Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 17 Apr 2023 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:  চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশী তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে মোট পোশাক রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এদিকে তুলনামূলক নতুন বা অপ্রচলিত বাজার জাপান ও ভারতে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪৯ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য থেকে বিজিএমইএর সংকলনকৃত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে তৈরি পোশাক রফতানির অর্থমূল্য ছিল ১ হাজার ১৪০ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির অর্থমূল্য ছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ হিসেবে দুই দেশ মিলিয়ে পোশাক রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘ক্রয়াদেশ কমায় বাংলাদেশের বড় দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে পোশাক রফতানি কমেছে। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মোট রফতানির ভ্যালুতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। আর তা হয়েছিল ইউনিট প্রাইস ও হাই-ভ্যালু পণ্যের জন্য। বর্তমানে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে টিকে থাকতে আমাদের অনেক নীতিসহায়তা প্রয়োজন হবে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এমনিই কমে এসেছে। এর ওপর আরো চাপ পড়বে, যদি পলিসি সাপোর্ট নিশ্চিত করা না হয়। পাশাপাশি এনবিআর ও কাস্টমসের প্রক্রিয়াগুলোও সহজীকরণের প্রয়োজন রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পোশাক খাতে নতুন নতুন রফতানি বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। তুলনামূলক উচ্চমূল্যের পোশাকের ক্রয়াদেশও আসছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানির মতো পুরনো বড় বাজারগুলোয় সরবরাহ কমছে। বাজারের চাহিদা বিবেচনায় দেশগুলোর শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারী ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ও এইচঅ্যান্ডএমের মতো কোম্পানির ক্রয়াদেশ কমেছে। যার প্রভাবেই দেশ দুটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে। সাধারণত প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে এইচঅ্যান্ডএম প্রায় ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলারের পোশাক কেনে। এছাড়া ওয়ালমার্ট কেনে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের পোশাক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারের জন্য বাংলাদেশের পোশাকের অন্য বড় ক্রেতারা হলো প্রাইমার্ক, সিঅ্যান্ডএ, গ্যাপ ও ভিএফ। এদের বিক্রি কমেছে বলেই বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়েছে।

বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চে (নয় মাস) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির অর্থমূল্য ছিল ৬২৫ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির অর্থমূল্য ছিল ৬৫৮ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। এ হিসাবে রফতানি কমেছে ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে জার্মানিতে পোশাক রফতানি হয় ৫১৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে পোশাক রফতানি হয় ৫৩৭ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।

এদিকে প্রধান দুই বাজারে পোশাক রফতানি কমলেও তুলনামূলক নতুন বা অপ্রচলিত বাজারগুলোয় রফতানি প্রবৃদ্ধির চিত্র বেশ ইতিবাচক। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে জাপানে পোশাক রফতানি হয়েছে ১২২ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৮৪ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে দেশটিতে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

ভারতে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক রফতানি হয়েছে ৮৩ কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয় ৫২ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে দেশটিতে রফতানি বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

জাপান, ভারত ছাড়াও বাংলাদেশী পোশাকের অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ব্রাজিল। সব দেশেই চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক রফতানি বেড়েছে। তবে মোট রফতানিতে এ দেশগুলোর অংশ ১৫ শতাংশেরও কম হওয়ায় তা রফতানির ভিত শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//