
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা : টানা আড়াই মাস চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জটের কারণে পোশাকের কাঁচামালবোঝাই জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে কনটেইনার ও জাহাজ ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত জরিমানা দিচ্ছেন মালিকেরা।
আবার সময়মতো রপ্তানি পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। পণ্যবাহী কনটেইনার না নিয়েই জাহাজের বন্দর ছেড়ে যাওয়া ঘটনাও ঘটছে, যা ইতিহাসে কখনোই ঘটেনি।
‘চট্টগ্রাম বন্দরে পোশাকশিল্পের আমদানি করা মালামাল খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণে জটিলতা এবং পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি’ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা এভাবেই উদ্বেগ জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহসভাপতি ফারুক হাসান, মোহাম্মদ নাছির প্রমুখ।
বিজিএমইএর নেতারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশের ক্রেতারা সময়মতো পোশাক পাবে না। আর প্রতিনিয়ত এমনটি হলে ক্রেতারা তাদের পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশ ভারত, ভিয়েতনাম, ইথিওপিয়া ও মিয়ানমারের মতো দেশে সরিয়ে নিতে পারে।
বিজিএমইএর সভাপতি চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান সংকট নিরসনে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আমরা যখন আপ্রাণ চেষ্টা করছি, তখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আমাদের সামনে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর সংকট।’ তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং পর্যাপ্ত জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ করার জন্য ২০০৪ সাল থেকে বিজিএমইএ জোরালোভাবে বলে আসছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী, সংসদীয় কমিটি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে আসছি। কিন্ত আমরা উন্নতি লক্ষ করছি না।’
(এম আর/এসএএম/ ০১ আগষ্ট, ২০১৭)