
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে বর্তমান সরকার এমনভাবে গড়ে তুলছে যাতে বাংলাদেশ কোনোভাবে আক্রান্ত হলে তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে। আমরা যদিও কারো সঙ্গে যুদ্ধ করব না। তার পরও কখনো তেমন পরিবেশ-পরিস্থিতি হলে যেন আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারি সেভাবেই আমাদেরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমাদের বাহিনীগুলোকেও সেভাবেই তৈরি করে দিচ্ছি।’
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনির্মিত ‘বানৌজা শেখ হাসিনা’ সাবমেরিন ঘাঁটির গতকাল কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কক্সবাজারের পেকুয়ায় নবনির্মিত ঘাঁটির সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটির প্রধান কমডোর এম আতিকুর রহমানের কাছে কমিশনিং ফরমান হস্তান্তর করেন। এর পরই ঘাঁটিতে প্রথমবারের মতো পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাবমেরিন ঘাঁটির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত অডিও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনও প্রদর্শিত হয়।
জাতির পিতার দিয়ে যাওয়া পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সে নীতিতেই বিশ্বাস করি, কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। তবে আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক, তারা সব ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করুক সেটাই আমরা চাই।’
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সেখানে কর্তব্য পালনে তারা যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকে সেভাবেই আমরা বাহিনীগুলোকে প্রস্তুত করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ সমুদ্রসীমায় আমাদের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে তা যেন আমাদের অর্থনীতিতে কাজে লাগে সেজন্য “ব্লু ইকোনমি” নীতি বাস্তবায়ন করছে সরকার। তাছাড়া এক্ষেত্রে আমাদের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা থেকে শুরু করে অনেক সুযোগ রয়েছে কাজ করার। বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরো জোরালো হবে।’
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//