
ড: মিহির কুমার রায়: বর্তমান সরকার আমলের শেষ বাজেট হওয়ায় অনেকেই এটিকে ‘নির্বাচনি’ বাজেট হিসাবে আখ্যায়িত করছেন যা স্বাভাবিক ভাবেই বৃহদাকার হবে মনে করা যায়। এরি মধ্যে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে সরকার। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি সীমার মধ্যে রাখা, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের লক্ষ্যকে বাস্তবায়নযোগ্য করে বাজেট জনবান্ধব করার দাবি উঠেছে নাগরিক সমাজের মধ্যে। তিনটি চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে যেমন ভর্তুকি, সুদ ব্যয়, রাজস্ব বাড়ানো নিয়ে আন্তর্জ্যাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ ইত্যাদি নিয়ে ৭.৫ শতাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে যেখানে প্রাথমিকভাবে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৫ লাখ কোটি টাকা, ঘাটতি বাজেট দাঁড়াবে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা যা জিডিপির ৫.৩ শতাংশ হবে, আর এডিপির আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এখানে উল্লেখ্য যে আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে ভর্তুকি ও সুদ ব্যয়ে এবং গত বছরের তুলনায় ভর্তুকি ও সুদ খাতে কমপক্ষে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ ব্যয় বাড়বে, ভর্তুকি কমপক্ষে এক লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়াবে, আর সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ১ লাখ ২ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা। বৈঠকে প্রাক্কলনে দেখানো হয়, নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের ফলে এরই মধ্যে আমদানি কমছে, এতে শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কম হবে। আর উৎপাদন কম হলে রাজস্ব আদায় কমবে, এরপরও প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। অবশ্য চলতি অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সর্বশেষ বিশ্বব্যাংকের ফোকাসে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’ এবং ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির’ ভার্চুয়াল বৈঠকে এটি চূড়ান্ত করা হয়। ওই বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো আছে এবং ভালো সূচক নিয়ে আমাদের আগামীতে ভালো করতে হবে। তাই আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতা বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ব্যাংকের সুদ হার বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হবে। তবে ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে মূল্যস্ফীতিকে। আগামী অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ এবং শীর্ষস্থানীয় কজন অর্থনীতিবিদের মতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে, বরং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মূল্যস্ফীতির হার ‘ডাবল ডিজিট’ অতিক্রম করে যেতে পারে। একইভাবে সংশয় সৃষ্টি করেছেন জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং তা অর্জনের ক্ষেত্রে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়, মূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা করতে গরিব মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বাড়ানো হবে ইত্যাদি। তবে এখনো আর্থিক চাপ রয়েছে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ যেমন নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের ফলে এরই মধ্যে আমদানি কমছে, এতে শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কম হবে, আর উৎপাদন কম হলে রাজস্ব আদায় কমবে, এরপরও প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ ধরার যৌক্তিকতা কি। পরিকল্পানমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, আগামীতে নারীর মজুরিবিহীন গৃহকর্মকে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এ জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজকে (বিআইডিএস) গবেষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নারীর মজুরিবিহীন গৃহকর্মকে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহ রয়েছে বলেও মন্ত্রী তথ্য প্রকাশ করেন। নারীর মজুরিবিহীন গৃহকর্মকে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগ অবশ্যই যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ হলেও এ ব্যাপারে পদ্ধতিগত জটিলতা রয়েছে যা সহজে সমাধানযোগ্য নয়। অবশ্য চলতি অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার, তবে সর্বশেষ বিশ্বব্যাংকের ফোকাসে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.৩ শতাংশ আর ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড বলেছে, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.৫ শতাংশ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সব ধরনের ভাতা ও ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়, নতুন করে প্রস্তাব দেওয়া হয় ২৪ লাখ সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়াতে। ফলে এ খাতে বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, এছাড়া টিসিবি, ওএমএস কর্মসূচির কারণে এ খাতে ভর্তুকি বাড়বে ১৩শ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা, আর অভ্যন্তরীণ ঋণের ৮০ শতাংশ নেওয়া হবে ব্যাংকিং খাত থেকে, বাকি ২০ শতাংশ নেওয়া হবে সঞ্চয়পত্র থেকে। তবে আগামীতে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আয় বাড়াতে সংস্কার কার্যক্রমে হাত দেবে, ভ্যাট আদায় বাড়াতে জুন থেকে ইএফটি মেশিন স্থাপন কার্যক্রম শুরু করা হবে, বাড়ানো হবে কর আদায়ের ক্ষেত্র। রিজার্ভ বাড়ানো নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে, রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য রেমিট্যান্সে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে অর্থনীতিতে এসব সূচক যদি ঠিক না হয় তাহলে অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি হবে। এ বছর জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়ে কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে, ভর্তুকির চাপ কমাতে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি তিন মাস অন্তর সমন্বয় করা হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্ববাজারের গড় মূল্য ধরে এটি করা হবে। বৈশ্বিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় নিয়ে এক ধরনের শঙ্কায় আছে সরকার। সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে আগামী অর্থবছরের জন্য এনবিআর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা, এর মধ্যে এনবিআর কর হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর কর ২০ হাজার কোটি টাকা এবং এনটিআর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। আগামী বাজেটে সবচেয়ে বড় অঙ্কের মূসক আদায়েরও ছক কষা হয়েছে, যার পরিমাণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৩৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর আদায়ে ব্যর্থতার কারণে আইএমএফ ভ্যাটের মতো পরোক্ষ কর আদায়ের এই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে অথচ সরকারের যত কর আছে, তার মধ্যে এই ভ্যাটই হচ্ছে সবচেয়ে অন্যায্য ও অন্যায় কর যা ব্যবসায়ীদের ভ্যাট কর ফাঁকির সুযোগও অবারিত আছে, বাংলাদেশে কর-জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশের আশে পাশে রয়েছে এই ১৭ কোটি মানুষের দেশে যা বিস্বয়করও বটে এবং কর আদায়ে সীমাহীন ব্যর্থতা অন্যদিকে আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা, রাজস্ব আদায়, ডলারের দর এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ-সংক্রান্ত উৎকণ্ঠা নিরসনের চেষ্টা সংবলিত লক্ষ্য থাকবে বলে অনেকেই মনে করছেন। কিন্তু আইএমএফের বহুল আলোচিত ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের প্রথম কিন্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার হাতে পাওয়ার পর বাকি কিস্তির অর্থ ছাড়করণের জন্য সংস্থাটির শর্তের চাপ নতুন বাজেটকে যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে, সে ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিভিন্ন সময়ে যে তথ্য-পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যারা নিয়মিত বাজারে যাতায়াত করেন, তারা জানেন মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কীভাবে বিপন্ন করে তুলছে। প্রতিবছরই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়, কিন্তু মানুষের আয়-রোজগার তেমন একটা বাড়ে না, ফলে সাধারণ মানুষ এখন খুবই কষ্ঠের মধ্যে রয়েছে, যারা অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ কামিয়ে নিচ্ছেন, তাদের জন্য মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে না, কিন্তু টিসিবির ট্রাক সেলের লাইন দেখলেই অনুধাবন করা যায় মানুষ এখন কেমন পর্যায়ে আছে। বাংলাদেশে মোট বৈদেশিক ঋণের কিংবা মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত তা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া বড়ই দুর্লভ এবং এ অংকটি যে একেবারেই কম নয় তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। এরি মধ্যে বৈশ্বিক সংকট, রফতানিতে ভাটা, আমদানিকৃত পন্যের উপর শর্ত আরোপ, রেমিট্যান্সের উঠানামা, ডলারের বিনিময়ে টাকার মূল্যমানে ধস সার্বিক পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে যার স্বল্পমেয়াদী কোন প্রকার সমাধান নেই। আইএমএফ প্রতিনিয়তই বলছে বাংলাদেশ তাদের বৈদেশিক মূদ্রার স্থিতি নিরুপনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখছে না, রাজস্ব আদায়ে নিম্নগতি যা সরকারকে ভাবিয়ে তুলছে শ্যাম রাখি না কুল রাখির মত অবস্থায়। এখানে উল্লেখ্য যে ডলার সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও ঋণপত্র বা এলসিতে কড়াকড়ি আরোপের ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয় কমেছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের নয় মাস ঘাটতি থাকা রাজস্বের অর্ধেকেরও বেশি আমদানি পর্যায়ের (কাস্টমস)। এ খাতে ঘাটতির পরিমাণ ১৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যেখানে মোট ঘাটতি ২৯ হাজার ৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, গত অর্থবছরে যদিও তা ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, কাস্টমস থেকে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক (ভ্যাট) থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম নয় মাস অর্থাৎ মার্চ পর্যন্ত কাস্টমস থেকে ৮৩ হাজার ১৮৭ কোটি, ভ্যাট থেকে ৯৫ হাজার ১৪৫ কোটি এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৭৬ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যদিও এর সবক’টি খাতেই এ সময়ে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এনবিআর। সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি কাস্টমসে, এর পরই ভ্যাট খাতে ঘাটতি ৮ হাজার ২৪৪ কোটি এবং আয়কর ও ভ্রমণ করে ৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা ঘাটতি। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, অর্থবছরের বাকি তিন মাসেও রাজস্ব আয়ে ঘাটতি অব্যাহত থাকবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। বরং বছর শেষে কাস্টমস খাতে বড় ঘাটতি তৈরি হবে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাজেটের অন্যান্য খাতেও। বিশেষ করে নতুন শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ ও উৎপাদন কমে যাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে তৈরি হবে ধীরগতি, ফলে ভ্যাট ও আয়করের ওপরেও তার প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। এর মধ্যে দেশে ডলারের সংকট থাকায় আমদানি নীতিতে কড়াকড়ি, ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়া, ঋণপত্র খুলতে না পারা, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বিলাসী দ্রব্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয় কমে গেছে। এনবিআরের কাঁধে চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য চাপালে অর্থনীতিবিদরা সেটিকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে অসম্ভব বলেই তাদের মত। অবশ্য ‘আশাবাদী’ এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগিরই ডলার সংকট কেটে যাবে। অর্থবছরের শেষ সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে আবারো গতি ফিরবে, রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
বিশ্লেষনে দেখা যায় একমাত্র নির্বাচনী বছর ছাড়া বাংলদেশের ইতিহাসে প্রায় শতভাগ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না সরকারী প্রকাশনায় এবং বর্তমান আর্থিক বছরে কি হবে তা সময়ই বলে দেবে। সরকারের হাতে মাত্র দুমাসেরও কম সময় রয়েছে এবং বাজেট বাস্তবায়নের অদক্ষতা কাটিয়ে যদি সাফল্যে পৌছনো যায় তা হবে একটি দৃষ্টান্ত যা আগে হয়ত তেমনটি দেখা যায় নি। এবারের নির্বাচন হবে প্রতিযোগীতামূলক বিধায় সব বাধা অতিক্রম করে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে।
লেখক: অধ্যাপক (অর্থনীতি), ডিন (ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ) ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//