Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 14 Dec 1901 02:45
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম: সুনামগঞ্জ জেলার রক্ত রাঙ্গা শিমুল বাগান দেখার জন্য যখন ভ্রমণ পিপাসুরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে তখন আমাদের দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ’র বন্ধুরাও বাদ যায়নি। অনেকে শুধু বাগান ঘুরেই আবার ফিরতি পথ ধরেছিলেন। কিন্তু সেই জেলাতেই যে আরো কত রকমের মায়াবি প্রকৃতির ছড়াছড়ি রয়েছে তা হয়তো জানা ছিল না অনেকের। প্রায় একশত কেয়ার [ত্রিশ শতাংশে এক কেয়ার] জমির উপর সৃজন করা শিমুল বাগানে তাঁবু টানিয়ে রাত্রি যাপন আর ঝলসানো আগুনে দেশী মোরগের গোস্ত পুড়ে খাওয়ার মজাই ছিল অন্যরকম আনন্দের। সেই সঙ্গে বাগানের ভিতরেই ভাতের পাতে হাওরের রুই আর গুড়া চিংড়ী। ওহ্ আর বলা যাবেনা, এখনো জ্বিভে জল চলে আসে। হুট করেই এমন আয়োজনের জন্য তাহিরপুরের মুক্তিযুদ্ধা পরিবারের সন্তান, সহকারি স্কুল শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম মনু আপুকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করা যাবে না। মূলত উনার বদান্যতায়ই দে-ছুট বন্ধুদের কিসমতে এরকম রসনা বিলাস।

 

আমাদের এহেন কান্ডে এতক্ষণ আশপাশ থেকে যারা এসে জড়ো হয়েছিল, রাত বাড়ার সাথে সাথে তারা যে যার মতো চলে গেল। একসময় পুরো বাগান জুড়ে শুধু আমরাই ৬জন। রাত্রি যখন গভীর, সুনসান নিরীবিলি শিমুল বাগান জুড়ে নৈশব্দ। সঙ্গী তখন চৌধুরীর অনবরত কর্কশ নাক ডাকার আওয়াজ আর মাঝে মধ্যে দু-চারটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ। তাতে করে মন্দ লাগেনি। বাগানের পাশেই নদীর পানি বয়ে চলেছে অজানায়। মায়াবিনী জাদুকাটা নদীর ওপার ভারতের মেঘালয় প্রদেশের সিমান্ত চৌকির উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাতিগুলো জ্বল জ্বল করছিল। ভর বসন্তেও ছিল শীতের হীম হীম হাওয়া। প্রকৃতির নিস্তব্ধতাও ভিন্নরকম ভালো লাগার। যা আপনার ভাবুক মনকেও নদীর পানির মতো নিয়ে যাবে দূর অজানায়। ভাবুক মনের ক্লান্তি দেহে ভর করলে - এক সময় ঘুমের দেশে হারিয়ে যাই। উঠি খুব সকালে। সূর্যাস্তের বিকেল আর সূর্যোদয়ের সকালে এরকম দুটো সময়েই আমরা শিমুল বাগানের রূপ-রঙের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে বেশ আপ্লুত হই। বাগানের পাশের এক বাড়ীতে দ্রুত সাফসুতর হয়ে, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা স্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদ ভাই’র নিকট বিদায় নিয়ে বাইকে করে ছুটি নেত্রকোণার কমলাকান্দার পথে। কিছুটা পথ এগিয়েই থামি গিয়ে লাউড়ের গড় বারেকটিলা। একটি পিলার দিয়েই ভারত-বাংলাদেশের সীমানা চিহ্নীত করা হয়েছে। পাশেই জাদুকাটা নদীর দৃষ্টি নন্দন তীর। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন ধুধু মরু প্রান্তর। অসাধারণ এক নজরকাড়া প্রকৃতি। চা চক্র শেষে আবারো ছুটি।

 

ভারত সিমান্তের উচুঁ উচুঁ পাহাড়ের পাদদেশ বাংলাদেশ সিমান্তের সড়ক পথে মটর সাইকেল চলে দুর্বার গতিতে। বাইক এসে থামে টেকের ঘাট শহীদ সিরাজ লেক। টলটলে নীলাভ পানির লেক। চার পাশে উচুঁ নিচু পাহাড় আর টিলার মাঝে লেকটির অবস্থান। অতি উৎসাহীরা নীলাদ্রি নামে ডেকে থাকে। কেউবা বাংলার কাশ্মির হিসেবেও সম্বোধন করে থাকে। তবে যে যা নামেই ডাকুক না কেন শহীদ সিরাজ লেকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য। এরপর ছুটে চলি টাঙ্গুয়া হাওরের পানে। মটর বাইক চলে সরু পথ ধরে। মাঝে লাকমাছড়া খানিকটা বিরতি। সাদা পাহাড়ের পাশে বেশ ভালোই লাগে। এবার যাচ্ছি বাগলী বাজার। অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাই। স্থানীয় এক দোকানে চলে যার যা ইচ্ছে মতো পুরি, সিঙ্গারা, ছোলা, পিয়াজু, মুড়লি, মিষ্টি আর গরুর দুধের মাস্তি। ইতিমধ্যে আজাদ ভাইর পরিচিত শেখ মস্তফা ভাইও লোকজন পাঠিয়ে দিয়েছেন। দে-ছুট বন্ধুদের নিয়ে যাবে ইন্দ্রপুর গ্রামে। সেখানে রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওর। সবাই রেডি-বাইক স্টার্ট। ছুটছিত ছুটছি, একসময় ইন্দ্রপুর গ্রামের মায়াময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে হাওরের বুক চিরে আমরা এগিয়ে যাই। বর্ষায় যখন হিজল কড়চ গাছগুলো প্রায় ডুবু ডুবু তখন এই মৌসুমে আমরা সেখান দিয়ে হেঁটে বেড়াই। জলের ধারে পৌঁছে নাও পাই কিন্তু মাঝি নাই। অগত্যা নিজেরাই নাও বাহিয়া হাওরের স্বচ্ছ জলরাশিতে ভেসে বেড়াই। হাওরের এপাশটা মাছের অভয়াশ্রম। তাই পাখির দেখাও মিলে বেশ। বেলা প্রায় তিনটা। পেটেও টান পড়েছে। যাই এবার মহিষখোলা। যাওয়ার পথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কিভাবে এই সল্প লিখনিতে প্রকাশ করব তা ভেবে পাচ্ছি না। শুধু এতটুকুন বলব-যখন বাইক এগিয়ে যাবে তখন মনে হবে আপনি যেন দূর পাহাড়ের কোথাও সব পিছুটান ছুড়ে ফেলে, সুখি নব জীবনের দ্বার প্রান্তে। প্রায় সীমান্ত ঘেষা পথে ছুটছি। আগে থেকেই অস্থির ইফতেখার সেখানে অবস্থান করে বাজারের এক হোটেলে লাল আলু দিয়ে দেশী মোরগের ঝোল আর নানান পদের ভর্তার আয়োজন করে রেখেছে। ঘন্টা খানেকের মধ্যেই মহিষখোলা বাজারের হোটেলে পৌঁছে যাই। আহ্ কী ঘ্রাণ। কোন মতে হাত মুখ ধুয়ে বসে যাই খেতে। একেকজনের খাওয়ার ভাব দেখে মনে হল যেন কত বছর ধরে এরকম সুস্বাদু খাবার পাতে জোটে না! খাবার শেষে এবার যাই নেত্রকোণা’র কলমাকান্দা। বিদায় ভাটির দেশ সুনামগঞ্জ। পাহাড়ের পাদদেশের সড়ক পথে মটর বাইকে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত ভ্রমণ ঝুলি সমৃদ্ধ করবে। চৈতা নতুন বাজার হতেই প্রাকৃতিক রুপের রানী নেত্রকোণা জেলা শুরু। আজ থাক এই পর্যন্তই। পরের কোন এক সংখ্যায় কলমাকান্দার গল্প হবে।

যোগাযোগঃ- ঢাকার গাবতলী বা সায়েদাবাদ হতে সুনামগঞ্জ নানান পরিবহন চলাচল করে। সুনামগঞ্জ সুরমা ব্রিজ হতে মটর বাইক বা লেগুনায় সরাসরি শিমুলবাগান। সেখান থেকে মটর বাইকে নেত্রকোণা। 

বাসভাড়াঃ- ঢাকা-সুনামগঞ্জ এসি, নন এসি পরিবহনভেদে ভাড়া নির্ধারণ করা রয়েছে। মটর বাইক, লেগুনা ভাড়া দরদাম করে নেয়াটাই উত্তম হবে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//