
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাধ্যতামূলকভাবে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা করের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে সরকার। আরো কয়েকটি সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে ‘অর্থ বিল ২০২৩’ কণ্ঠভোটে পাস করা হয়েছে। গতকাল সংসদে এ বিল পাস করা হয়। আর সোমবার নতুন অর্থবছর ২০২৩-২৪-এর বাজেট পাস করা হবে। এ বাজেট ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
ব্যাপক সমালোচনা ও তীব্র বিরোধিতার মুখে টিআইএন থাকলেই রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং ন্যূনতম ২ হাজার টাকা কর দিতে হবে—এমন প্রস্তাব বাতিল করে জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে আয়কর আইন। এবার বিষয়টি প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ বাজেটের (অর্থ বিল ২০২৪) থেকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হতে পারে বিশেষজ্ঞদের এমন দাবি ও জনপ্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এটা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বল পয়েন্ট কলমের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ করের সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ যোগ করে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ প্রস্তাবের বিষয়েও অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফলে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগের মতোই ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে ন্যূনতম কর আরোপের বিধান বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এনবিআর সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত বাজেটে সেই প্রভিশনটি বাতিল করবে। অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি সেবা পেতে কারো রিটার্ন জমার স্লিপ প্রয়োজন হলে আগের নিয়মে শূন্য আয় দেখিয়ে রিটার্ন জমা দেয়া যাবে। কেবল করমুক্ত সীমার ওপরে আয় থাকলে স্ল্যাব অনুযায়ী আয়কর দিতে হবে।
বাজেটের ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্যের পর অর্থ বিল সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হয়। এর আগে বিলটির পর সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ফখরুল ইমাম, মুজিবুল হক, রুস্তম আলী ফরাজী, রওশন আরা মান্নান, কাজী ফিরোজ রশীদ, রেজাউল করিম, শহীদুজ্জামান সরকার বক্তব্য দেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//