
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) “বাংলাদেশের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী উপকরণ দিয়ে হাই এন্ড পোশাক তৈরি (Creating High End Fashion with Local Heritage Material of Bangladesh)” শীর্ষক প্রকল্পের সমাপন উপলক্ষে এক আড়ম্বরময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উল্লেখ্য যে দেশের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী উপকরণ ব্যবহার করে উচ্চ মানসম্পন্ন পাশ্চাত্ত্য ঘরানার পোশাক পণ্য উদ্ভাবনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি দুই বছর আগে কার্যক্রম শুরু করে।
বানিজ্য মন্ত্রনালয় এবং বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার এনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) প্রোগ্রামের সহযোগিতায় বিজিএমইএ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
বুধবার (২১ জুন, ২০২৩) উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান; ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, উপসচিব, ডব্লিউটিও সেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর প্রো ভাইস চ্যান্সেলর ড. ইঞ্জিঃ আইয়ুব নবী খান, বিজিএমইএর পরিচালক নীলা হোসনা আরা।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “আমাদের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী অমূল্য টেক্সটাইল সামগ্রী। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, বিজিএমইএ বিশ্ব দরবারে এ শিল্পকে উপস্থাপন ও শিল্পের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিরন্তর কাজ করছে। এ কাজ করতে যেয়ে আমরা ঐতিহ্যবাহী দেশীয় টেক্সটাইল উপকরণ এবং অনন্য নকশা শৈলির মাধ্যমে শতাব্দী পুরনো গর্ব ফিরিয়ে আনা, ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ অনুভব করেছি। আমরা আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংগতি রেখে আমাদের অমূল্য স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইলকে যুক্ত করে (ফিউশন) বিলাস বহুল আধুনিক ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলে দিতে প্রত্যয়ী।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি আমাদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী ফেব্রিক্স ব্যবহার করে উচ্চ-মূল্যের ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি করতে পারি এবং রপ্তানি বাজারের সাথে যুক্ত করতে পারি, তাহলে শিল্পের জন্য বৈচিত্র্যকরণের সুযোগ তৈরি হবে।”
বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব ডঃ মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “ইআইএফ প্রোগ্রামের আওতায় আমরা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, কৃষি, চামড়া এবং অন্যান্য খাতের সাথে কাজ করেছি- প্রথম দিকে পোশাক শিল্পের মতো এ রকম খাতে এ ধরনের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা আসলেই চ্যালেঞ্জিং ছিলো, যেহেতু ধারণাটাই খুব সাম্প্রতিক এবং উদ্ভাবনামূলক। তবে প্রকল্পের শেষে আমরা সবাই অত্যন্ত বিষ্ময়ের সাথে দেখছি যে পোশাক শিল্প সকল মানদন্ড রক্ষা করে কর্মসূচী বাস্তবায়নে সেরা হয়েছে।”
উল্লেখিত প্রকল্পের অধীনে পোশাক শিল্প খাত থেকে ১৬০ জন অংশগ্রহনকারী, বিশেষ করে ফ্যাশন ডিজাইনার, উদ্ভাবক এবং স্থানীয় তাঁতীরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রশিক্ষণের সময় তারা কিছু মুড বোর্ড (mood boards) তৈরি করেন, যেগুলোতে প্রদর্শন করা হয়েছে কিভাবে ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির মিশেলে লাক্সারী আইটেম প্রস্তুত করা যেতে পারে। এছাড়াও ফ্যাশন ডিজাইনিং ব্যাকগ্রাউন্ডের ২০ জনের সমন্বয়ে ৯টি দল ফিউশন পণ্যের কিছু প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে যেমন, বাংলাদেশের জামদানি, মসলিন এবং সিল্ক ব্যবহার করে ব্রাইডাল ওয়্যার, ইভিং গাউন, পার্টি ড্রেস ইত্যাদি।
ফারুক হাসান বলেন যে বিজিএমইএ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের খাদি, মসলিন এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের মোটিফ যেমন শাপলা, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, রিকশা পেইন্ট ইত্যাদি তুলে ধরতে আরও দুটি পৃথক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিনি স্থানীয় ডিজাইনারদের এই প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতা প্রদানে - নকশা উন্নয়ন এবং পণ্য সোর্সিং এর ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি একটি নতুন হেরিটেজ ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন। ওয়েবসাইটটিতে স্থানীয় ঐতিহ্যের পণ্য, অনন্য নকশা শৈলি, কারু শিল্প, বয়ন কৌশল, তাঁতিদের সম্পর্কে তথ্য, তাদের ব্যক্তিগত গল্পগুলো তুলে ধরা হবে।
প্রশিক্ষনে অংশগ্রহনকারীদের সনদপত্র প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//