাম ১৪ থেকে ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, এটা কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৩০ টাকা হবে। বড় শিল্পের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে ১৫০ শতাংশ বেড়ে ৩০ টাকা হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্প খাতের বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ব্যয় বাড়ার এ ভার বহনের সক্ষমতা নেই।’
গ্যাস আমদানির ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, রফতানিমুখী শিল্পের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতকে আরো গুরুত্ব দিতে। গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। গ্যাস সঞ্চালনে সিস্টেম লস কমিয়ে আনুন, অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে মূল্য সমন্বয় করুন। এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত।’
শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক শিল্প খাত ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।’
সংকটের মাঝেও গত বছর বাংলাদেশ পোশাক শিল্প রফতানিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত বছর বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ৪৫ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির নতুন রেকর্ড করেছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের চেয়ে গত বছর পোশাক রফতানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।’
পোশাক রফতানির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ ব্যবসায়ী নেতা আরো বলেন, ‘গত অর্থবছরে আমাদের পোশাক রফতানি বাড়ে ৩৫ শতাংশ। চীন থেকে গত কয়েক বছরে অনেক ক্রয়াদেশ দেশে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এর পরিমাণ আরো বাড়বে। চীন যেহেতু পরিবেশগত কারণে টেক্সটাইল থেকে সরে আসছে, ফলে সংগত কারণে সেগুলো আমাদের দেশে আসবে বলে ধারণা করছি। আমরা এ সুযোগ ভালোমতো গ্রহণ করতে চাই।’ এ সময় বিজিএমইএর সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রাকিবুল আলম, শাহিদুল আরিফ উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//