Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 14 Jun 2026 08:01
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

গত শনিবার রাতে থেকে উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কালিকাপুর গ্রামে এ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়।

নদী ভাঙ্গনের ফলে ওই গ্রামের ওয়াসেক মিয়া, বরকত আলী, মনির ও নুরজাহানসহ আরও কয়েকজনের ৫/৬টি বাড়ি মেঘনরা গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে অন্তত: আরো ৩ শত বাড়িঘর। ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচার জন্য জয়নাল, ধনু মিয়া, হোরা মিয়া, নয়াব আলী, আব্দুল হক, লাক মিয়া, আমিন উদ্দিন, সিরাজ মিয়া, কুদ্দুস মিয়া, নজীর মিয়া, শীর ইসলাম, করিম মিয়া, হেলাল, দুলাল, ফারুক, আক্তার, হাসিনা, স্বপ্ন, নাজির, শাহজাহান, আছমত মিয়া, নাছির মিয়া, শাহজালাল ও আজিজুর রহমানসহ ২৫/৩০ জন মালিক তাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। এসব বাড়ি-ঘরের ভিটিগুলো মেঘনা গর্ভে তলিয়ে গেছে।

চানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোমেন সরকার জানিয়েছেন, ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মেঘনায় ব্যাপক খরস্রোত দেখা দিয়েছে। স্রোতের পানি পাড়ে ধাক্কা লেগে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এবছর আষাঢ় মাসে ভারী বর্ষণ না হওয়ায় এলাকার লোকজন ভেবেছিল এ বছর হয়তো ভাঙ্গনের পরিমাণ কম হবে। কিন্তু গত শনিবার রাতে পানির স্রোত তীব্র আকার ধারণ করলে রাত সাড়ে ১১ টায় হঠাৎ ৫/৬টি বাড়ি মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় নদীপাড়ের লোকজনের মধ্যে কান্নাকাটি শুরু হয়। রোবাবার সকালে থেকে আরো ২৫/৩০টি বাড়ী-ঘর নদীর পানিতে তলিয়ে গেলে সম্ভাব্য ভাঙ্গনের আশঙ্কায় ওই সকল বাড়ীর লোকজন এবং আশেপাশের বাড়ির লোকজন তাদের ঘর থেকে আসবাবপত্র, তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নিরাপদ স্থানে সরাতে শুরু করে এবং তারা তাদের ঘরগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। যাদের ঘর নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে রোববার তাদের ভিটিগুলো ভেঙ্গে মেঘনার পানিতে তলিয়ে গেছে। আরো ২/৩ শত বাড়িঘর হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এবং এ সময় যদি ভারী বর্ষণ শুরু হয় তবে নদী পাড়ের এসব বাড়িঘর মেঘনা গর্ভে বিলীন হবার আশঙ্কা করছে পাড়ের মানুষ।

তিনি জানিয়েছেন, ভাঙ্গনের শিকার মেঘনা পাড়ের পরিবারগুলো এখন খুবই অসহায় অবস্থায় পতিত হয়েছে। তাদের ঘরে খাবার নেই। লোকজন গ্রাম থেকে যা কিছু খাবার সরবরাহ করছে তাই খেয়ে তারা কোন রকমে দিনাতিপাত করছে। সরকারি সাহায্য না পেলে পরিবারগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, বছরের প্রায় সকল সময়ই চাঁনপুর ইউনিয়নে মেঘনার ভাঙ্গন অব্যাহত থাকে। গত কয়েক বছরে এই ইউনিয়নের ইমামদীকান্দী নামে একটি গ্রাম মেঘনা গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সদাগরকান্দী, মোহিনীপুরেও প্রায় ৩/৪শত পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। ইমামদীকান্দী গ্রামের ৫/৬ শত পরিবার নদীর পূর্বপাড়ে জেগে উঠা চরে তাদের বসতি স্থাপন করেছে। ইমামদীকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের শিকার হয়। সেটিও একই নামে পূর্বপাড়েরচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভাঙ্গনের কারণে চানপুর ইউনিয়নের কমবেশি ৩ হাজার মানুষ পূর্বপাড়ে জেগে উঠাচরে বসতি স্থাপন করে নবীনগরের বীরকান্দী ইউনিয়নের সদস্য হয়ে গেছে। পূর্বপাড়ে জেগে উঠা চরের মালিক রায়পুরা তথা চানপুর ইউনিয়নের জনগন। তিনি এই চরের মালিকানা দাবী করে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় রায়পুরা তথা চানপুরের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য আহবান জানান।

এদিকে খবর পেয়ে সোমবার সকালে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে যান রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবদুল্লাহ। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারী সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করেন। সেই সাথে একটি তালিকা প্রনয়ন করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

(এসএইচআর/এসএএম/ ১৭ জুলাই ২০১৭)