
নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ ব্যুরো: ময়মনসিংহে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।২৫ জুন ২০২৩:ইং তারিখ রবিবার দুপুরে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ ও ফুলপুর থানা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানভুক্ত আসামী ২ জন হলেন- ফুলপুরের মাহাবুব আলম মণ্ডল (৭০) এবং ঈশ্বরগঞ্জের মোঃ হাসিম উদ্দিন ওরফে আবুল হাসেম (৬৫)।বিকাল ৫টায় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাছুম আহাম্মেদ ভুঁইয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এতথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (২৫ জুন) ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী ইউনিয়নের বগাপোতা গ্রাম থেকে আসামি মোঃ হাসিম উদ্দিন ওরফে আবুল হাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গতকাল শনিবার গোপনে ঈশ্বরগঞ্জে এসে তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় মেয়েরবাসা থেকে ফুলপুরের মাহাবুব আলম মণ্ডলকে গ্রেফতার করে ফুলপুর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তিই লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যকে পাকসেনা ক্যাম্পে সোপর্দ এবং নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় অভিযুক্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত।
পুলিশ আরও জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্য সৈয়দ হোসাইন আহাম্মদের নির্দেশে আলবদর আবুল হাসেম ১৫ থেকে ১৬ জন রাজাকার নিয়ে সোহাগী বাজারে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তহশিলদার, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও সোহাগী মাদ্রাসার হিসাবরক্ষক কাঠালিয়া গ্রামের মোঃ নূরুল হক ওরফে তারা মিয়ার বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেন ও তাকে গুম করে ময়মনসিংহ শহরে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গুলি করে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেন। এছাড়া অভিযুক্ত রাজাকাররা আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র করকে অপহরণ করে আঠারবাড়ি পাকিস্তানী ক্যাম্পে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ গুম করে ফেলে।
অপরদিকে জেলার ফুলপুর উপজেলায় ২০০৯ সালে যোদ্ধাপরাধের মামলার ১৩ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার পলাতক আসামী মাহাবুব আলম মণ্ডল (৭০)কে গ্রেফতার করেছে ফুলপুর থানা পুলিশ। ময়মনসিংহ নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকা থেকে রোববার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মাহাবুব মণ্ডল জেলার ফুলপুর উপজেলার পশ্চিম বাখাই গ্রামের মৃত বসির উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে। ২০০৯ সালে মামলা হওয়ার পর অন্ততঃ ১৪ বছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা মাহাবুব মন্ডল ঈদ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহে আসেন। পুলিশ খবর পেয়ে তার মেয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।মাহাবুবের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ রয়েছে তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তৎকালীন পাক হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে গঠিত স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে মামলার বাদী পরিমল চন্দ্র দাসের বাবা যোগেশ চন্দ্র দাস ও তার অন্যান্য আত্মীয়সহ মোট ৯ জনকে টেনে হিঁচড়ে কংস নদীর পাড়ে নিয়ে রাইফেল ও স্টেনগান দিয়ে নির্বিচারে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করেন।
এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মাহাবুব মণ্ডল পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতেন। এলাকায় ত্রাস কায়েম করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের ওপর অমানুষিক নিযার্তন করে অসংখ্য নিরীহ মানুষের বাড়ি পুড়িয়ে দেন এবং বাড়িতে থাকা সম্পদ লুণ্ঠন, নারী ধর্ষণ ও হত্যাসহ জঘন্য অপরাধ চালিয়ে যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি হিন্দু সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষের জমিজমা আত্মসাৎ করে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।
আসামি মাহাবুব ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বিএনপির ফুলপুর সদর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ২০১২ থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত ফুলপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির হিসেবে মনোনীত ছিলেন এবং গোপনে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।
জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, দুই আসামীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতে হস্তান্তর করা হবে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএমএইচএ/কেএইচকে//