
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: কালো টাকা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে ১ লাখের বেশি কোম্পানির নিবন্ধন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
একইসঙ্গে অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপনে সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ‘আরও কঠিন কর্মসূচি’ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শনিবার ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়া (আইসিএআই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই হুঁশিয়ারি বার্তা দেন নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কালো টাকা অর্থায়ন এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত আছে- এমন আরও ৩৭ হাজার সংস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৩ লাখের বেশি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তাদের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে। কর ফাঁকি এবং বিদেশে অর্থ পাচার করছে তারা। এতে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কর ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জানলে তাদেরকে সতর্ক করুন। তাদেরকে আইন সম্পর্কে বলুন। আমি দুইটি পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন শুরু করেছি; একটি দেশ পরিষ্কার, অন্যটি অর্থনীতি পরিষ্কার। এটি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১ লাখের বেশি কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। সন্দেহজনক লেনদেন হচ্ছে এমন আরও ৩৭ হাজার সংস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে রিয়েল টাইম ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় শুরু হবে। এরপর কালো টাকা অর্জন এবং অর্থ পাচারকারী ব্যক্তিদেরই সমস্যা বেশি হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুইস ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগের সুফল ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে ভারতীয়দের অর্থ জমার পরিমাণ ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।
আইন ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, কালো টাকা উৎপাদনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থের উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কালো টাকা এবং অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে এই অভিযান কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়।
(এসএএম/ ০২ জুলাই ২০১৭)