
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা হওয়ার পর ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অফিস করছেন না ব্যাংকের এমডি মসিউর রহমান চৌধুরীসহ অন্য আসামীরা।
বুধবার মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ব্যাংকের এমডি অফিস করছেন না। তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ডিএমডি সাজ্জাদ হোসেন।
এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ১১ তলায় ভারপ্রাপ্ত এমডি সাজ্জাদ হোসেনের কাছে মসিউর রহমান চৌধুরীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। সুস্থ হলেই তিনি দেশে ফিরবেন। এমডি মসিউর রহমান চৌধুরীর অনুপস্থিতির কারণে ব্যাংকের কোনো কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে না। আমরা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’
জানা যায়, বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকের ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৮ জুন রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংক ও সিটিসেলের ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১২ জনই এবি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা।
দুদকের মামলায় এবি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা হলেন- সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার আহমেদ চৌধুরী, এম ফজলুর রহমান, শামীম আহম্মেদ চৌধুরী; বর্তমান এমডি মসিউর রহমান চৌধুরী। ব্যাংকের ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা সালমা আক্তার, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মহাদেব সরকার সুমন, এসভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার সৈয়দ ফরহাদ আলম, আরশাদ মাহমুদ খান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশন বিভাগ) শাহানুর পারভীন চৌধুরী, ব্যাংকের এভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক জার-ই এলাহী খান এবং রিলেশনশিপ অফিসার মো. কামারুজ্জামান।
ব্যাংকের কয়েকটি শাখার কর্মকর্তারা জানান, দুদকের মামলার ঘটনায় ব্যাংকের লেনদেনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি। শাখাগুলোর লেনদেন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তারা। তবে এসব কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন এসব কর্মকর্তারা।
দুদক কর্তৃক জানা গেছে, ‘সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল) এর চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এবি ব্যাংকে ‘ব্যাংক গ্যারান্টির’ আবেদন করেন। এবি ব্যাংকের চারটি বোর্ড সভায় আবেদন কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই না করে এবং জামানত ছাড়াই প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল) এর ব্যবসার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া হয়। ফলে এখানে দুর্নীতির মাধ্যমে এবি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।’
দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, কমিশনের তদন্তে এবি ব্যাংকের ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার ৩৬৩ টাকা ১৩ পয়সা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শেখ মোজাফফর হোসেনকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নানা অনিয়মের কারণে গত মে মাসে বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
(এম আর / ১৫ জুলাই, ২০১৭)