Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 14 May 2023 10:40
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:   বাংলাদেশে ষষ্ঠ ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স আয়োজনের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভারত মহাসাগর উপকূলবর্তী দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব সুদৃঢ় হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতি ও অর্থনীতিতে এ সম্মেলন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুসংহত করেছে।

ঢাকায় দুদিনব্যাপী ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স-২০২৩ (আইওসি)-এর সমাপনী দিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মেলনটি মূলত ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে আয়োজন করা হলেও এ ফোরামে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সমস্যা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের আলোচনায় অনেক সুপারিশ ও মতামত উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন ক্ষেত্র যেমন নিরাপত্তা, বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি, সামুদ্রিক সম্পদ, সুনীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি), পর্যটন, গ্রিন এনার্জি, পরিবেশগত ভারসাম্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। সে পরিপ্রেক্ষিতে এ অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অংশীদারত্ব। সম্মেলনের প্রথম দিনে গত শুক্রবার চারটি প্রাক-সম্মেলন অধিবেশন এবং দ্বিতীয় ও শেষ দিনে গতকাল চারটি প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মন্ত্রী ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। মরিশাসের প্রেসিডেন্ট, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ১৭ দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি দলসহ মোট ২৫টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি তিনটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তথা সার্ক, ডি৮ ও বিমসটেকের মহাসচিব এবং আরো কয়েকটি দেশ তাদের ঢাকায় কূটনৈতিক মিশন এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নেয়। এর বাইরে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ আরো প্রায় ১৫০ জন বিদেশী অতিথি এবারের ওশান কনফারেন্সে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের স্থিতিশীল ভবিষ্যত্ এবং উত্তরোত্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ছয়টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ঘোষিত ছয়টি প্রাধিকার ক্ষেত্র হচ্ছে সমুদ্র কূটনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, অংশীদারত্ব শক্তিশালীকরণ, সমুদ্রপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, শান্তি-সংস্কৃতির প্রসার এবং সমতাভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট আফরিন আখতার বলেন, ‘আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) কৌশলগত সংলাপে অংশ নেবে। যেখানে আইওআরএর সদস্যরাষ্ট্র ও ডায়ালগ পার্টনাররা (সংলাপ অংশীদার) ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে একত্র হবে। আইওআরএর ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে সম্মিলিতভাবে জলবায়ু সংকট মোকাবেলা করা আমাদের জন্য একটি প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলের সমৃদ্ধির অগ্রগতিতে সহায়তা করছে। আমরা এ আঞ্চলিক কাঠামোর বৃদ্ধি এবং শক্তিশালীকরণ দেখতে চাই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে এটি এ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য অপরিহার্য ও অত্যাবশ্যক।

কনফারেন্সের শেষ দিনে এক প্লেনারি সেশনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয়তা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ এমন বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েন্ডি আর শেরম্যান। তিনি বলেন, ‘ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত্ নির্মাণের দিকে আমাদের সবার আগ্রহ রয়েছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্যে আমাদের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে, যা শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থায়িত্বশীল ভবিষ্যতের জন্য অংশীদারত্ব হিসেবে কাজ করবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেমন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুরাষ্ট্র ও অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে দীর্ঘ পথচলার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ অঞ্চলে ইতিবাচক ভবিষ্যত্ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমাদের যৌথ অভীষ্ট অর্জনে প্রস্তুত। আমরা আঞ্চলিক সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সঙ্গে কাজের সূত্রে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার সঙ্গে অংশীদারত্বের জন্য ৬০ লাখ ডলার প্রদান করতে চেয়েছি। এ তহবিল ভারত মহাসাগরের আওতাধীন দক্ষিণ এশীয় উপ-অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতাকে আরো জোরদার করবে।

গতকাল সাংবাদিকের এক প্রশ্নোত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সপ্তম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ায়। কনফারেন্স থেকে আমাদের অর্জন কী, সেটি একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম হতে পারে। কিন্তু আমরা যেটি পেয়েছি তা হলো ২৫টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পাশাপাশি ২৪টি রাষ্ট্র ওইসব ইস্যুতে তাদের অবস্থানের কথা জেনেছে এবং হালনাগাদ করেছে। তৃতীয় সেশনে ভিয়েতনাম খুব পরিষ্কার করে বলেছে, তারাও জোটনিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করতে চায়, কোনো পক্ষ নিতে চায় না।

এর আগে সম্মেলনের প্রথম দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বক্তব্য রাখেন। কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অংশীদারত্ব উন্নয়ন এবং ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে একসঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অংশ হিসেবে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়াতে জোর দেয়ার কথা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//