
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানায় আগামী বছর থেকে কৃষি শুমারি করবে সরকার। প্রতি দশ বছর পরপর এই শুমারি করা হয়।
বিবিএস জানায়, কৃষি শুমারির লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনে ৩৩৮ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ শুমারির কার্যক্রম চলবে।
কৃষি শুমারি প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছর ৩১০ কোটি ৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছর ১৩ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার, ২০১৯-২০ অর্থবছর ৯ কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হয়।
২০০৮ সালে সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বিবিএস জানায়, বাংলাদেশে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। সরকারের নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে কৃষি জমির পরিমাণ, জমির ব্যবহার, কৃষক, শস্য উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদন এবং প্রাণিসম্পদ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কৃষি শুমারির মাধ্যমেই পাওয়া যায়।
স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত চারটি কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো ১৯৭৭ সালে প্রথম, ১৯৮৩-৮৪ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯৬ সালে তৃতীয় এবং ২০০৮ সালে চতুর্থ কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ এ আদম শুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি শুমারি অনুষ্ঠানের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
এই শুমারি পরিচালনা করতে দুই হাজার ছয়শ’ মাস্টার ট্রেইনার ও জোনাল কর্মকর্তা, ২৪ হাজার সাতশ’ সুপারভাইজার ও দেড় লাখ গণনাকারী কাজ করবেন।
প্রস্তাবিত কৃষি শুমারি-২০১৮ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি খাতের উপ-খাতসমূহের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, আন্তঃশুমারির সময়ে কৃষি খাতের বার্ষিক উৎপাদন প্রাক্কলন সম্পর্তিক জরিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে নমুনা প্রণয়নে সহায়তা ও নির্ণয়, কৃষি উপ-খাতসমূহের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক চার্ষীদের ও পল্লী উন্নয়নে সরকারি কর্মসূচি গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, প্রশাসনিক বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মৌজা পর্যায়ে কৃষি উপ-খাতসমূহের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হবে।
(এম আর / ১৩ জুলাই, ২০১৭)