
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
সোমবার (০৩ জুলাই) মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বারান্দায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এ কথা জানান।
সোমবার উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে সংসদের হাতে দিয়ে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
আদালতের এই রায়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় পূর্ণাঙ্গ রায়টা যতক্ষণ পর্যন্ত না পড়ি ততক্ষণ পর্যন্ত এ কথার জবাব দেওয়া যাবে না যে ক্ষুণ্ন হয়েছে কিনা। সবসময় আমার প্রশ্ন থাকবে ১৯৭২ সালের যে সংবিধান ছিল যেটা কনস্টিটিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি সংবিধানের মধ্যে ৯৬ অনুচ্ছেদ ছিল। সেই ৯৬ অনুচ্ছেদ কি করে পুনঃস্থাপন করার পর একটা মার্শাল-ল গভর্নমেন্ট এটাকে সরিয়ে দিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আনার পর এটাকে আবার সংসদ পুনঃস্থাপন করার পর এটা কীভাবে আল্ট্রভার্স টু দ্য কনস্টিটিউশন হয়, এটা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করব পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য, আশা করব পূর্ণাঙ্গ রায়টা তাড়াতাড়ি দেওয়া হবে। এবং পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আমার সিদ্ধান্ত নেব কি করব।’
উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কোন ধরণের ব্যবস্থা আছে- এ বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক দেশ ও উন্নত দেশ যেগুলো আছে সেগুলোতে ৯৬ অনুচ্ছেদে (বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়া) যে কথাগুলো ছিল মাননীয় বিচারপতিতে অপসারণ করার জন্য ঠিক সেই জিনিসগুলোই আছে। সেই জন্যই এটা ১৯৭২ সালে এটাকে সংবিধানের মধ্যে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কথা বলা হচ্ছে। সেটা শুধু ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান সাহেব যে কন্টিটিউশন দিয়েছিলেন তাতে ছিল।’
এ রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি না- এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করব।’
এই রায়ের পর কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে কীনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কোন সমস্যা হবে না। তার কারণ হচ্ছে এটার আগেরও চলছিল। ২০১৪ সালে সংশোধনী আনার আগেও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল। তখন একভাবে চলছিল, তবে এটা ঠিক যে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে ৯৬ অনুচ্ছেদ সেটা কিন্তু সংসদ বাতিল করে দিয়েছে। সুতরাং এইখানে এখন যেটা হবে সেটা ভিন্নতর কিছু একটা।’
সংসদ থেকে নতুন কোনো বিল আনার চিন্তা-ভাবনা আছে কি না, কারণ সংসদ তো সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী- এ বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আজকেই এই প্রশ্ন না করে…আমি তো বললাম পূর্ণাঙ্গ রায় না পেয়ে আমরা কোনো কথা বলব না।’
(এমআইআর/ ০৩ জুলাই ২০১৭)