
ময়মনসিংহ ব্যুরো: ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এক উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে।নতুন রূপে সেজেছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরী। ব্যানার-ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে ছেয়ে গেছে নগরীর প্রতিটি সড়ক-অলিগলিসহ ব্রহ্মপূত্র পাড়।
শনিবার (১১ মার্চ) ময়মনসিংহে আগমন করছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় ভাষন প্রধান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
ময়মনসিংহ ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।এছাড়া এ জনসমাবেশ হবে ময়মনসিংহের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে- মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো যেমন, মাসকান্দা বাসষ্ট্যান্ড, চরপাড়া মোড় এলাকা,রেলওয়ে স্টেশন, টাউন হল মোড়, কাঁচিঝুলি এলাকা,গাঙ্গিনাপাড় মোড় এলাকা, পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকা,চায়না মোড়,নদীর ওপার শম্ভূগঞ্জের গোলচত্বরসহ মোড়গুলো,নগরীর নতুন বাজার এলাকা, টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড, ত্রিশাল বাসষ্ট্যান্ড,শিকারীকান্দা এলাকা এবং দিগারকান্দাসহ নগরীর প্রত্যেকটি মোড় ও বিভিন্ন সড়ক নানা রং বে রঙে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে।
শনিবার (১১ মার্চ) কে ঘিরে নাগরিক সংগঠনগুলো তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করেছেন। জন উদ্যোগ নামের সংগঠন প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১৮ দফা এবং নাগরিক আন্দোলন নামের আরেকটি সংগঠন ২৩ দফা দাবি পেশ করেছেন।
জন উদ্যোগের আহ্বায়ক এ্যাডঃ নজরুল ইসলাম চুন্নু জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা ১৮ দফার দাবি পেশ করেছেন।
নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম জানান, নাগরিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন সার্ভিসের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু, বিভাগীয় নগরী স্থাপন, এসকে হাসপাতালের উন্নয়ন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ময়মনসিংহ-সিলেট ট্রেন সার্ভিস চালুসহ আরো বেশকিছু বিষয়ের উপর তিনি দাবি জানিয়েছেন।ড়
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণ সঞ্চার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা জনসভা সফল করতে মাঠে দিন রাত কাজ করে চলেছেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে নেতাকর্মীরা গাড়ি বহরে মিছিল নিয়ে বাদ্য-বাজনা সহকারে সমাবেশে যোগ দেবেন বলে আশা করছি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মসিক মেয়র ইকরামুল হক টিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ময়মনসিংহবাসীর মনে আনন্দের বন্যা বয়ে বেড়াচ্ছে।সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহবাসীর জন্য যা চিন্তা করেছিলেন, আমার মনে হয় তার চেয়ে অনেক বেশি আমাদের দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ময়মনসিংহ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, শিক্ষা বোর্ড স্হাপন, স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নদী খনন কর্সসূচীসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমরা যখন যা দাবি করেছি তার সব কিছুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের উপহার দিয়েছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে আগমন উপলক্ষে প্রায় শতাধিক প্রকল্পের শুভ উদ্ধোধন ঘোষনা করবেন।
জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহম্মেদ ভূঞা জানান,প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বেশ কয়েক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জনসভার দিন নগরীর শহর এলাকা জুড়ে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে এবং সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবেন।
বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।আমরা চেষ্টা করবো এ সমাবেশের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিনত করতে এবং আমরা আশা করছি প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশী লোকজন এসমাবেশে অংশ নিবে।
উল্লেখ্য যে- ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভাগ ঘোষনার পর ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর সার্কিট হাউজের জনসভায় ১০৩ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৯৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিনিয়োগবার্তা/এসএসএইচএ//এমআর//