Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 25 Jul 2026 22:42
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: লিবিয়ান দিনার কিনে বেকায়দায় পড়া রাষ্ট্রয়াত্ত্ব তিন ব্যাংক কে ৩৯ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে সরকার। ব্যাংক তিনটি হলো সোনালী, অগ্রণী ও জনতা।

সরকারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ অর্থ দিয়েছে। তবে দিনারগুলো রয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে। এতে করে এসব মুদ্রার বিনিময় মূল্য পাওয়া নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর সূত্র জানায়, ২০১১ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা দেশে ফিরে আসেন। এ সময় লিবিয়ার মুদ্রা ডলারে পরিবর্তন না করে শ্রমিকেরা দিনার নিয়ে আসেন। বিমানবন্দরের কোনো ব্যাংক ও মানি চেঞ্জার দিনার গ্রহণ করতে রাজি না হওয়ায় বিপাকে পড়েন লিবিয়া ফেরত শ্রমিকেরা।

পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক অনানুষ্ঠানিকভাবে দিনার গ্রহণের জন্য তিন ব্যাংককে পরামর্শ দেয়। ওই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি নিজেই বিমানবন্দরে গিয়ে দিনার গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশে লিবিয়ান নগদ দিনারের কোনো চাহিদা না থাকায় পরে বেকায়দায় পড়ে ব্যাংকগুলো।

যেসব দেশের সঙ্গে বেশি যাতায়াত হয়, সাধারণত ওই দেশের মুদ্রার কিছুটা চাহিদা আছে বাংলাদেশে। এ ক্ষেত্রে ডলার, পাউন্ড, ভারতীয় রুপি, রিংগিত, থাই বাথ ও রিয়ালের ভালো চাহিদা আছে।

দিনারের কোনো চাহিদা না থাকায় বিপাকে পড়া ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে কোনো লিখিত নির্দেশনা না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক এর দায় না নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে।

গত বছরের ৩১ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংকগুলো কেনা দিনার বিদেশে বিক্রয়ের চেষ্টা করেও সফল হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক লিবিয়া দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও দেশটি মুদ্রার বিনিময়মূল্য প্রদানে অসম্মতি জানায়। আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয়যোগ্য না হওয়ায় ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ব্যাংকের কাছে থাকা দিনার বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। এ কারণে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেলে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের কাছে রয়েছে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৩০ দিনার, অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ২৬ লাখ ১২ হাজার ২৩ দিনার ও জনতা ব্যাংকের কাছে ২৫ লাখ ২৬ হাজার ৮০১ দিনার। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য ৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৯ কোটি টাকা প্রদানের জন্য সরকার কর্তৃক নীতিগত সম্মতি প্রদান করা হলো।

সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক এ অর্থ প্রদান করবে এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে দেওয়া মুনাফা থেকে সমন্বয় করতে পারবে। সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে এ ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

(এম আর / ১৬ আগষ্ট, ২০১৭)