
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রতিবছর ৫-৬ শতাংশ হারে ধরে রাখা গেলে ২০৪০ সালের আগেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এমনকি এর বেশিও হতে পারে। এজন্য আমাদের সক্ষমতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বাসও রাখতে হবে।’ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’-এর সমাপনী দিনের সংবাদ সম্মেলনে সোমবার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন। দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখায় শেষদিন পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ১০ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেয় ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ সংগঠনটি।
মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা মনে করি এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে নতুন করে যে সেতুবন্ধ তৈরি হয়েছে, তা আগামীতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমরা খাদ্য বা কৃষি ব্যবসাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। এটিকে কীভাবে আরো বেশি আধুনিক করা যায়, কীভাবে মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসা যায়, সে কাজ করছি। দেশের রফতানি আয় বাড়াতে এ ব্যবসার একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে।’
বিজনেস সামিটের সাফল্য তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আমাদের এ সামিটে রেজিস্ট্রেশন করে ৮৯৬ জন অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে তিন শতাধিক ছিলেন বিদেশী ডেলিগেট। সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছেন ৫৬ জন প্রতিনিধি। এর মধ্যে ২৩ জন ছিলেন দেশটির সরকারের প্রতিনিধি এবং বাকিরা বেসরকারি খাতের। সৌদি চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে আমাদের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। তাদের সঙ্গে একটি বিজনেস কাউন্সিল করতে যাচ্ছি। তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। আর সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষর হয়েছে চারটি সমঝোতা স্মারক।’
এদিকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখায় পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ১০ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেয় এফবিসিসিআই। এর মধ্যে বিজনেস লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে দুজন; শিল্প, বাণিজ্য, সেবা এবং কৃষি ও কৃষি বাণিজ্যে চারজন; তরুণ উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে একজন; ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে দুজন এবং নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে একজন সম্মানিত হন। এছাড়াও জুরি বোর্ডের বিশেষ ক্যাটাগরিতে দুজনকে সম্মানিত করা হয়েছে।
বিজনেস লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে এফবিসিসিআই বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান এবং বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী। দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য শিল্পে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন অলিম্পিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুবারক আলী, কৃষি ও কৃষি বাণিজ্যে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। সেবা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
এছাড়া বাণিজ্যে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন রশীদ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল করিম মুন্না, ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিউস সামি আলমগীর। নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে কারিগরের ম্যানেজিং পার্টনার তানিয়া ওয়াহাব এবং তরুণ উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহান পুরস্কার পেয়েছেন।
জুরি বোর্ডের বিশেষ সম্মাননা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং ঐতিহ্য ও কারুশিল্প গবেষক মালেকা খান। আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী সাবিনা ইয়সামিন এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন যাত্রার সাহসী সারথি হিসেবে শিল্পোদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বেশকিছু আইন ও প্রবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া পুরনো আইন ও বিধিমালা সংশোধন এবং আধুনিকায়ন করা হয়েছে।’
পুরস্কার গ্রহণের পর সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এফবিসিসিআইকে এখানে এ পর্যন্ত নিয়ে আসার পেছনে মাহবুব ভাইয়ের অনেক বড় অবদান ছিল। উনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে এফবিসিসিআইতে প্রক্সি বোর্ড ছিল তিনি। তখন নিয়মিত নির্বাচন হতো না। তিনি সভাপতি হিসেবে প্রক্সি বোর্ড তুলে দেন। তার অবদান অনেক।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি এমএ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবীব উল্লাহ ডন, এমএ রাজ্জাক খান রাজ প্রমুখ।
তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট-২০২৩’-এর গত ১১ মার্চ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এফবিসিসিআই এ সামিটের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন খাত নিয়ে ১৭টি সেমিনার ও তিনটি প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, চীন, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সাত দেশের মন্ত্রী এবং ১২টি বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী, বিশ্বের ১৭টি দেশের দুই শতাধিক বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী নেতা অংশ নেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//