
ড: মিহির কুমার রায়: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। সেবা ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস হওয়ার কারণে অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০.৪৭ শতাংশ, ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী শ্রমশক্তির ৪০.৬২ শতাংশ এখনো কৃষিতে নিয়োজিত বিধায় মানে কৃষি অর্থনীতি এখনো নিয়োগের বড় ক্ষেত্র। তবে এটিও অনস্বীকার্য যে, কৃষি খাতের এক সময়ের উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার ক্রমে তলানিতে নেমে আসায় খাদ্য শস্যের জন্য আমাদের আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাচ্ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.১৭ শতাংশ, যা বিবিএসের সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী হ্রাস পেয়ে চলতি অর্থ বছরে (২০২১-২২) ২.২০ শতাংশে দাঁড়াবে। এটি সম্ভবত গত কয়েক বছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হারের সর্বনিম্ন রেকর্ড। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান খাদ্য শস্য চাল এবং খাদ্য শস্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গমের উৎপাদনের ওপর।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ লাখ টন। তখন প্রতি বছর গড়ে খাদ্য আমদানি করতে হতো ১৪ থেকে ২২ লাখ টন। সে সময় জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি; বর্তমানে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। দেশে বছরে চাষের জমি কমছে প্রায় ১ শতাংশ হারে। তবুও বর্তমানে কৃষি খাতে উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। ফলে, খাদ্য ঘাটতির হার নেমে এসেছে ১৪ শতাংশেরও নিচে। কৃষির অগ্রগতির ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বার্ষিক খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি প্রতিবেদন ২০১৯ অনুযায়ী, স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫০ বছরে দেশের প্রধান প্রধান শস্য উৎপাদন তিন থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ইফপ্রি) ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন মতে, দেশের দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনার অতিমারীর প্রভাব এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে টালমাটাল সেখানে বাংলাদেশের মতো এত জনসংখ্যা অধ্যুষিত, দারিদ্র্য-পীড়িত দেশটি এখনো টিকে আছে মূলত কৃষির সফলতার কারণেই। করোনা অতিমারীর সময় কৃষকরা করোনাকে অগ্রাহ্য করে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করেছিলেন। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটেও কৃষকরা লাভ-লোকসানের কথা বিবেচনায় না এনে কৃষিকে তথা দেশের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রেখে যাচ্ছে।
এই ধরনের একটি বাস্তবতায় কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ আগামী অর্থবছরে টাকার অঙ্কে বাড়লেও খাতওয়ারি বরাদ্দের নিরিখে এবার এই খাতে বরাদ্দ শতকরা দশমিক ৩৩ ভাগ কমেছে। আগামী অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের শতকরা ৪.৬৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ৩৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৪.৯৭ শতাংশ। কৃষির ওপর মোটামুটি নজর প্রতিটি বাজেটে থাকে। করোনাকালে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ছিল। এবারের বাজেটেও সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার আছে। এটাকে ইতিবাচক বলতে হবে। কিন্তু কৃষি খাতে যে ব্যাপক উন্নয়ন ও যান্ত্রিকীকরণ দরকার, সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেখছি না। কৃষি খাতের আধুনিকায়নের জন্য যে গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে যে সহায়তা আশা করা হয়েছিল, সেটি এই বাজেটে নেই। বাজেটে ছাদ কৃষির কথা বলা হয়েছে বিশেষত: সাইখ সিরাজের কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট অনুঠানের সুপারিশমালার ভিত্তিতে। এখন যাদের ঘরের ছাঁদ আছে কেবল তাদের পক্ষে এ অনুশীলন করা সম্ভব হবে, অন্যথায় নয়।
চলতি অর্থবছরে দেশের কৃষিপণ্যের রফতানি মূল্য ১.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশের ১৬.৯৮ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে কৃষিতে সরকারি সহায়তা অনস্বীকার্য। বিশেষত: উৎপাদনের প্রধান উপকরণ যেমন- সার, বীজ, সেচের খরচ বাড়লে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। সে মাফিক উৎপাদিত দ্রব্যের দাম না বাড়লে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য দিকে, পণ্যের দাম বাড়লে ভোক্তা বিপদে পড়ে। এই উভয় সঙ্কটের মোকাবেলায় সরকারকে উৎপাদনের উপকরণে ভর্তুকি দিতে হয়। অনেক দাতা সংস্থা ভর্তুকির বিরোধিতা করলেও প্রায় সব উন্নত দেশই কৃষিতে বিপুল ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এরই মধ্যে দুই দফায় ইউরিয়া সারের দাম কেজিপ্রতি ১১ টাকা বৃদ্ধি করে ২৭ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে ডিএপি, টিএসপি, এমওপি সারের দামও। যদিও পরিবহন খরচ, সার ছাড় করতে খরচ, সরবরাহ ঘাটতি ইত্যাদির ফলে কৃষককে আরো বেশি দাম দিতে হয়। সুতরাং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হবে। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ৬৬ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকে ভর্তুকি হ্রাসের চাপ থাকলেও এ বরাদ্দ ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধির কথা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই ভর্তুকির মধ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা সারের জন্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। তা ছাড়াও জনস্বার্থ ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন ধরনের পণ্যে শুল্ক কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, পোশাক ও ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতির দাম কমতে পারে তার মধ্যে মাংস, পশুখাদ্যের মতো গৃহস্থালি সরঞ্জাম উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও দুই বছর (২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত) বহাল থাকবে। কৃষি, প্রবাসী আয় এবং পোশাক রপ্তানি খাত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার কৃষি কাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ফলে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে ও যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর থেকে বোরোতে ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় দ্রুততার সাথে সফলভাবে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চল ভেদে ৫০%-৭০% ভর্তুকিতে কৃষকদের কৃষি যন্ত্র দেয়া হচ্ছে তথা এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এর মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে সময় ও শ্রম খরচ কমবে, কৃষক লাভবান হবে ও বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্পোন্নত দেশের কৃষির মতো উন্নত ও আধুনিক হবে। কৃষি যন্ত্রের প্রাপ্তি, ক্রয়, ব্যবহার ও মেরামত সহজতর করতে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাজেট পর্যালেচনায় আরও দেখা যায় মুরগি, মাছ ও গবাদি পশুর খাবার তৈরির উপকরণ আমদানিতে কাঁচামালে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, নিড়ানি, ঝাড়াইকল, কম্বাইন হারভেস্ট, থ্রেসার, রিপার, পাওয়ার টিলার, সিডার ইত্যাদি কৃষি যন্ত্রে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিক কৃষির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ। কৃষি খাতের এই বাজেটকে সাধুবাদ জানাতে চাই। তথ্য বলছে বিগত বছরগুলোতে জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ অবহেলিত হয়ে এসেছে এবং কৃষি খাতে ভুর্তুকি অন্যান্য বারের মত এবার অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার যদি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ পর্যালোচনা করা হয় তাহলে দেখা যায় যে জিডিপিতে এর হার মাত্র ২৩% ভাগ যা গত কয়েক বছর যাবত স্থবির হয়ে আছে। আবার ব্যাংকিং খাতের হিসাবে দেখা যায় যে কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাক্তি পর্যায়ে যে বিনিয়োগ হয়েছে তা সামষ্টিক অথনীতির বিবেচনায় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ এবং এতে কৃষি খাতের অংশ আরও কম অথচ ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষি বাণিজ্যকরনের উপর জোড় দেয়া হয়েছিল যেখানে পরিবারভিত্তিক চাষাবাদকে পরিহার করে খামার ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক চাষাবাদকে (গ্রিন হাউজ) উৎসাহিত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন রুপে আবির্ভূত হয়েছে, ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষীগন অসম প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বাজার ব্যবস্থাপনায় এই সকল কৃষকদের কোন প্রবেশাধীকার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি যার প্রমান কৃষি পন্য বিশেষত: কৃষকের ধানের মূল্য না পাওয়া যার প্রভাব পড়েছে ক্রমাগতভাবে কৃষি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ায়। কৃষি বাজেটের আরও দিক হলো কৃষির প্রক্রিয়া যেহেতু গ্রামীন অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত তাই এর গতিশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্ধ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কৃষি খাতের সব ব্যয় নিম্ন মধ্যবিত্ত, খুদে ব্যবসায়ী, ভূমি শ্রমিক ও নিঃস্বদের জন্য ব্যয়িত, আছে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। সরকার পরিচালিত আটটি ফাউন্ডেশন/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্ম সৃজনে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ আছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে এরূপ বরাদ্দের পরিমাণ আগামী বাজেটে স্পষ্ট করে উল্লেখিত হওয়া উচিত। ‘পল্লীর দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আয় বর্ধক কর্মকাণ্ড’ বৃদ্ধিতে পল্লী এলাকায় বিনিয়োগ বাড়ানো ইচিত। তাছাড়াও দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকার আগামী বছরের বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রেখেছে যা মোট বাজেটে ১৭.৮ শতাংশ এবং জিডিপির ৩.১১ শতাংশ এবং এই খাত থেকে পল্লী অঞ্চলে বসবাসকারী অনেকেই সরাসরি উপকৃত হবে।
কৃষি, উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার বিষয় তাই যে বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে তা হলো এক: কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর পাশাপাশি তাকে প্রকৃতিবান্ধবও করে তুলতে হবে। জনগনের স্বাস্থ্য, পুষ্টির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কৃষি ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাস করতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে, পরিকল্পনায় ক্ষুদ্র এবং পারিবারিক কৃষকদের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে; দুই: আগামী অর্থবছরে সরকারি খাতে কর্মসংন্থান এক শতাংশ বাড়ানো যাবে কিনা তা বলা দুষ্কর এই মুহুর্তে কারন বৈদেশিক বিনিয়োগ নিম্নমূখী, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋন গ্রহন উর্দ্ধমূখী, ব্যাক্তি খাতে বিনিয়োগ নিম্নমূখী বিধায় কর্মসংন্থান হয় না অথচ দেশে প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মসংন্থান সৃষ্টি করে বেসরকারি বিনিয়োগ। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ কর্ম বাজারে প্রবেশ করে এবং শিক্ষিত বেকার যুবকের সংখ্যা বেশী (২৬ লাখ) যাদের কর্মসংন্থানের ব্যাপারে বাজেটে বরাদ্ধ রাখতে হবে; তৃতীয়ত: বিশ্ব ব্যাপী মোট খাদ্য উৎপাদনের ৮০ শতাংশই আসে পারিবারিক কৃষির মাধ্যমে যার বিবেচনায় জাতিসংঘ ইতোমধ্যে (২০১৯-২০২৮) পারিবারিক কৃষি দশক ঘোষণা করেছে এবং একটি বৈশ্বিক কর্ম পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে। এই কর্ম পরিকল্পনার আলোকে জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নে সরকার এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট সবাই মিলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার নকশা তৈরি অত্যন্ত জরুরি যার জন্য বাজেট বরাদ্ধ বাড়িয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কুটির শিল্প, সংরক্ষণাগার, যান্ত্রিকীকরণ, বাজার ব্যবস্থাপনা সহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও পারিবারিক কৃষির উন্নয়ন, কৃষি সংশ্নিষ্ট উৎপাদন ও সেবা এবং জৈব কৃষি বা জলবায়ু সহনশীল স্থায়ীত্বশীল কৃষি চর্চায়, যা খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে; চতুর্থত: দেশের অগনিত কৃষক যারা খাদ্য উৎপাদনের সাথে জড়িত তাদের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন দৃশ্যত: দেখা যায় না। তাই কৃষক পরিবারের জন্য ভাতা/পেনশনের ব্যবস্থা বাজেটে রাখতে হবে যেমন ভারতের কেরালা রাজ্যে ও কমিউনিষ্ঠ সরকার কৃষকদের জীবন মান রক্ষার জন্য বহু আগে থেকেই এ ব্যবস্থা চালু রেখেছে যা প্রশংসনীয়। আশা করা যায় বাজেট সংক্রান্ত এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ও স্বাধীনতার পাচ দশক পর এটাই হউক সকলের প্রত্যাশা।
লেখক: অধ্যাপক, গবেষক, ডীন ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//