
নিজস্ব প্রতিবে: বেলজিয়ামের রানী মাথিলদে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের কল্যাণে পোশাক শিল্পের অবদান প্রত্যক্ষ করতে নারায়ণগঞ্জে একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের টেকসই ও দায়িত্বশীল উৎপাদনের দিকে উত্তরণ এবং শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে অগ্রগতির প্রশংসা করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ফকির অ্যাপারেলস লিমিটেড পরিদর্শনকালে রানীর সঙ্গে ছিলেন। তিনি পোশাক শিল্প কীভাবে লাখো লাখো মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে, তাদের জন্য সমাজের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্তির পথ প্রশস্ত করে দিয়ে তাদের জীবনে ইতিবাচক যে পরিবর্তন এনে দিয়েছে, তা রানীকে অবহিত করেন। তিনি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রভৃতি ক্ষেত্রগুলোয় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অনুকরণীয় অর্জনগুলো সম্পর্কেও রানীকে অবহিত করেন।
ফারুক হাসান রানীকে বিজিএমইএর টেকসই কৌশলগত রূপকল্প-২০৩০ সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, ‘এ রূপকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে এমনভাবে ত্বরান্বিত করা যা টেকসই হবে এবং অর্থনীতি, পরিবেশ ও জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক শিল্পের লক্ষ্য হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি এবং ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার হ্রাস করা এবং টেকসই কাঁচামাল এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।’
বিজিএমইএ সভাপতি বেলজিয়ামের রানীকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ইতিবাচক গল্পগুলো বৈশ্বিক প্লাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ জানান।
রানীর কারখানা পরিদর্শনকালে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পোটিআইনেন এবং বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন।
ফকির অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির মনিরুজ্জামান বেলজিয়ামের রানীকে স্বাগত জানিয়ে কারখানায় অত্যাধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব চর্চা ও প্রযুক্তি এবং শ্রমিকদের কল্যাণে কারখানার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগগুলো দেখান।
জাতিসংঘ মহাসচিব রানী মাথিলদেকে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধিকারী একজন অনুপ্রেরণাদায়ক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ২০২১-২৩-এর জন্য ১৭ জন এসডিজি অ্যাডভোকেটদের একজন নিযুক্ত করেন।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//