
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বের ধনিক শ্রেণীর কাছে ক্রমেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বিভিন্ন দেশ ছেড়ে সুখী, স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ জীবনের খোঁজে অনেক মিলিয়নেয়ারই পাড়ি জমাচ্ছেন দুবাইয়ে। কেউ পরিবার নিয়ে আসছেন, কেউবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছেন।খবর: অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
আন্তর্জাতিক নাগরিকত্ব ও আবাসিক উপদেষ্টা সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রাইভেট ওয়েলথ মাইগ্রেশনের ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছর সাড়ে চার হাজার মিলিয়নেয়ার সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘিরে আকৃষ্ট হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বৈশ্বিক সম্পদের তথ্য পরিষেবা দাতা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে। ধনী ব্যক্তিদের ওপর তৈরি আন্তর্জাতিক এ র্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার পরেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বলছে, গত এক দশকে মিলিয়নেয়ার মাইগ্রেশন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জন্য বিশ্বব্যাপী মিলিয়নেয়ার মাইগ্রেশন পরিসংখ্যান যথাক্রমে ১ লাখ ২২ হাজার এবং ১ লাখ ২৮ হাজার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জুয়ের্গ স্টেফেন বলেন, ‘সাধারণভাবে সম্পদের স্থানান্তর প্রবণতা চলতি বছর প্রাক-মহামারী প্যাটার্নে ফিরে আসবে বলে মনে হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া নেট ইনফ্লোতে (একটি নির্দিষ্ট দেশে আসা ধনী ব্যক্তির সংখ্যা বা একটি নির্দিষ্ট দেশে আনা সম্পদের পরিমাণ নির্দেশ করে) শীর্ষে অবস্থান করবে, পাঁচ বছর আগে যেমন ছিল। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এ প্রবণতা বাধাগ্রস্ত হয়। গত এক দশকে চীন থেকে ধারাবাহিকভাবে নেট আউটফ্লো (একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে চলে যাওয়া ধনী ব্যক্তির সংখ্যা হয়েছে) বেড়েছে অর্থাৎ কোটিপতিরা চীন ছেড়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করেছে। এখানে উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রমগুলো হচ্ছে ধনী ব্যক্তিদের একসময়ের পছন্দের গন্তব্য যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কাছে আকর্ষণ হারিয়েছে দেশগুলো।
উল্লেখিত প্রতিবেদনে ‘ডলার মিলিয়নেয়ারদের’ গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়। ডলার মিলিয়নেয়ার বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝায় যাদের সম্পদ ১০ লাখ ডলার বা যারা এর বেশি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের মালিক। এ ব্যক্তিদের সাধারণত হাই নেট ওয়ার্থ ইনডিভিজুয়াল (এইচএনডব্লিউআই) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটি অভিবাসন ধরনের দুটি দিককে অনুসরণ করেছে। এক. নির্দিষ্ট দেশে যাওয়া এইচএনডব্লিউআইদের সংখ্যা এবং ওই দেশত্যাগকারী এইচএনডব্লিউআইদের সংখ্যা।
এইচএনডব্লিউআই মাইগ্রেশন পরিসংখ্যান এমন লোকদের ওপর ফোকাস করে যারা সত্যিকার অর্থেই থাকার জায়গা বদলেছেন। যেমন যারা বছরে ছয় মাসের বেশি নতুন দেশে অবস্থান করছেন। পরিসংখ্যান অনুসারে অস্ট্রেলিয়ায় ৫ হজার ২০০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার ৫০০, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার ২০০, যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ১০০, সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৮০০, কানাডায় ১ হাজার ৬০০, গ্রিসে ১ হাজার ২০০, ফ্রান্সে ১ হাজার, পর্তুগালে ৮০০ ও নিউজিল্যান্ডে ৭০০ জন আকৃষ্ট হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছরে এ দেশেগুলোয় আরো বেশি মিলিয়নেয়ারদের সমাগম আশা করা হচ্ছে। যদিও অন্যরা স্বাভাবিকভাবে মিলিয়নেয়ারদের ধরে রাখতে পারছে না। যেমন বিশ্বের বিত্তশালীদের কাছে আকর্ষণ হারিয়েছে চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও ব্রাজিল।
ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক গবেষণা ও পরিসংখ্যানের পরিচালক আরিফ সুলেমান বলেছেন, কাঙ্ক্ষিত দেশগুলোয় এইচএনডব্লিউআইদের স্থানান্তর প্রবণতা বিনিয়োগ ছাড়াও আরো কিছু কারণে হতে পারে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//