Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 21 Mar 2023 00:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি বছরের মতো এবারো বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘২০২২ কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিসেস’ শীর্ষক বার্ষিক এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদের মনোভাব, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার, সাংবাদিক নিপীড়ন, শিশুশ্রমসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।  

প্রতি বছর ১৯৮টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক এ মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বহাল থাকেন। তবে ব্যালট বাক্স ভর্তি এবং বিরোধী পোলিং এজেন্ট ও ভোটারকে ভয় দেখানোসহ নানা কারণেই এ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে পর্যবেক্ষকরা প্রতিবেদন দেন।

প্রতিবেদনে গত বছরের বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে দেয়া বিবরণে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নাগরিকের প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক আচরণ, শাস্তি, নির্যাতন বা মামলা, কারাগারে জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী পরিবেশ, নির্বিচারে গ্রেফতার বা আটক, রাজনৈতিক বন্দি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বাধা এবং অন্য দেশে অবস্থানরত ব্যক্তির ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর বেআইনি হস্তক্ষেপ, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার পরিবারের সদস্যদের শাস্তি দেয়া, বাক্ স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের ওপর গুরুতর বিধিনিষেধ, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হুমকি, অন্যায়ভাবে গ্রেফতার বা বিচারের মুখোমুখি করা; ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর বিধিনিষেধ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর হস্তক্ষেপ, সংগঠন, তহবিল বা বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের ওপর বিধিনিষেধমূলক আইনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া শরণার্থীদের চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, উদ্বাস্তুদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর গুরুতর এবং অযৌক্তিক বিধিনিষেধ, সরকারি দুর্নীতি; দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে হয়রানি বা সেগুলোর ওপর বিধিনিষেধ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার জন্য তদন্তের অভাব এবং জবাবদিহিতার অভাব, যার মধ্যে গৃহনির্যাতন, যৌন সহিংসতা, শিশু নির্যাতন, বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে, স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ এবং শিশুশ্রমসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক চর্চা উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রতিবেদনে। 

এ বিষয়ে গতকাল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতি দিয়ে জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার চুক্তিগুলোর আলোকে বিশ্বের ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চলের স্থানীয় মানবাধিকার এবং শ্রমিকের অধিকারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গত পাঁচ দশক ধরে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। দেশ ও অঞ্চলভিত্তিক এ প্রতিবেদনে কোনো আইনি সিদ্ধান্ত দেয়া হয় না কিংবা মানবাধিকার পরিস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর কোনো ক্রমতালিকা বা তুলনাও করা হয় না।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘স্বতন্ত্র ব্যক্তির অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন একটি অধিকতর নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী বিশ্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করে। মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার মধ্য দিয়ে দেশ হিসেবে আমাদের পরিচিতির মূল দিকটি ফুটে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্র সম্মান, শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিয়মিত মানবাধিকারের বিষয়গুলো বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে ধরছে। আমরা এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখব।’

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//