
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পূর্বাভাস দিয়েছেন জি৭ভুক্ত দেশের অর্থমন্ত্রীরা। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের দুরবস্থার পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ বিশ্ববাজারে অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা। সম্প্রতি তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হওয়া অর্থমন্ত্রীদের বিশেষ বিবৃতিতে এমনই আভাস দেওয়া হয়েছে। খবর: রয়টার্স।
বার্তা সংস্থাটির খবরে বলা হয়, চলতি মাসেই হিরোশিমায় শুরু হচ্ছে জি৭ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর বিশেষ সম্মেলন। তার ঠিক আগে জাপানের নিগাতা শহরে সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করা হয়, মার্কিন অর্থনীতির চলমান পরিস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ব্যাংক খাতের পতন ও উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন অর্থনীতি অচলাবস্থা পার করছে।
নেতাদের মতে, কভিড-১৯ মহামারী ও রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মতো নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি যথেষ্ট স্থিতিশীল ছিল। সেভাবে ভেঙে পড়েনি কাঠামো। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির নীতিমালা নিয়ে সবার আরো সজাগ ও কর্মতৎপর হওয়া প্রয়োজন। সভার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন ঋণের অচলাবস্থা নিয়ে সরাসরি তেমন কিছু বলা হয়নি। তবে অস্থিতিশীলতা এমন একটা সময়ে বাজারে আঘাত করেছে, যখন ঋণসংশ্লিষ্ট ব্যয় ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন জানান, শিগগিরই তিনি ওয়ালস্ট্রিটের জ্যেষ্ঠ ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। ১৭৮৯ সালের পর ওয়াশিংটন প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপি হতে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রধান ডেভিড ম্যালপাস রয়টার্সের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘স্পষ্টতই বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দুরবস্থা সবার জন্যই নেতিবাচক। যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়া না হলে পরিণতি খারাপ হতে পারে।’ ব্যাংক খাতের দুরবস্থা নিয়ে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, নীতিনির্ধারকরা সামগ্রিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করবে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থায় পরিচালনাজনিত শূন্যতাটুকু শনাক্ত করা হবে।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর পরিবর্তন আনা হয় বৈশ্বিক অর্থনীতি নীতিমালায়। চলমান সময়ে তা সফল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে মনে করছেন জি৭ নেতারা। বৈশ্বিক সংকট চলাকালেও এখন পর্যন্ত অর্থনীতি ভেঙে না পড়ার পেছনে সে নীতিমালার ভূমিকা স্মরণ করেন তারা। পাশাপাশি আগামী দিনগুলোয় পণ্যের দামকে স্থিতিশীল ও মূল্যস্ফীতিতে লাগাম ধরে রাখার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়। নিন্দা করা হয় রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের। সদস্যরা শপথ নেন রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সীমান্তে পরিবহনের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানোর ব্যাপারে। আলোচনায় চীন ছিল নেতৃত্বের আসনে। তবে চলতি বছরের সভাপতি হিসেবে জাপান পারস্পরিক সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনয়নের দিকে ইঙ্গিত করে। তুলে ধরেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির নির্ভরতা নিয়ে। জি৭ অর্থমন্ত্রীরা এক বছর সময় নিয়েছেন নতুন প্রকল্প প্রণয়নের। এ সময়ের মধ্যে বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বৈশ্বিক সরবরাহ নীতিমালা ঘোষণা করা হবে গ্রুপভুক্ত দেশগুলোর জন্য। নতুন নীতিমালা অনুসারে জি৭ গ্রুপের সদস্যরা সহযোগিতা করবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে। যাতে করে জ্বালানিবিষয়ক বৈশ্বিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৃদ্ধি পায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ। বিশেষ করে জ্বালানি তেল পরিশোধন ও উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতের মতো খাতে যেন তারা এগিয়ে আসতে পারে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//