
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে নিখোঁজ সাবমেরিন টাইটানের খোঁজে নামা একটি রোবটযান টাইটানিক জাহাজের কাছে ধ্বংসাবশেষের খোঁজ পাওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। তবে এটি কি পাঁচ অভিযাত্রী নিয়ে হারিয়ে যাওয়া টাইটানের কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিবিসি জানায়, ঘটনাস্থলে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ইউনিফাইড কমান্ড) রোবটযানের পাঠানো তথ্য মূল্যায়ন করে দেখছেন।
মার্কিন কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে যে, হরাইজন আর্কটিকে আরওভি (দূর থেকে চালিত যান) টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে সমুদ্রের তলদেশে একটি ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছে। রোবটের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তারা।
কোস্ট গার্ড এক ঘোষণায় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বিকাল ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়) সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
বস্টনে ইউএস কোস্ট গার্ড ঘাঁটিতে ওই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম সিএনএন। সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার ও ক্যাপ্টেন জেমি ফ্রেডেরিক নামে মার্কিন কোস্ট গার্ডের সিনিয়র দুই কর্মকর্তা।
কানাডার কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে পানির নিচে থাকা টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পর্যটকদের দেখাতে গত রোববার (১৮ জুন) রওনা দিয়ে নিখোঁজ হয় সাবমেরিন টাইটান। ডুব দেয়ার পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় টাইটানের সঙ্গে পানির ওপরে থাকা নিয়ন্ত্রক জাহাজ পোলার প্রিন্সের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সাবমেরিনটিতে পাইলটসহ ৫ আরোহী ছিলেন। আরোহীরা হলেন, ব্রিটিশ ব্যবসায়ী হামিশ হার্ডিং (৫৮), ব্রিটিশ-পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ (৪৮) ও তার ছেলে সুলেমান (১৯), টাইটান প্রস্তুতকারী কোম্পানি ওশনগেটের শীর্ষ নির্বাহী স্টকটন রাশ (৬১) এবং সাবমেরিনটির চালক ও ফরাসি নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা পল হেনরি নারগিওলেট (৭৭)।
ডুবোযানটির পাইলট ছিলেন স্টকটন রাশ নিজেই। তবে তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে- তা এখনও জানা যায়নি। মার্কিন কোস্ট গার্ডের সংবাদ সম্মেলনে সব স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৯১২ সালে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করে টাইটানিক। প্রথম সমুদ্রযাত্রায় মাঝপথে বিশাল বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী জাহাজটি। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯৮৫ সালে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিকের সাড়ে ১২ হাজার ফুট নিচে এর ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকেই বহু সংস্থা তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছে।
বিনিয়োগবার্তা//এএইচএস//